ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

“Largest Facebook Group of Bangladesh” নামে একটা ফেসবুক গ্রুপে আমাকে এ্যাড করেছিলেন একজন বড় ভাই। আমি গ্রুপটিতে ঢুকে একটু গবেষণা করে বুঝতে পারলাম এটা একটা স্কাম গ্রুপ। ফেসবুকে স্কাম বলতে বোঝায় কৌশলে কোনো একটা উদ্দেশ্যের কথা বলে এমন একটা গ্রুপে/পেইজে মেম্বার করা যা আসলে সে গ্রুপ/পেজের উদ্যেশ্য নয়। এই গ্রুপটিতে সদস্য সংখ্যা বেশীরভাগই ফেক – যেমন ধারণা করা হয় ফেসবুকের অর্ধেক মেম্বারই ফেক – অর্থাৎ যাদের তৈরী করা হয়েছে কেবলমাত্র লাইক প্রদান বা মেম্বারশিপ অর্জনের জন্য। এর মাধ্যমে অনেক সত্যিকার উইজারও ঐ সব গ্রুপে আকর্ষিত হয়। একজন বা একাধিক ব্যক্তির এমন গ্রুপ রয়েছে কয়েকশ যাদের প্রত্যেকের কাছে ফেসবুকের আইডি আছে ৫ হাজার থেকে পনের/বিশ হাজার পর্যন্ত।

আলোচ্য গ্রুপটিও তেমন। আমি সাথে সাথে গ্রুপ পরিত্যাগ করেছি। কিন্তু ফেসবুকের এই স্ক্যাম গ্রুপটি ইতোমধ্যে বিশেষ প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সাধণ করেছে – যার ফলে তারা গ্রুপ ছেড়ে যাওয়া ব্যক্তিদেরও নোটিফিকেশন পাঠাতে সমর্থ হয়। এবং আমি এখনও নোটিফিকেশন পেয়ে যাচ্ছি – ঐ গ্রুপে কোনো এ্যাক্টিভিটির। কিভাবে স্ক্যাম গ্রুপ শনাক্ত করবেন এবং স্ক্যাম ইউজার – সেটা একটা প্রফেশনাল স্কিলের বিষয়।

গ্রুপ লিভ করলেও নোটিফিকেশন পাঠানো সম্ভব। ফেসবুক ইউজার সংখ্যার উপরে নির্ভর করে বিভিন্ন গ্রুপ বা পেজকে বিভিন্ন রকম সুবিধা দেয়। যার কিছু কিছু কারিগরী সুবিধাও। এই সুবিধা ব্যবহার করে কিছু কিছু প্রোগ্রামার তার গ্রুপের ইউজার সেটিং পরিবর্তন করতে পারে এবং যারা তাদের মেম্বার একবার হয় তাদের সবাইকে গ্রুপ ছাড়ার পরেও গ্রুপের মেম্বার হিসাবে দেখাতে সমর্থ হয়।

ফলে ফেসবুকের ব্যবহারকারীদের অসহায়ের মত হাত কামড়ানো ছাড়া কোনো উপায় নেই। এমন গ্রুপের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা যায় – কিন্তু সেজন্য হাজার হাজার ইউজারকে রিপোর্ট করতে হবে এবং তারপরে অসহায়ের মত ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দিকে অনন্তকাল তাকিয়ে থাকতে হবে। কারণ রাজনৈতিক কোনো প্রেশার ছাড়া ফেসবুক তাদের মডারেশন কিউ ছেড়ে আসে না আর যে কিউতে এ সমস্ত রিপোর্টের থাকতে হয় মাসের পরে মাস। একসময় এটা বছরের পরে বছরে গিয়ে পৌঁছাবে।