ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

শতাধিক দুই-পয়সার গার্মেন্টস কর্মী মারা গেছেন। আর আমরা মধ্যবিত্তরা ফেসবুকে-ব্লগে আহাজারি করে বুক ভাসাচ্ছি। বাহ্যিক মৃত্যু নিয়ে এতো আহাজারি করে কোনো লাভ আছে? শ্রমিকেরা কত বেতন পান? তাদের জীবনযাত্রার মান কেমন?

এখন রাত ১১টা । ঠিক এই সময়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে গার্মেন্টসের নারী শ্রমিকেরা বাসায় ফিরছেন। অফিস থেকে বাসায় ফেরার সময় প্রতিদিনই এ দৃশ্য দেখি। গাজীপুরের টঙ্গীতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিবাস দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। শুনেছি গার্মেন্টস নারী শ্রমিকের জন্ম দেওয়া রুগ্ন শিশুর ক্রন্দন। তিলে তিলে মারা যাওয়ার চাইতে অগ্নিদগ্ধে মৃত্যুই বা তাদের জন্য মন্দ কিসের? গার্মেন্টস মালিকদের ব্যপক মুনাফা আর কতিপয় রুগ্ন শিশু ছাড়া গার্মেন্টস শ্রমিকেরা কিই বা আমাদের উপহার দিচ্ছেন?

ফেসবুক-ব্লগে আহাজারিরত মধ্যবিত্তের প্রতি আমার পরামর্শ, আহাজারি না করে একটা উৎসব করুন। মৃত্যু নিয়ে বিশ্বের কোথাও উৎসব হয় না। আমরা কিন্তু উৎসব করতে পারি। কারন উৎসবের মধ্যেও একটা আনন্দ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু আপনাদের আহাজারি কোনো ফল বয়ে আনবে না।

আপনাদের এই আহাজারি-বিলাসের মধ্য দিয়ে কখনোই শ্রমিকদের মৃত্যু ঠেকানো যাবে না। যদিও আহাজারি করা ছাড়া আপনাদের আর কিছু করার ক্ষমতা নেই, কারন আপনারা আত্মিকভাবে মৃত।