ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

images
বিভিন্ন মোবাইল সেট বিক্রেতা, যেমন সামসং, ওয়াল্টন, মাইক্রোসফট এবং ইন্টারনেট প্রোভাইডিং কোম্পানি যেমন কিউবি, বাংলালায়ন, ইটিসি এবং আরো অনেক ডিভাইস বিক্রেতা মানি রিসিপ্ট হিসাবে কাগজের ব্যবহার করে থাকে। এর মধ্যে অনেকেই আছে যারা ক্ষুদ্র একটা মানি রিসিপ্টের জন্য একটা এ-ফোর কাগজ খরচ করে থাকে। অথচ এসব কোম্পানি ক্রেতার মোবাইল নম্বর ও ইমেইল এড্রেস বিক্রয়ের সময়ে কালেক্ট করে থাকে। ফলে সহজেই কাগজের বদলে তারা ইলেকট্রনিক উপায় মানি রিসিপ্ট প্রদান করতে পারে।

কাগজের ব্যবহার অনুৎসাহিত করা প্রয়োজন। কাগজ তৈরিতে বনজঙ্গল উজাড় হচ্ছে। অথচ প্রযুক্তির বড় সুবিধা হিসাবে আমরা কাগজের ব্যবহার কমানোর কথা বললেও এসমস্ত কোম্পানি প্রচুর কাগজ অযথাই খরচ করছে।

সরকার ই-গভর্নেন্সের দিকে এগুচ্ছে। সমস্ত সরকারি অফিসগুলোর মধ্যে ই-ফাইল শেয়ারিং এর ব্যবস্থা করছে। প্রকৃতপক্ষে বিগত বিএনপি সরকারের সময় থেকেই গ্রিন-অফিস স্লোগান চালু হয়েছিলো। তখনকার সরকার বৃক্ষরোপনের জন্য বেশ ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছিল। পরিবেশ দূষণকারী পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বেশ আশা জাগিয়েছিল। বর্তমান সরকার আরো এক ধাপ এগিয়ে সরকারি দপ্তরগুলোতে কাগজের বিকল্প মাধ্যম ব্যবহারের অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। সবুজ-পরিবেশ তৈরিতে এই সব প্রতিটা উদ্যোগের ভূমিকা অপরিসীম।

এভারনমেন্ট ফ্রেন্ডলি প্রযুক্তি নিয়ে সমস্ত বিশ্ব কাজ করছে। আগামি দিনের এনার্জির জন্য সোলার-প্লান্টের উপর নির্ভর করতে শুরু করেছে মানুষ। গ্রিন-প্লানেট স্লোগান নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের প্রোডাক্ট মার্কেটে নিয়ে আসছে এবং বিজ্ঞাপনে সেসব কথা বেশ ফলাও করে বলছে। এমন বাস্তবতায়ন মানি রিসিপ্ট/ভাউচার/বিল হিসাবে এইসমস্ত কোম্পানীর কাগজের ব্যবহার ভীষণ বেমানান এবং নিজেদের স্লোগানের সাথে সাংঘর্ষিক।

সকল কোম্পানি হয়তো পারবে না এ মুহূর্তে – তবে প্রযুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো যদি কাগজের মানি রিসিপ্ট দেয়ার বদলে মোবাইলে বা ইমেইলে রিসিপ্ট দেয়া শুরু করে কাগজের অনেকটা অপচয় রোধ করা সম্ভব। পৃথিবী থেকে সবুজ হারানো হয়তো আরেকটু প্রলম্বিত করা সম্ভব হবে।