ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

index

মাছরাঙ্গা চ্যানেলে জলিলের প্রথম ছবি ‘খোঁজ’ দেখাচ্ছিল। ছবিটাতে যখনই অনন্তর দৃশ্য আসছিল – কেমন যেন শরীরের মধ্যে নানা রকম ব্যাথা শুরু হচ্ছিলো। জলিল সম্পর্কে আমার পূর্ব থেকে নির্মিত কোনো নেতিবাচক ধারণা ছিলো না। তারপরেও মনে হচ্ছিলো প্রেসার বেড়ে যাচ্ছে, পেটের মধ্যে গুরুম গুরুম শব্দ হচ্ছে। মাংসপেশীর মধ্যে ব্যাথা। আক্ষরিক অর্থেই এরকম হচ্ছিলো। ছবিতে ভালো ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে বলে ছবি চকচকা, সিনেমাটোগ্রাফি দৃষ্টিনন্দন। কিন্তু জলিল যখন দৃশ্যে আসেন তখন তার অভিনয় পুরো বিকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিনয়ের মধ্যে তো নানান ভাষা আসতে পারে, কোনো ক্যারেক্টার নন-কোলকোতাইয়ান বা কোলকাতাইয়ান ভাষার বাংলাদেশী ভার্সনের বিপরীতে কথা বলবে – এটাই স্বাভাবিক (স এর তলে ব দেয়া যাচ্ছে না), এবং বাংলাদেশের বেশীরভাগ ছবিতে এই নন-কোলকাতাইয়ান ভাষায় বেশীরভাগ ক্যারেক্টার কথাও বলে – সেজন্য জলিলের ভাষা নিয়ে আমার তেমন চিন্তা হয় নাই। কিন্তু প্রতিটা দৃশ্যে জলিল যেরকম অভিনয় করছিলেন তা দেখে আমার শরীরের মধ্যে ব্যাপক বিরক্তি উৎপাদন হচ্ছিলো এবং যার ফলে মনে হচ্ছিলো এর চাইতে সোহেল রানার থার্ডক্লাস অভিনয়ও অনেক সহনীয়, সাকিবের এক্সপ্রেশন তুলনাবিহীন, এফডিসির ছবি রীতিমত অপূর্ব। এছাড়া ছবির গল্প বা স্ক্রিপ্ট, ডায়লগও এফডিসির একটা একদশতম মানের ছবির চেয়েও নিকৃষ্ট ছিলো। যেসমস্ত এফডিসির অভিনয়শিল্পী অন্যান্য ছবিতে যেরকম অভিনয় করেন – এই ছবিতে তার চেয়ে আরো জঘন্য অভিনয় করেছেন।

আমার মনে হচ্ছিলো – এই ছবি এদেশের চলচ্চিত্র উন্নয়নে কোনো ভূমিকা তো রাখবেই না – বরঞ্চ বাংলাদেশের ছবিকে এফডিসির তুলনায় আরো কয়েক গ্রেড নিচে নিয়ে গেছে। এফডিসির ছবি মানুষকে ডাক্তারের কাছে যেতে বাধ্য করতো না, কিন্তু জলিলের অভিনয় দেখলে যে কেউ হার্টফেল করবে। একটা কুখাদ্য মুভিকে যতই ভালো ক্যামেরায় ধারণ করা হোক না কেনো এবং সেটা যত ভালো এডিটিং ও ইফেক্টে তৈরী করা হোক না কেনো – সেটা দেখলে ও দেখালে চলচ্চিত্রের মান উন্নয়নের বদলে ছবি নির্মাণ একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। যারা এত টাকায় ভালো মুভি বানাবার যোগ্যতা রাখেন তেমন একজন পরিচালক এইরকম একটা জলিলকে নায়ক বানাবেন না বলে এমন টাকা পাবেন না। আরা যার জলিলদের টাকায় মুভি বানাতে রাজি হবেন তারা ঐ জলিলায়িত হয়ে পড়বেন, জলিলতাড়িত পরামর্শে ছবির পরিচালকত্ব প্রকৃতপক্ষে জলিলদের প্রদান করে – নিজেরা দুটো ভোদকার বোতল নিয়ে ক্যামেরার পিছনে কুতকুত খেলতে বাধ্য হবেন।

তবে জলিলের অবশ্যই উন্নয়ন সম্ভব – তার ফিগার ও চেহারা নায়কোচিত আছে, অভিনয়টা কিছুদিন শিখে নিক না। তারপরে হয়তো হার্ট-এটাকের হাত থেকে মানুষ রেহাই পাবে। চলচ্চিত্রের উন্নয়নও হবে, সেটা জলিলের হাত ধরে হলে ক্ষতি কী!