ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

পদ্মা সেতু বানাতে বিদেশী ঋণ লাগবেই, বিদেশ থেকে ডলার এদেশে আসতেই হবে, যেহেতু এই বিশাল নির্মাণ প্রকল্পের অধিকাংশ খরচ চলে যাবে বিদেশী প্রকোশলী ও কনস্ট্রাকশন সামগ্রী আমদানী ব্যয় নির্বাহে যা ইউএস ডলারে প্রদান করতে হবে। নইলে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস যেমন শেয়ার ছেড়ে, জনগণের অর্থ সাহায্য থেকে সংগৃহিত অর্থ দিয়ে এই প্রকল্প তৈরী হলে দেশের ভেতরে অর্থ-সংকট তৈরী হবে, মুদ্রা স্ফীতি ঘটবে, জনগণ এক ভয়াবহ রকমের অর্থনৈতিক অভাবের শিকার হবে।

উপরের এই বক্তব্য/বয়ান/যুক্তির সারবত্তা কতটুকু আমি জানি না, তবে এটা এখন সরকার সমালোচকদের প্রধান ও একমাত্র পয়েন্ট। তবে আমার কোনভাবেই মনে হয় না, দেশের মানুষের কাছ থেকে যদি সাড়ে বাইশ হাজার কোটি টাকা এমনভাবে উত্তোলন করা হয় যা জনগণের জন্য বোঝাসরূপ হবে না, তবে সেই টাকা দিয়ে পদ্মা ব্রিজ তৈরী হলে – কেনো এত এতো সংকট তৈরী হবে?

স্বাভাবিক যুক্তি বলে, এই টাকায় পদ্মা সেতু তৈরী হলে দেশীয় প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, পরিবেশবিদ, শ্রমিক, আন্তর্জাতিক মানের দেশীয় নির্মাণ সামগ্রী উৎপাদনের ব্যবহারের পথ সুগম হবে। যাদের বেতন/শ্রমমূল্য/ক্রয়মূল্য বাবদ প্রদত্ত অর্থ এদেশেই থেকে যাবে। এর ফলে দেশেই তৈরী হবে বড় কোনো ব্রিজ তৈরী করার মত প্রকৌশল, সংস্থা, অভিজ্ঞতা যা বরঞ্চ অন্য দেশের ব্রিজ তৈরীতে কারিগরী সহায়তা প্রদান করতে পারবে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থ না হলে যারা মনে করেন পদ্মা ব্রিজ তৈরী করা সম্ভব হবে না, তারা যদি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থ উৎসের অনিশ্চয়তা মাথায় রেখে বলে থাকেন, তবে তাদের নৈরাশ্যবাদী বলা যায়। নইলে তারা স্রেফ বিশ্ব ব্যাংকের দালাল, পয়সা খাওয়া অর্থনীতিবিদ, বিদেশী চর – দুর্নীতিগ্রস্থ।

পদ্মা সেতু তৈরী করার জন্য অর্থ সংগ্রহের প্রচেষ্টা এখন হাতে নেয়া হলে এক বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় ফান্ড তৈরী হয়ে যাবে নিশ্চিত। কেবল এজন্য আরেকবার যুদ্ধ করতে হবে। এবারের যুদ্ধ হবে আত্মসম্মানের সাথে দাঁড়াবার যুদ্ধ, এবারের যুদ্ধ হবে বিশ্বব্যাংক সহ সমস্ত পশ্চিমাদের কষে লাথি মারার যুদ্ধ – যাদের সংবাদ ও বক্তব্য জুড়ে কেবল থাকে বাংলাদেশের প্রতি থকথকে ঘৃনা।

