ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

জাপানের মত রাষ্ট্র পুরো বিশ্বকে হুমকিগ্রস্ত করে ফেলেছে পারমাণবিক চুল্লি সামলাতে গিয়ে। আমাদের ব্যবস্থাপনায় পারমাণবিক চুল্লির কি দশা হতো আন্দাজ করা যায়। এতদিনে পৃথিবী লয় হতো নিশ্চিত। একটা সময় পারমাণবিক সংবাদ, সম্ভাবনা বিষয়ে মানুষের একটা রোমাঞ্চ ছিলো। মানুষের কথা বলছি কেনো, আমাদেরই ছিলো। স্কুলের শেষ দিকে পারমাণবিক যুদ্ধের মানে ৩য় বিশ্বযুদ্ধের ফোরকাস্ট করতাম। তারপরে গালফ ক্রাইসিসে বন্ধুরা তো ধরেই নিয়েছিলাম পারমানবিক তেজস্ক্রিয়তা থেকে এবার রক্ষা নাই। ১৯৯১ সালের সেই দিনগুলোতে উত্তাল ইরাকের গল্পের সাথে পারমাণবিক অস্ত্রের ভারিক্কি চালানের গুজব মিলেমিশে পাড়ার চায়ের দোকান সরগরম থাকতো। কিভাবে পারমাণবিক শক্তিকে কল্যাণার্থে ব্যবহার করা যায় – তার উদাহারণ আর মতামতে আমরা স্বপ্ন দেখতাম – হয়তো একদিন বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হবে, আমরা অস্ত্র না বানিয়ে আলোকিত করবো ভুবন, লোডশেডিং ঘুচে যাবে চিরতরে, নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে!

এখন মনে হচ্ছে পারমাণবিক চুল্লি পরিচালনার মতো দক্ষ প্রশাসন, জনশক্তি আমাদের গড়ে ওঠেনি। আশংকা করা যায় পার্শ্ববর্তী ভারত ও পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিয়েও। এই উপমহাদেশের তুলনায় জাপানের প্রযুক্তি দক্ষতা কয়েকশ গুণ বেশী হবে, তারপরেও লেজেগোবরে অবস্থা। ভূমিকম্পের সম্ভাব্য বিশাল ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের ঠিক মাঝখানে বাংলাদেশের অবস্থান। এ অবস্থায় কোনো পারমাণবিক চুল্লি ব্যতিরেকেই বাংলাদেশে হুমকির মুখে। শুধু বাংলাদেশ কেনো, উপমহাদেশের কয়েকশ কোটি মানুষই দাড়িয়ে আছি বিপদজনক চুল্লির পাশেই।

আমাদের জ্বালানী সংকট রয়েছে – কোনো সন্দেহ নাই। এর উত্তরণের জন্য পারমাণবিক শক্তি সবচেয়ে কার্যকরী হয়তো। কিন্তু এই ‘আনকন্ট্রোলেবল’ শক্তি নিয়ে তামাশা করা যায় না। যে মানুষের জন্য জ্বালানী সংকট দূরীভূত করার প্রচেষ্টা সেই মানুষকেই যদি পারমাণবিক চুল্লির জ্বালানী হতে হয় – তবে এমন শক্তি আমাদের দরকার নাই। দরকার নেই রোমাঞ্চকর পারমাণবিক শক্তিধর হয়ে ওঠার আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখার!

———————————————————————————————–
ফিচার ছবিঃ জাপানের নর্থ-ইর্স্টানে ফুকুশিমা পারমানবিক কেন্দ্রের কাছে গ্যাস মাস্ক পরিহিত পুলিশ অফিসাররা। সূত্রঃ এপি