ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

সিনেমা বা ভিডিওতে আমরা অ্যাকশন দৃশ্য দেখি। সেখানে নায়ক – ভিলেনের ফাইট থাকে। গোলাগুলি থাকে। মাথায়, বুকে, হাতে, পায়ে গুলি লেগে রক্ত বের হবার দৃশ্য থাকে। সিনেমার এমন দৃশ্যগুলো এত জীবন্তভাবে সাজানো হয়, অভিনয় করানো হয় যে আমরা সত্যিকারের মৃত্যু দৃশ্য দেখার মত ভয় পাই। ভিডিও দেখা শেষে আমরা মন্তব্য করি, একদম রিয়েলের মত..অথচ বেশীরভাগ দর্শকের রিয়েল দৃশ্য দেখার অভিজ্ঞতা নাই। সিনেমায় যেভাবে ভায়োলেন্স দেখানো হয় তার ছিটেফোঁটাও বেশীরভাগ মানুষ চোখের সামনে হয়তো ঘটতে দেখেনি। তারপরেও ভায়োলেন্স দেখে আমরা বিচার করতে পারি রক্তের রঙটা সঠিক ছিলো কী, অথবা গুলি খাবার পরে ব্যথা পাবার অনুভূতি কী অভিনেতাদের চেহারায় সঠিকভাবে ফুটে উঠেছে, অথবা এমন গুলির সামনে তার কী ঠিকমত কথা বলতে পারার কথা। ভিডিওতে মৃত্যুদৃশ্য মানে সাজানো – অভিনীত, এমন ধারণা আমাদের পূর্ব থেকে জানা থাকায় ভায়োলেন্সের আর্ট নিয়ে আমরা কথা বলতে পারি – উহাকে সভ্যতা ও শিল্পের অংশ মনে করি।

কিন্তু এখন সত্যিকারের মৃত্যুদৃশ্যের ভিডিও সহজপ্রাপ্য। প্রতিদিন আমরা এমন রিয়েল ফুটেজ টিভিতে দেখি ইউটিউবে দেখি। সিনেমার ভায়োলেন্সের সাথে এই র-ফুটেজের মধ্যে অনেক পার্থক্য। এতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ও ডায়লগ নাই, ফলে এর চিত্র ঠিক সিনেমার মত পরিস্ফুট না। তবে রিয়েল বোঝার জন্য সেগুলোই বৈশিষ্ট্য। ফলে সিনেমার আর্টে রিয়েল হত্যাদৃশ্য বোঝানোর জন্য এই র-ফুটেজ বৈশিষ্ট্যগুলো ফিল্ম ডাইরেক্টররা গ্রহণ করতে শুরু করেছেন। অনেক ফিল্ম ও ডকুমেন্টারি তৈরি হয় এখন আনাড়ি হাতে ভুক্তভোগীর বা আই-উইটনেসের মোবাইল বা অ্যামেচার ক্যামেরায় তোলা ভিডিওর মত করে – কখনও আসল ঘটনার সত্যতা বজায় রাখার জন্য, দর্শক ও বিচার ব্যবস্থায় সঠিক তথ্য দেবার প্রয়োজনে। ফলে রিয়েল ফুটেজ – র কিলিং ভিডিওগুলোও এখন আর্টের একটা ক্যাটাগরি।

যে দর্শক ভিডিওর ভায়োলেন্স দেখে – সে এখন সিনেমার আর র-ফুটেজের ভায়োলন্স দেখে এবং এর প্রতিক্রিয়া তার আর সত্যিকারের ভায়োলেন্স দেখার মত হয় না। সে এটা নিয়ে শৈল্পিক হিউমার করতে পারে, শিল্প সমালোচনা করতে পারে। যেমন – ১৩ তারিখ সন্ধ্যার প্যারিস হত্যাকাণ্ডের একটা ইউটিউব র-ফুটেজে একজন দর্শকের মন্তব্য ছিলো – ওয়াও, দ্যাটস ড্রামাটিক। পুরো মন্তব্যটি হলো –

Wow. That’s dramatic. My favorite part is at the end when the dead body is moving around playing with their phone or device. The people hanging on the building standing on latter rungs was a nice touch. I love how people run one direction then decide to turn around and go back past where they just come from. Brave. Or stupid.