এই যুদ্ধ শুরু করতে হবে প্রধানমন্ত্রীকেই। তিনি নিজেই বলেছেন,

তারা (বিশ্বব্যাংক) আমাদের গিনিপিগ করে রাখতে চায়। দুর্বল করে রাখতে চায়। তারা চায় আমরা যেন সারাক্ষণ হাত পেতে থাকি। আমরা তাদের কাছ থেকে ঋণ নেই, সেই ঋণ সুদে-আসলে ফেরত দিয়ে থাকি, ভিক্ষা নেই না। তাদের প্রেসক্রিপশনে আদমজী পাটকল বন্ধ করে পাট শিল্পকে ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের পরামর্শে চলতে গিয়ে আমাদের রেল প্রায় মৃত। বিআরটিসি বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছিল, টিসিবি বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছিল। এই সবই এসেছিলো এক জায়গা থেকে। তাদের পরামর্শে শিল্প প্রতিষ্ঠান ঢালাও বেসরকারিকরণ করা হয়েছিল। তাদের প্রেসক্রিপশন ধ্বংসাত্মক। তাদের লক্ষ্যই হল- আমাদের গরিব করে রাখা। বিশ্ব ব্যাংক তো একটা ব্যাংক। বিশ্ব ব্যাংকে অডিট হয় কি না? তাদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা দরকার। যেহেতু এটি ব্যাংক, তাদের অডিট হতে হবে। আমরাও বিশ্ব ব্যাংকের অংশীদার। বিশ্ব ব্যাংকের হিসাব-নিকাশ পাওয়ার অধিকার আছে। বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে হবে। এটা আমাদের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী জানেন সোশ্যাল মিডিয়া বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে হাজারগুণ। রাজনৈতিক দলের রাজপথে লড়াকু সৈনিকের যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তার তুলনায় এখন সংখ্যায় অনেক বেশী মানুষ সচেতন ফেসবুক ও ব্লগে। এসবে প্রকাশিত প্রতিদিনের ব্লগ, মন্তব্য দেখলে বোঝা যায় প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য যেনো আমাদের ভিখেরি, হাত-পাতা জাতি থেকে এক লহমে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার শক্তি জুগিয়েছে। টনিকের মত কাজ করেছে। ইয়েস, আমরা তো পারি -ই! রাজনীতির সক্রিয় কর্মী ছাড়াও লাখো লাখো মানুষ পাওয়া যাবে এদেশে যে প্রধানমন্ত্রীর এমন দৃঢ় বক্তব্যর পরে যা জনগণকে ফিরিয়ে দেয় আত্ম মর্যাদা – সেটা ধরে রাখতে জীবন বাজি রাখতে প্রস্তুত, এমন একটা মাত্র দৃষ্টান্ত এদেশের জাতিসত্ত্বার সকল ধারণা ও উন্নয়ন দর্শনকে পাল্টে দেবে চিরতরের মত।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ব্লগাররা বন্যাদুর্গত মানুষদের জন্য যে টাকা তুলেছিলো – তার মধ্য থেকে সাড়ে বাইশ হাজার টাকা রয়ে গেছে এখনও। এই সাড়ে বাইশ হাজার টাকাকে সাড়ে বাইশ হাজার কোটি টাকায় পরিণত করতে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার শক্তিকে ব্যবহারের আহবান জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। আপনি নিজে ব্লগে, ফেসবুকে এসে একবার আহবান জানান, আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না – এদেশের মানুষ কি অপূর্ব আয়োজনে নিমিষেই সংগ্রহ করে দেবে পদ্মা ব্রিজের অর্থ।

ব্লগ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে যাবে আপনার আহবান, আপনার মিথস্ক্রিয়া যা আমাদের গর্বিত করবে, যা আমাদের অনুপ্রাণিত করবে, যা আমাদের রাজনৈতিক চেতনাকে ঋদ্ধ করবে। প্রযুক্তির এই নতুন ও শক্তিশালী যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে আপনি সহজেই পৌঁছে যাবেন জনগণের কাছে –যা এতদিনের কোনো মিডিয়ার মাধ্যমে সম্ভব হয়নি এতকাল।

‘প্রধানমন্ত্রীর পদ্মা সেতু ফান্ড’ নামের সরকারী একটা ব্যাংকে একাউন্ট ওপেন করে জানিয়ে দিন আমাদের, আমরা পৌঁছে দেবো মানুষের দ্বারের দ্বারে। ‘প্রধানমন্ত্রীর পদ্মা সেতু ফান্ড’ নামে একটা ডাইনামিক ওয়েব ডেটাবেজে সকল অর্থ সাহায্যের ইনফো-গ্রাফিকাল প্রদর্শনী হবে ওয়েব জুড়ে – মানুষ একবার দেখুক, কিভাবে আমরা আমাদের নিজেদের দুর্বলতা নিজেরাই দূর করতে পারি বিদেশী কোনো মাথা নত করা প্রেসক্রিপশন ছাড়াই! কত স্বচ্ছতায় আমরা আমাদের পদ্মা সেতু ফান্ড তৈরী করে ফেলতে পারি, কোনো ভিক্ষা ছাড়াই।

একবার এই উদ্যোগটই নিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতি হিসাবে পুরো বাংলাদেশের খোলনলচে পালটে দেবার ঐতিহাসিক মুহুর্ত আপনার হাতের মুঠোয়, যেমন আপনার হাতের মুঠোয় রয়েছে এ যাবতকালের সবচেয়ে শক্তিশালী যোগাযোগ মিডিয়াও – যার মাধ্যমে আপনি যুক্ত হয়ে পড়তে পারেন সোশ্যাল মিডিয়ার বিস্তির্ণ মিথস্ক্রিয়ায় এবং বাংলাদেশকে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে নিয়ে যেতে পারেন অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায়।