ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

কালকে রাতে রিকশায় উঠতে গিয়ে সিটের পেছনের টিনে লেগে ডান হাতের কনে আঙুলের উপরের গিটের আরো একটু উপরে কেটে গেলো। অল্পটুকু। কিন্তু সেখান থেকে রক্ত বের হলো। নিয়ন আলোয় রক্তের রঙ পাল্টে কালো হয়ে গেছে। আর সেই কালো রক্ত দেখে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। আমার শরীরের সব রক্ত কিভাবে এমন ঘোরতর কালো হয়ে গেলো!

রক্ত মোছার কথা ভুলে আমি রক্তের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। বিভিন্ন দিকে হাত ঘুরিয়ে চশমা খুলে পরে হাত নাকের সামনে এনে রক্তের রঙ যে আসলে লাল সেটা আবিষ্কারের চেষ্টা করলাম। কিন্তু আমাকে হতাশ করে রক্ত নিয়ন আলোয় কালোই থেকে গেলো।

কনে আঙুল অল্প কেটে যাওয়ার পরে রাতের রাস্তায় আমি আবিষ্কার করলাম আলোর রঙের খেলা। স্বাভাবিক কোনো রঙ নেই কোনো আলোক-বাতির। রাস্তার লাইটগুলো হলুদ – নিয়নের – যার আলোতে চারিপাশের সব রঙ পাল্টে যায়। হলুদের পাশাপাশি অতিরিক্ত সাদা টিউবও আছে – যেটাও দৃশ্যপটের সব স্বাভাবিক রঙকে পাল্টে দেয়। মানুষের গায়ের কালার, পোশাকের রঙ, গাছপালার রঙ, ইত্যাদি পাল্টে যায়। এর বাইরে রাস্তার দুইপাশের দোকানগুলো থেকে বিচ্ছুরিত আলোও স্বাভাবিক কোনো লাইটের নয়। দোকানগুলোতে যে লাইট লাগানো হয় তাও সবকিছুর রঙকে হত্যা করে। এমনকি গাড়ির হেডলাইট এবং গাড়ির ভেতরের লাইটগুলোরও একই রঙ হত্যাকারী আগ্রাসন।

রাতের রাস্তায় কোনো স্বাভাবিক রঙ নেই। আলোময় চারিধার – কিন্তু সে আলোতে চেনা যায় না আমাদের পরিচিত রঙের বর্ণছটা। কেনো এই অস্বাভাবিকতার নির্মাণ? রাস্তার লাইট, দোকানের লাইট, গাড়ির লাইটগুলো কেনো আমাদের স্বাভাবিক রঙকে ফুটিয়ে তুলতে পারে না? রাতের জন্য কেনো আমাদের এই ভিন্ন রঙের খেলা?

মহানগরের রাত্র মানেই কি এমন অস্বাভাবিক রঙের প্রদর্শনী হতে হবে? ঘরের বাইরে, রাস্তাঘাটে আলোর এমন বিভ্রম আলো দূষণ ঘটাচ্ছে। এই দূষণকারী বাল্ম কেনো তৈরী হচ্ছে? আলোকে তার স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্যে রেখে কি রাস্তাঘাটের দোকানের বৈদ্যুতিক বাল্ব তৈরী করা সম্ভব না? কেনো আমরা আমাদের প্রাকৃতিক রঙকে এভাবে বিকৃত করছি?

অনতিবিলম্বে এইসব অপ্রয়োজনীয় ও বিকৃতিগ্রস্থ আলোক দূষণ বন্ধ করা হোক।