ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

আমাদের সমাজের ৯৮ শতাংশই মডারেট মুসলিম। এরা সবাই সহনশীল। আশপাশের কেউ নাস্তিক বলে জানলে এদের কেও কেও স্বাভাবিকভাবেই নেয়। কেউ কেউ ঘৃণা প্রকাশ করেন। কিন্তু গায়ে হাত তোলেন না বা হত্যা চান না৷ হুমায়ূন আজাদ বা রাজীবের গায়ে এদের কেউই হাত তোলেননি।

গায়ে হাত তুলেছেন কারা??

হিসাবটা খুব সোজা। গায়ে হাত তোলেন তারাই, যারা ধর্ম বেঁচে খায়। অর্থাৎ ধর্ম দিয়ে যাদের পেট চলে। তাঁদের এক কথায় বলা যায় ধর্মজীবি৷ নাস্তিকতার প্রসার ঘটলেই ধর্মজীবিদের পেটে হাত পড়বে৷ এ বিষয়ে ধর্মজীবিরা বরাবরই ওয়াকিবহাল৷ লাল সালু মজিদেরা সব সময় পেট–সচেতন৷ তাই তারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে বা পেট বাঁচাতে অবিশ্বাসীদের গায়ে হাত তোলে। ধর্মের প্রতি দরদ থেকে নয়। ঈমান বা আমল থেকেও নয়৷ নিজেদের পেট বাঁচাতে বা ধর্ম দিয়ে যারা ব্যবসা করে খায় তারা তাদের ব্যবসায়ীক স্বার্থেই নাস্তিকদের হত্যা চান৷ অন্য ধর্ম থাকলে ক্ষতি নেই৷ নাস্তিক থাকলেই ক্ষতি৷ অতীতের পুরোহীতেরা বিজ্ঞানীদের পুড়িয়ে মেরেছে। বর্তমানেও ধর্মের সুবিধাবাদী গোষ্ঠীগুলো পরোকালের বেহেশতের লোভ আর টাকা পয়সা দিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাওকে ভাড়া করছে আঘাত করার জন্য। এদের ভণ্ডামি বোঝা যায় একটা ব্যাপার দেখলে, সেটা হলো এরা নিজেরা কখনোই জীবনের ঝুঁকি নেন না।

সাম্প্রদায়িক পরিচয় যখন মানুষের প্রধান হয়ে দাড়ায় তখন মানুষ আর মানুষ থাকে না।

জীবনধারনের জন্য ধর্ম পরিচয় অপরিহার্য বিষয় নয়। অপরিহার্য বিষয় তাদের জন্য যারা ধর্ম বেঁচে খায়।
বর্তমান ইহুদি জাতির মধ্যে তাদের ধর্মের প্রতি খুব যে দরদ আছে তা কিন্তু নয়। কিন্তু একত্র হওয়ার জন্য এবং দুনিয়াব্যাপী অনাসৃষ্টি করে নিজেরা ভালো থাকার জন্য ধর্ম পরিচয় তাদের দরকার। তাদের পরিচয় তারা ইহুদি জাতি। এটাকেও এক ধরনের ধর্ম বেঁচে খাওয়াই বলে।

যে কোনো ধরনের জাতীয়তাবাদও সন্ত্রাসিমূলক ধারণা। যেভাবেই হোক নিজেরা ভালো থাকাই—এর উদ্দেশ্যে, অন্যদের ক্ষতি করে হলেও । সাম্প্রদায়িক চেতনার মধ্যে যে কথাটি অর্ন্তনিহিত থাকে তা হলো, ‘নিজের সম্প্রদায়ের লোকেরা ভাই ভাই, বাকীরা ….দির ভাই’। (মডারেটরদের সম্মানার্থে…বসাইলাম, …স্থানে ‘চু’ বর্ণটি বসিয়ে নেওয়ার জন্য পাঠকদের আহবান জানাই)

বিশ্বের বড় বড় অশান্তির মূলে রয়েছে সাম্প্রদায়িক তথা জাতীয়তাবাদী চেতনা। ইতিহাস তাঁর সাক্ষী। ইহুদি নিয়ন্ত্রিত যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই ধর্মকে ব্যবহার করছে সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে। তালেবান নামক গোষ্ঠীটি তাদেরই সৃষ্টি। মুসলিমদের জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করে তারা তা মিডিয়ায় প্রচার করে। নিজ সম্প্রদায়ের লোকজনকে বুঝিয়ে মুসলিম দেশগুলোর তেল সম্পদ দখল করার জন্য আক্রমণ বৈধ করাই তাদের লক্ষ্য। যুগ যুগ ধরে ধর্ম, জাতীয়তাবাদ তথা সাম্প্রদায়িক চেতনাকে বিক্রি করছে সাম্রাজ্যবাদীরা। উপনিবেশিক আমলেও আমরা ব্রিটিশদের দেখেছি এদেশের ধর্মীয় বিভেদকে ব্যবহার করতে। আগে হিন্দু ব্রাহ্মণদের দেখেছি, ধর্মকে ব্যবহার করতে।

সম্প্রদায় যতদিন থাকবে ততদিনই সাম্প্রদায়িক স্বার্থ থাকবে। আর সাম্প্রদায়িক তথা জাতীয়তবাদী চেতনাকে বিক্রি করে ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকবে শক্তিশালী সম্প্রদায়গুলো। চলতে থাকবে নানাভাবে এবং নানা উদ্দেশ্যে এর ব্যবহার।

মানুষের মানবিক পরিচয়ই আসল পরিচয়। আর কোনো পরিচয় ‘মানুষের’ দরকার নেই। কিন্তু মানুষ কখনোই ‘মানুষ’ হয়ে উঠে নি। তাঁর পরিচয় ধর্ম, বর্ণ, গোত্র তথা জাতীয়তাবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এ পৃথিবীর রুপ-রস, সম্পদ গণমানুষের জন্য নয়। যে সম্প্রদায়ের শক্তি আছে শুধু তাদের।