ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস যদি জনগণ হয় তবে এই ৮৪ হাজার কোটি টাকার গ্যালাক্সি সম চুরির জন্য দায়ী জনগণই। স্যাটায়ার করে বলছি না, আই মিন ইট। শেয়ার ব্যবসার জুয়ায় বড় দাও মারার জন্য মুখিয়ে থাকতে দেখেছি খুব কাছের মানুষদের, আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধবদের। সারাজীবন আদর্শ গিরি ফলিয়ে শেয়ারে এসে অযাচিত উপার্জনের স্বপ্ন দেখেনি এমন কোনো ভালোমানুষকে পাওয়া যাবে না। মূলত তারা খুব ভালো করেই জানতো, মার্কেটের স্বাভাবিক ধারায় কত পার্সেন্ট প্রফিট কতদিনে হয় এবং সেটা নিয়ে খুব বেশী লাভের গুড় পাবার সম্ভাবনাও থাকে না। কিন্তু তারপরেও আপাত নিরীহ, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এক অসম্ভব মার্কেট উল্লম্ফনের প্রত্যাশায় সংক্রামক পারসেপশন-ব্যাধি তৈরী করেছিলো – যার ফলেই মূলত বাজার ধস। বস্তুত কেউ কেউ এদের অস্থির মার্কেট থেকে ভালো একটা দাও মারতে পারলেও বেশিরভাগই সড়কে গড়াগড়ি দিয়ে অত্যাচারিত হবার একটা ভাবের প্রদর্শনী চালাচ্ছে।

আমার দেখা মতে, ইনক্লুডিং মাইসেলফ, দুর্নীতিপরায়ন মানস সংখ্যাগরিষ্ঠের। বাচ্চার স্কুলে ভর্তি থেকে শুরু করে পুত্রের চাকুরী পাইয়ে দিতে আমরা ঘুস দিতে কুণ্ঠা বোধ করি না। সবচেয়ে বড় কথা এসবকে দুর্নীতিও মনে করি না। যে-দেশের মানুষ দুর্নীতিকে আত্মীকরণ করে ফেলে, তাদের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলা শোভা পায় না। কোনো অধিকারও নেই।

৮৪ হাজার কোটি টাকা যারা চুরি করেছেন তাদের আমি স্যালুট জানাই। সুযোগ পেলে আমিও করতাম। চোরের দেশে চুরিই ন্যায়ের, ন্যায্যতার। যারা এই বিশাল ভাগবাটোয়ারায় শামিল হতে পারে নাই – তারাই এখন যুধিষ্ঠির সাজতে চেষ্টারত। সবই ভণ্ডামী।