ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

একটা মেইল করে কেউ যদি আপনাকে লেখে, “তুই যদি আরেকটা পোস্ট লিখিস তোকে খুন করে ফেলবো”, অথবা চরম যৌন হয়রানিমূলক কোনো মন্তব্য করে – তবে আপনি কি করতে পারেন? মেইলটা বা মন্তব্যটা ডিলিট করে দেয়াই কি যথেষ্ট? রাস্তায়, কর্মস্থানে অথবা প্রতিদিন যেসব জায়গায় যান তার কোথাও যদি আপনি এমন কোনো আচরণের সম্মুখীন হন, সহ্য করবেন? পাশ কেটে চলে যাবেন?

যদি না যান, তবে ওয়েবে কেনো যাবেন? ওয়েবের কোনো নির্যাতন কি আপনাকে তাড়িত করে না? বিক্ষুব্ধ করে না? আপনি কি ওয়েবকে এখন নিজের জীবন থেকে পৃথক করতে পারেন?

যে ব্যক্তি ওয়েবের কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে আপনাকে চরমভাবে অবমাননা করা, যৌন নিপীড়ন এবং নির্যাতন করে তাকেও আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবী। অথচ বাংলাদেশে এমন নির্যাতনের শিকার মানুষেরা কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না। কোথায় জানাবে? কার কাছে জানাবে? কি আছে আইন? – এসবই অস্পষ্ট এবং অ-নির্মিত।

যেসমস্ত স্টেপগুলি অনুসরণ করা যেতো বা যে ব্যবস্থা থাকা উচিত ছিলো তা হলো:

১. কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেই কোনো একটা জায়গায় রিপোর্ট করা। সেই জায়গাটি একটা ভার্চুয়াল থানার মত হতে পারে। যাদের থাকবে হাইলি আইটি স্কিলড একটা প্রশাসনিক কাঠামো। একটা ইমেইল, ফোন নম্বর সহ সকল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগস্থাপন করার সুযোগ।

২. নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি মন্তব্য বা মেইলকে সংরক্ষণ করবেন, সেভ করবেন, স্ক্রিন শট রাখবেন।

৩. মন্তব্য বা মেইল প্রেরণকারীর যত আইটি ইনফো জানা সম্ভব সেটা সংগ্রহ করবেন যেমন তার নাম, ইমেইল এড্রেস, সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল, অতীত ইতিহাস, আইপি এড্রেস, নির্যাতকের সাথে সম্পর্কযুক্ত মানুষের নাম-ঠিকানা, সোশ্যাল মিডিয়া সংযোগ, অনলাইন আপলোড সহ যত বেশী তথ্য সংগ্রহ করা যায়।

৪. নির্যাতনের সংবাদ তার কাছের মানুষকে অবশ্যই প্রমাণসহ অবহিত করবেন। (এক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি সবসময়ই শেয়ার করার মত অবস্থায় থাকবেন তা নাও হতে পারে, কাজেই বিষয়টা ঐচ্ছিক ভাবতে হবে)।

৫. সংশ্লিষ্ট ওয়েব যেটা ব্যবহার করেছে নির্যাতক তার স্থানীয় প্রতিনিধিকে জানানো। (আন্তর্জাতিক সোশ্যাল মিডিয়ার দেশীয় অফিস সেক্ষেত্রে থাকতে হবে – এটাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। ইংরেজীতে অভিযোগ পাঠাতে হবে ভয়ে বেশিরভাগ অভিযোগ প্রেরিত হয় না)।

৬. ওয়েব ব্যবহারকারীদের কোনো ফোরাম বা কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ফোরামে অভিযোগকারী সম্বন্ধে ব্যবস্থা নেবার জন্য অনুরোধ করতে হবে। যারা একটা জুরি বোর্ড তৈরী করে তাৎক্ষণিকভাবে নির্যাতনের সত্যতা যাচাই করবে।

৭. সরকার নিয়ন্ত্রিত ভার্চুয়াল থানা তথ্য প্রমাণ ও তদন্তের ভিত্তিতে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা সহ ভার্চুয়াল নানাবিধ বিধিনিষেধ আরোপ করবেন।

আরো অনেক কিছু হতে পারে। এসবই বলার কারণ হলো আজকে এমন একটা চরম ঘটনা ঘটেছে। ব্লগোস্ফিয়ারে ‘জেনারেল” নামে একজন ব্লগার চরম নারী নির্যাতনমূলক একটা মন্তব্য করেছেন। তার আইপি 70.27.120.206, প্রেরিত ইমেইল abc@fuckkuirina.com, মন্তব্য করার সময় 2011/08/27 at 08:45 । এই তথ্য দিয়ে নানা ব্লগে পরিচিত ব্লগার জেনারেলের যোগসূত্র আবিষ্কার করা নাও যেতে পারে। তবে অভিযোগকারী উক্ত নামের একজন ব্লগার কর্তৃক এমন নির্যাতনের শিকার ইতোপূর্বে হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

এই নির্যাতনের প্রেক্ষিতে উপরোক্ত স্টেপগুলোর মধ্যে যা যা অনুসরণ করা যাচ্ছে তা হলো:

