ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 
images

 

২০১৩ সালের ১৫-ই ফেব্রুয়ারি। রাত তখন কয়টা হবে এই ৯টা বা তারচেয়ে একটু বেশী। শাহবাগে একটা উত্তেজনা দেখলাম…ফাঁসির দাবীতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের টানা অবস্থান শেষ হবার ঘোষণা হতে পারে আর এজন্য বিভিন্ন পকেটে বিক্ষুব্ধ আলাপ। শুনলাম এমনও যদি টানা অবস্থান প্রত্যাহার করা হয় তাহলে কেউ কেউ প্রতিবাদ করবে। ইতস্তত ঘুরছি এমন সময় ঘোষণাও হয়ে গেলো। টানা অবস্থান চেঞ্জ করে সম্ভবত ৯টা ৩টা বা এমন একটা সময়ক্ষণ বেধে দেয়া হলো প্রতিবাদের। সাথে সাথে দেখলাম মূলমঞ্চ থেকে একটা মিছিল বের হলো। ৯-৩ টা মানি না, মানবো না এমন জাতিয় স্লোগান দিয়ে তারা মঞ্চ থেকে শুরু করে পাবলিক লাইব্রেরী ঘুরে কয়েক রাউন্ড মিছিল করলো। এর মধ্যে শাহবাগে সাইবার যুদ্ধ একটা পোল চালু করেছে ফেসুবকে – প্রজেক্টর স্ক্রিনে সেটা দেখছিলাম। তাদের বক্তব্যটা ছিলো এমন, যারা এই ঘোষণার পক্ষে তারা ১ লিখুন, যারা এর বিপক্ষে তারা ২ লিখুন। কমেন্ট ২শ ক্রস করা পর্যন্ত আমি সেখানে ছিলাম…যার মধ্যে একটাও ১ চোখে পড়ে নি।

ঠিক তখনই একটা নিউজ শুনলাম…একজন ব্লগারকে নাকি খুন করেছে। শুনে কেমন যেনো এক শীতল ভয়ের স্রোত পিঠ বেয়ে নেমে গেলো। যারা মিছিল করছিলো তারা সাথে সাথে রাজীবের নাম নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেছে, মূল মঞ্চ থেকেও। এর কিছুক্ষণ পরে টানা অবস্থান আন্দোলনের সিদ্ধান্ত চেঞ্জ করার ঘোষণা শুনলাম।

প্রায় তখন রাত একটা বাজে। বেশ কয়েকবার বাসায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েও যেতে পারি নাই। সাথে কয়েকজন আছে যাদের বাসা দূরে এবং নানামুখী আক্রমনের উড়ো সংবাদে ভীত। একজন বললো মোহাম্মদপুরে নাকি শাহবাগ থেকে বাসায় ফেরার সময় একটা মেয়েকে আক্রমন করেছে শিবির। তখন অধিক রাত্রে ঢাকার রাস্তায় কোনো তরুণ-তরুণী দেখলেই নিশ্চিতভাবে ধরে নেয়া যেতো এরা সবাই শাহবাগ ফেরত। এসব কারণে আমার সাথে পোলাপান শাহবাগে থাকবে সিদ্ধান্ত নিলো। কিন্তু আমি ভয়ে ভয়ে বাসায় ফিরলাম।

রাজিবের মৃত্যু সংবাদ নিয়ে অসহায় অবস্থায় বাসায় ফিরে কমপিউটার খুলেই দেখলাম রাজিবকে নিয়ে ইতরামী শুরু করেছে একদল কুলাঙ্গার। একদিকে শোকার্ত আন্দোলনকারী আর অন্যদিকে যুদ্ধপরাধীদের দোসরদের বিজয়-উল্লাস।