ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

 

নাহিদ আপা যতক্ষণ রাস্তায় থাকেন ফোনে কথা বলেন। এক ফোন চার্জ হারালে, অন্য একটা ধরেন। ময়লা আবর্জনায় ধুকছে শহর। মেয়র বলে কোন পদার্থ আছে কিনা সন্দেহ হয়। খোলা ট্রাকে উড়ন্ত ময়লা ভৈরবী ঘ্রাণ ছড়িয়ে ডিসপোজালে যায়। শহরের সব বড় ডাস্টবিন খোলা থাকে, সিমেন্টের ওয়াল দিয়ে বাঙ্কারের মত বানানো। শীতের সকালে সেখানে টাটকা শবজীর মত আবর্জনার চাষাবাদ হয় – খুবলে খাবলে ঘাটাঘাটি করে পথশিশুরা। কোনো ঝড়ের বাতাসে গাড়ির সামনে উড়ে এসে লটকে থাকে বাচ্চাদের ডায়পার, গ্লাসে ফোটে সোনালি কারুকাজ।

নাহিদ আপা এসব নিয়ে কথা বলেন ফোনে। কখনও ঝাঁঝালো কণ্ঠে। অপরপ্রান্তে নানান মানুষ। তাদের সংগঠন পরিবর্তন চাই এর লোকেরা, ফিদা ভাই, দিদার ভাইসহ অনেকে – স্পন্সররা – সেলিব্রিটিরা। যাদের নিয়ে তারা পালন করবেন দেশটাকে পরিষ্কার করি দিবস – ২০১৪ – ৩১শে ডিসেম্বরে। একই সাথে দেশের প্রায় অর্ধেক জেলা শহরে পালিত হবে। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রতিকী পরিষ্কার অভিযান করে তারা রাষ্ট্রের ও নাগরিকদের দায়িত্ববোধকে জাগ্রত করার চেষ্টা করবেন। বছর শেষ হবে – সাথে সাথে ধুয়ে মুছে সাফ করে দিতে চায় বছর ধরে জমতে থাকা সব আবর্জনাও।

1

[ছবিসূত্র: পরিবর্তন চাই]

নাহিদ আপার ড্রাইভার সব কথা শোনে। শুনতে শুনতে তার ভেতরে আবর্জনা বিরোধী সচেতনতা তৈরি হয়েছে। জ্যামে থাকা অবস্থায় পাশের কোনো গাড়ি থেকে কেউ জানালা খুলে বাইরে আবর্জনা ফেললে সে প্রথম প্রথম নাহিদ আপাকে দেখাতো। এখন সে নিজেই চেঁচিয়ে নিষেধ করতে থাকে। সেদিন একজন ডায়পার ফেললো রাস্তায় – কিছু বলতে গিয়ে দেখল গ্রিন সিগনাল, গাড়িটি পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। নাহিদ আপা তাকে উৎসাহ দিলো ফলো করতে। ড্রাইভার স্পিডে পাশ কাটিয়ে ঐ গাড়ির সামনে গিয়ে ব্রেক কষলো।

ঝট করে নাহিদ আপা গাড়ি থেকে নামলেন। শান্তভাবে হেঁটে গিয়ে দাঁড়ালেন গাড়িটির পেছনের উইন্ডোর পাশে। গাড়ির হতভম্ব যাত্রী গ্লাস নামিয়ে অবাক চোখে তাকিয়ে আছেন। নাহিদ আপা বললেন, ‘এভাবে ডায়পার যত্রতত্র ফেলা কি ঠিক হলো? শহরটাতো আমাদেরই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে নাকি?’

নাগরিকেরা এমন কারণে গাড়ি চেজিং এ অভ্যস্ত নয়। কী ভাবল কে জানে! কিন্তু নাহিদ আপার সেজন্য কিছু যায় আসে না। তিনি ও তার ড্রাইভার একটা অন্যরকম পরিতৃপ্তি নিয়ে ফিরে যান নিজেদের গাড়িতে। এতটুকুই বা ক’জন বলে?