ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

রাতে বাসে ওঠার আগে ভালো করে দেখে নিতাম পর্যাপ্ত প্যাসেঞ্জার আছে কিনা। মোটামুটি দশ পনেরো জন থাকলেই নিশ্চিত হতাম যে এতগুলা নিশ্চয়ই ডাকাত হবে না। এমন বাসে অনেক উঠেছি রাতে। আমার মতো অনেকেই এই থিউরি ফলো করে। কিন্তু টেকনিকটা বোধহয় ডাকাতরা ধরে ফেলেছে। হাসান বিপুল ভাই রবিবার রাত দশটায় বাসে ২০/২৫ জনের মত প্যাসেঞ্জার দেখে নিরাপদ ভেবেই উঠেছিলো হয়তো। কিন্তু কে জানতো যে ঐ প্যাসেঞ্জারদের মধ্যে ১৫/২০ জনই ডাকাত! চিন্তা করা যায় একটা বাসের প্রায় ২০/২৫ জন প্যাসেঞ্জারের মধ্যে ১৫/২০ জনই ডাকাত! ডাকাতির জন্য কি বিশাল-আয়োজন, কি ব্যাপক জনসমাগম!

তারপর সেই বাসের ফ্লোরে ৫ জন প্যাসেঞ্জারকে শুইয়ে হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে পিটাতে পিটাতে বাসটা ঢাকা শহরের বিভিন্ন মহাসড়কে ঘুরেছে তিন/চার ঘণ্টা! সবার এটিম কার্ড নিয়ে বুথে গিয়ে ফোন করে করে পাসওয়ার্ড নিয়ে ট্রাই করেছে! কি ব্যাপক এবং পরিকল্পিত আয়োজন ডাকাতির!

বিপুল ভাই অনেক সচেতন মানুষ, চারদিকে খেয়াল রেখে চলেন – উপরন্তু সাংবাদিক, প্রযুক্তি পাতার সম্পাদক, তিনিও যখন এই ট্র্যাপে পড়েছেন তখন নিরাপদ আসলে কেউ না।

উত্তরা টু বনানী রাস্তায় পুলিশ কর্তৃক যাত্রী অপহরণ ও চাঁদাবাজির অনেক ঘটনা টিভিতে এসেছে। এমন ডাকাতির ঘটনাও প্রতি মাসে একটা/দুটো শোনা যায়। কিন্তু রাস্তাটা নিরাপদ করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখনও সাফল্য পায়নি। বিষয়টা মেনে নেয়া যায় না – কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

হাসান বিপুল ভাই আহত হলেও বেঁচে ফিরতে পেরেছেন – কিন্তু সবার কপালে যে সৌভাগ্য লেখা নাও থাকতে পারে! তাছাড়া, ঐ বাসে কোনো নারী যাত্রী ছিলো না…যদি থাকতো অবস্থা হয়তো আরো ভয়াবহ হতো! চলন্ত বাসে অতীতে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার দৃষ্টান্ত আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে।