ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

মা, তুমি কক্সবাজার চলে এসেছ। একবার চোখ মেলে তাকিয়ে দেখো তোমার প্রিয় কক্সবাজার। আমার কথা যেন বুঝতে পারছিল ও। গুলিতে তার ডান চোখটা বেরিয়ে গিয়েছিল। আমার চিৎকার শুনে সে বাঁ চোখ দিয়ে তাকাল। তখন যেন সারা দুনিয়াকে দেখে নিয়েছিল ওই একটি চোখেই, এক তাকানোতেই। শেষ পর্যন্ত চোখ খোলা রেখেই আমাদের সবাইকে বিদায় জানিয়ে চলে যায় আমার প্রিয় সন্তান। আমার হৃদয়ের টুকরো।’

এই কথা যিনি বলছেন তার নাম মো. জহিরুল হক তরুণ। গত ৩০ জুন কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকা দিয়ে মাইক্রোবাসে যাচ্ছিলেন তাঁরা। হঠাৎ ডাকাতরা গুলি চালায়। একটি গুলি তরুণের বাঁহাত ভেদ করে তাঁর কোলে ঘুমিয়ে থাকা নুহার মাথায় আঘাত করে।

তরুনের বন্ধু মামুন জোয়ার্দার সামহোয়ারইনব্লগে জানাচ্ছেন:

গত ১ জুলাই, ২০১১ দিবাগত রাত তিনটার দিকে বাংলাদেশের এক প্রান্তে একটা ঘটনা ঘটেছে।……আমাদের বন্ধু জহিরুল হক, ঢাকা থেকে সপরিবারে কক্সবাজার যাচ্ছিল।চকোরিয়া উপজেলার খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া ঢালা এলাকায় একদল সশস্ত্র ডাকাত গাছের গুড়ি ফেলে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করে।ডাকাতরা সবাইকে মেরে ফেলতে পারে ভেবে ড্রাইভার গাড়ি না থামিয়ে কক্সবাজারের দিকে গাড়ি টান দেয়। ডাকাতরা পেছন থেকে গুলি ছুঁড়লে তা জহিরুলের বাহুতে লাগে। গুলিটা তার বাহু ভেদ করে বুকে ঘুমিয়ে থাকা তিন বছরের মেয়ে নুহার মাথায় বীদ্ধ হয়। বাবার হৃদপিন্ড বাঁচিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে আমাদের মেয়ে নুহা।

জহিরুল তার ফেসবুক পাতায় লিখেছে, ‘নুহা বলত- আমার আব্বু বেস্ট আব্বু, আমার আম্মু বেস্ট আম্মু; আর আমি আমার আব্বু আম্মুর বেস্ট নুহা। নিজের জীবন দিয়ে তার বাবাকে বাঁচিয়ে, সে যে আমার বেস্ট নুহা তা প্রমাণ করে গেল। মামনি, তুমি আমার বেস্ট নুহা, তুমি ঘুমিয়ে ছিলে আমার বুকের মঝে, এবং সারাজীবন ওখানেই থাকবে’।

মামুন জোয়ার্দারের সাথে আমরাও একমত, নুহা আজ শুধু জহিরুলের সন্তান নয়; নুহা আজ আমাদের সবার আদরের মেয়ে। আমাদের বেস্ট নুহা আমাদেরকে অকালে ছেড়ে চলে গেল। অথচ ‘বেস্ট’ বাবা মা হিসেবে আমরা তো পারিনি আমাদের বেস্ট মেয়েটির অকাল অগস্ত্যযাত্রার গতিরোধ করতে। এমনকি পারিনি অপরাধীদের সনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করতে।

নুহার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে এবং সকল নাগরিকের সামগ্রিক নিরাপত্তার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানব বন্ধন হবে জুলাই ১৯, ২০১১ তারিখে; বেলা ১১টা থেকে। সবাইকে অংশগ্রহণের আবেদন জানানো হচ্ছে।

বিভিন্ন ব্লগ ও মিডিয়াতে এ সংক্রান্ত পোস্ট:
১। ‌ছোট্ট সোনামনি নূহা আর কোনদিন বেড়ানোর জন্য বায়না ধরবে না …
২। নুহা’দের এমন অগোচর প্রস্থান: দায় এড়াতে কি পারি আমরা?
৩। নুহা,যে ফুল অকালেই ঝরে গেল
৪। বাঁচতে চাই; বাঁচাতে চাই
৫। হত্যাকারীদের শাস্তির দাবীতে একটা অনলাইন পিটিশন
৬। কালের কণ্ঠের আর্টিকেল – নূহার জন্য শোকগাঁথা – প্রতিবেদক ওমর ফারুক।