১. কোথায় রিপোর্ট করবে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি? আপনারা কি জানেন? আমি জানি না। (কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেই কোনো একটা জায়গায় রিপোর্ট করা। সেই জায়গাটি একটা ভার্চুয়াল থানার মত হতে পারে। যাদের থাকবে হাইলি আইটি স্কিলড একটা প্রশাসনিক কাঠামো। একটা ইমেইল, ফোন নম্বর সহ সকল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগস্থাপন করার সুযোগ। )

২. এটা হয়তো করা যাচ্ছে (নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি মন্তব্য বা মেইলকে সংরক্ষণ করবেন, সেভ করবেন, স্ক্রিন শট রাখবেন।)

৩. এটাও করা যাচ্ছে – (মন্তব্য বা মেইল প্রেরণকারীর যত আইটি ইনফো জানা সম্ভব সেটা সংগ্রহ করবেন যেমন তার নাম, ইমেইল এড্রেস, সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল, অতীত ইতিহাস, আইপি এড্রেস, নির্যাতকের সাথে সম্পর্কযুক্ত মানুষের নাম-ঠিকানা, সোশ্যাল মিডিয়া সংযোগ, অনলাইন আপলোড সহ যত বেশী তথ্য সংগ্রহ করা যায়।)

৪. নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি কাউকে জানাতে চাচ্ছেন না। (নির্যাতনের সংবাদ তার কাছের মানুষকে অবশ্যই প্রমাণসহ অবহিত করবেন। এক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি সবসময়ই শেয়ার করার মত অবস্থায় থাকবেন তা নাও হতে পারে, কাজেই বিষয়টা ঐচ্ছিক ভাবতে হবে)।

৫. সংশ্লিষ্ট ওয়েবকে তিনি জানিয়েছেন – যার ফলে এই লেখার জন্ম। এ ছাড়া আমাদের আর কী করার আছে? আমি জানি না। আপনাদের জানা আছে? (সংশ্লিষ্ট ওয়েব যেটা ব্যবহার করেছে নির্যাতক তার স্থানীয় প্রতিনিধিকে জানানো। আন্তর্জাতিক সোশ্যাল মিডিয়ার দেশীয় অফিস সেক্ষেত্রে থাকতে হবে – এটাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। ইংরেজীতে অভিযোগ পাঠাতে হবে ভয়ে বেশিরভাগ অভিযোগ প্রেরিত হয় না)।

৬. এরকম কোনো ব্যবস্থা আছে বলে আমার জানা নেই (ওয়েব ব্যবহারকারীদের কোনো ফোরাম বা কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ফোরামে অভিযোগকারী সম্বন্ধে ব্যবস্থা নেবার জন্য অনুরোধ করতে হবে। যারা একটা জুরি বোর্ড তৈরী করে তাৎক্ষণিকভাবে নির্যাতনের সত্যতা যাচাই করবে।)

৭. অনেক দূর কি বাত! (সরকার নিয়ন্ত্রিত ভার্চুয়াল থানা তথ্য প্রমাণ ও তদন্তের ভিত্তিতে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা সহ ভার্চুয়াল নানাবিধ বিধিনিষেধ আরোপ করবেন।)

দেখা যাচ্ছে উপরোক্ত সাতটা স্টেপের মধ্যে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি তার অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন, কিন্তু ১, ৬, ৭ নম্বর স্টেপ যা মূলত নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিকে বিচার পাবার অধিকার নিশ্চিত করবে – তা এখনও বাংলাদেশে তৈরী হয়নি।

আর কতদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে আমাদের? ডিজিটাল বাংলাদেশে যদি ডিজিটাল নির্যাতনকে নিয়ন্ত্রন না করা যায় তাহলে বিচার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ কিভাবে সম্পন্ন হবে?

_____________________________
আপনি অথবা আপনার পরিচিত কেউ যদি ওয়েবে কোনোরূপ নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদেরকে জানাতে পারেন নিম্নোক্ত উপায়ে:

ক. এবিউজ/নির্যাতনের সংবাদ পোস্ট করুন ফেসবুক গ্রুপে
খ. নির্যাতনের প্রমাণ সরূপ স্ক্রিনশট ও অভিযুক্তের নানাবিধ তথ্য ইমেইল করতে পারেন ‌এই ঠিকানায় bdabusereport@gmail.com ।
গ. এসএমএস করতে পারেন – ০১১৯১০৩৯৯৬৮ নম্বরে।

যেকোনো ধরণের হুমকি, যৌন নিপীড়ন, বর্ণ পরিচয়ের কারণে অবমাননা সহ যা যা আপনার কাছে নির্যাতন বলে মনে হয় – আমাদেরকে জানালে সেগুলির ভিত্তিতে একটা আর্কাইভ তৈরী করা হবে। অনলাইন নির্যাতন প্রতিরোধে যা তথ্য-ব্যাংক হিসাবে কাজ করবে। আপনার প্রেরিত সকল তথ্য সংরক্ষিত থাকবে এবং যদি আপনি সংবাদটি প্রকাশে অনিরাপদ বোধ করেন আমাদেরকে ছদ্ম নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করতে পারেন।