ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

এই রিক্সা যাবা?
কই যাবেন?
ফুলার রোড..
যামু…
কত?
১২ টাকা..
কি বল মিয়া … এইখান থেকে এইখান ১২ টাকা? ১০ টাকায় যাবা কিনা বল?
উঠেন….

মোহাম্মদপুর থেকে রিক্সায় উঠলাম, উদ্দেশ্য মামার বাসায় যাব, আজকে ক্রিকেট খেলা আছে, জবরদোস্ত খেলা, পাকিস্তান বনাম ভারত, সবাই মিলে দেখব… পথে ২ টাকার চানাচুর (বড় ঠোঙ্গা ভর্তি) আর বাতাস খেতে খেতে আধা ঘন্টায় পৌছে গেলাম ইউনিভার্সিটি ফুলার রোড। কোনো জ্যাম নেই।

পৌঁছেই হই হুল্লোর করে খেলে দেখতে বসে গেলাম, শরীরে তখন প্রচুর এনার্জি।

উপরের ঘটনাটি ১৯৯২ সালের.. (এস.এস.সি পরিক্ষা শেষ)

🙂 🙂 🙂 🙂 🙂 🙂 :)…

নিচের ঘটনাটি ২০১২ সালের… (একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করি) —

অফিসের কাজ, তাড়াতাড়ি যেতে হবে মতিঝিল..
এই সি.এন .জি যাবা.. (কয়েকটা সি.এন .জি কে জিগেস করে শেষমেষ একটা রাজি হলো)
কই যাবেন?
মতিঝিল..
৩০০ টাকা..
কিছুক্ষণ দর কষাকষির পর ২৫০ দফা রফা হলো..
উঠে বসলাম, বহু জ্যাম ঠেলে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মতিঝিল পৌছাতে ২ ঘন্টা লাগলো…, ততক্ষণে ৪ টা বেজে গেছে, কাজ করার আর সময় নাই…,

অগ্যতা কাজটি অসমাপ্ত রেখেই একটা হোটেলে বসে দুপরের খাবার সারলাম, বিল আসলো ১৮০ টাকা !!

খুব ক্লান্ত, সি.এন.জি নেবার ইচ্ছা থাকলেও পকেটের অবস্তা ভালো না, তাই বাধ্য হয়ে বাসের টিকিট কিনলাম বাড়ি যাব বলে.. ৩০ মিনিট লাইনে দাড়িয়ে কোনমতে দাড়িয়ে দাড়িয়ে বাসায় (উত্তরা) পৌছাতে লাগলো পাক্কা তিন ঘন্টা। ততক্ষণে শরীরে শক্তি/এনার্জি বলে কোনো বস্তূর অস্তিত্ব নেই। খেয়েই শুয়ে পরতে হবে, পরের দিন অফিস…. অপেক্ষা করছে আরেকটি কঠিন দিন…

সময়ের পার্থকটা ২০ বছর, কিন্তু মনে হচ্ছে বয়স বেড়ে গেছে ৩০ বছর… আমাদের এটাই নিয়তি, এটাই বাস্তব, আর এটাই জীবন।

এখনো চেষ্টা করছি জীবন নামের এই ভাগ্যটা বদলাবার, কিন্তু পারছি না, কোনভাবেই পারছি না, কোনো উপায় ও খুঁজে পাছি না….