ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

নেশাগ্রস্থদের স্বাভাবিক জীবনে নিয়ে আসতে হবে

গত পরশু লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার বাস স্ট্যান্ডস্থ মসজিদে যাচ্ছিলাম জুমার নামাজ আদায় করতে। হঠাৎ দেখলাম একজন বয়ষ্ক পয়তাল্লিশ বছরের লোক স্থীর একটি গাড়ির পাশে শুয়ে আছে এবং তার শরীরের ষাট শতাংশ গাড়ির ভিতরে ছিল। দূর হতে দেখে আমি ভাবছিলাম তিনি হয়তো মাটিতে শুয়ে গাড়ি ঠিক করছেন। কাছে গিয়ে দেখি তার বুকের উপর একটি বেঞ্চ। আমি বুঝলামনা। তার বুকের উপর বেঞ্চ হবে কেন?
চিন্তা করছি। মসজিদের দিকে গমনকৃত একজন যুবক আমার পাশে দাঁড়ালো। আমি লোকটিকে পরীক্ষা করতে লাগলাম তিনি বেঁচে না মরে গেছেন। তার মুখের মধ্যে প্রচুর লালা বেড়ে পড়ছে। বেঁচে আছে নিশ্চিত হয়ে আমার পাশের যুবকটি সহ তাকে শূন্য করে বর্তমান এ স্থানে শুইয়ে রাখলাম।

পাশের দোকানদার ও আরো কয়েকজন আমাকে বারন করলো এ লোকটিকে সহযোগিতা না করতে।

বললো এই ধৈরেন না ধৈরেন না (ধরবেনা)……

বল্লাম ক্যানো?

তাহারা বিজ্ঞের মত বললো, এ লোক নেশা খোর।

আমি বল্লাম তো?

“তো” বলে আমি ছুটলাম মসজিদের দিকে কারন নামাজ শুরুর সময় হয়ে গেল। জুমার নামাজ শেষ করে দ্রুত পায়ে আসলাম লোকটির দিকে। দেখলাম যেভাবে শুইয়ে রেখে গেলাম ঠিক সেভাবেই শুয়ে আছেন।
বিন্দুমাত্র নড়ছড় নেই। বোধ নেই! আশেপাশের মানুষগুলো চিড়িয়াখানায় বানর দেখার মত আমাকে দেখতে লাগলো। আমি তাদেরকে বললাম লোকটার খোঁজ জানেন তাহলে তার বাড়িতে জানাবো।
তারা বললো দরকার নেই। এ লোকটি প্রতিনিয়তই নেশা করে এমন অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকে। সে গাড়ির হেল্পার। রুজি যা-ই হয় তা দিয়ে নেশাতেই সে মাতোয়ারা। আমি কোন মাতালের পক্ষ না নিয়ে দোকানি বা অন্যদের বললাম এসব আমরা লোকটা ভালো হলে তাকে বলতে পারবো। এখন দরকার এ লোকটাকে সুস্থ করে তোলা তারপর সব হবে। না-না-না আপনি এখান হতে যান তো। নেশাখোরের জন্য এতো মায়া দেখানোর কিছু নেই!
আশ্চার্য হইনি দোকানদারের কথায়। কারন আমাদের দেশের সংস্কৃতিটা এখন এমনি হয়ে উঠেছে। আমরা মাইকে, কলামে, টকশোতে মানবতার কথা বলি অথচ আমাদের মানবতা মরে পচে শুকিয়ে শুটকি হয়ে গেছে।
অথচ একজন নেশা গ্রস্থের জন্য খুউব দরকার মায়া, মমতা ও মানবতা। তবেই তো সে মানুষ হবে। নেশা গ্রস্থ রবেনা। সমাজ পরিবর্তন হবে।

আসুন না আমরা আমাদের শুটকি মার্কা মনটা মেঘনার জলে ভিজিয়ে রেখে সজেত করে মানবতাময়ী হই। শুটকিময় হৃদয়কে বিদায় দেই আর নেশাগ্রস্থকে নয়, নেশা ঘৃণা করি।