ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

 

শিল্পকলা একাডেমীর সংগ্রহে বাংলাদেশের মাস্টার ব্লাস্টার সব শিল্পীদের অরিজিনাল ৮০০+ চিত্রশিল্প আছে যার প্রদর্শনী শেষ হবে আগামীকাল। তিনটা ফ্লোরে ৯টার উপরে বিশাল আন্তর্জাতিকমানের গ্যালারী যার প্রত্যেকটাতে ৩ থেকে ৬টার মত রুম জুড়ে প্রদর্শিত চিত্রগুলো দেখছেন দীর্ঘসময় ধরে কেবল সিকিউরিটি গার্ডেরা।

নিচ থেকে উপরে উঠতে উঠতে আপনি ৭০ থেকে সাম্প্রতিক কালের ছবির দিকে যাবেন, আধুনিক থেকে প্রায় উত্তরাধুনিক। সুলতানের সবল পেশীর অরিজিনাল পেন্টিং প্রায় সবগুলো আছে। এবং দেখে আপনার মনে হতে পারে ছবিগুলো যত্নে নাই, মানে গ্যালারীতে না, গ্যালারী শেষে যখন স্টোরে রাখে সেখানে। অনেক ক্যানভাস বেকে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের চিত্রশিল্প ও শিল্পকলা নিয়ে প্রায় ‘ওয়াও’ পর্যায়ের একটা অভিজ্ঞতা হলো। তেলরঙের বেশ কিছু ছবি চোখে লেগে আছে। সাম্প্রতিক ছবিগুলোতে এত দৃষ্টিনন্দন রঙে জীবনের নানান অবয়ব উঠে এসেছে যে মনে হচ্ছিলো সিকিউরিটি গার্ডের মতই বলি, দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়েঁ না দেখলে ছবির টেস্টটা বোঝা যাবে না। বোঝাই যাচ্ছিলো দর্শক বিহীন গ্যালারীতে সে ছবি দেখে দেখে টকশোতে এটেন্ড করার যোগ্যতা অর্জন করেছে।

পেন্টিং এর প্রশংসা করতে জানি না তা নয়। যা ভালো লাগে তার মধ্যে নিজের একটা ব্যাখ্যা তৈরী করতে পারি। তবে চোখে যা ভালো লাগে সেটার সাথে বাথরুম-সাইন পার্থক্য করার বিদ্যা না থাকলেও এসব ছবি যে আমাদের জাতিয় সম্পদ এবং একটা ভূখন্ডের শিল্পচর্চার ইতিহাস নিবিড়ভাবে তুলে ধরে সেটুকু বুঝতে পারি। অথচ এমন একটা প্রদর্শনী কেউ জানে না, কোনো প্রচারণা নাই – এবং একপ্রকার বিনা দর্শকে শেষ হয়ে গেলো!