ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

মিশরের স্বৈরশাসক মোবারকের পতনের পরে ঈদ মোবারক বলা যাচ্ছে না। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে এখন ঈদ আবুলহোসেন সবচেয়ে প্রত্যাশিত সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। নাগরিক সমাজ চাচ্ছেন এই ঈদ হবে আবুল হোসেনের পদত্যাগের মহিমায় ভাস্বর।

যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন বেহাল সড়কের জন্য নানা সমস্যা দেখিয়েছেন। যেখানে বাংলাদেশের মত একটা রাষ্ট্রে স্বল্প আয়ের দরিদ্র একজন মানুষও জানেন সীমিত সম্পদের মধ্যে কিভাবে তার চাহিদা মেটাতে হয় এবং তার জন্য কত ধরণের পারিবারিক ও সামাজিক দিকগুলোকে সুচারু ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন করতে হয় সেখানে একটা মন্ত্রণালয় আরো অর্ধশতাধিক মন্ত্রণালয়ের সাথে যথোপযুক্ত কোঅর্ডিনেশনের মাধ্যমে কাজ করবে সেটাই স্বাভাবিক। একটা মন্ত্রণালয় পরিচালন কারী মন্ত্রী সেই বিশেষ গুন ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হবেন বলেই তিনি নিয়োগপ্রাপ্ত হন। অর্থমন্ত্রণালয় থেকে তিনি কিভাবে অর্থ ছাড় করবেন, তার কি কারিশমায় তিনি জনগণের দাবীকে সংসদে, মন্ত্রী পরিষদ সভা এবং প্রধানমন্ত্রীর গোচরীভূত করবেন সেটা তার প্রধান যোগ্যতা। তাকে কনভিনস করতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে, আদায় করে নিতে হবে অর্থ, তৈরী করতে হবে উৎস। তাকে কেউ এসে হাতে তুলে দিয়ে যাবে না। কেউ দিচ্ছে না বলে অজুহাত দেখাবারও সুযোগ নেই। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার পরে তার যোগ্যতার প্রমাণ দেখাতে হয়। তিনি যোগ্যতার কথা বলে নির্বাচিত হন, বাংলাদেশের প্রশাসন যেভাবে চলে সেটা খুব ভালোভাবে জেনেই তিনি নির্বাচনে অবতীর্ন হন। দলীয় প্রধান থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের সাথে তার সখ্যতার কারণে তিনি ক্ষমতাপ্রাপ্ত হন এবং সরকার পরিচালনার অংশীদার হন।

এইসব যোগ্যতার মাপকাঠিতে আবুল হোসেন কেবল একাই ব্যর্থ নন, পূর্ববর্তী যোগাযোগমন্ত্রীরাও ব্যর্থ। রাজনৈতিক অভিজ্ঞান এবং সরকার পরিচালনার জটিল সমীকরণ মাথায় রেখেই কাজ করতে সক্ষম এমন মন্ত্রী চাই। আবুল হোসেনের পদত্যাগ সেই মেসেজটাকে স্পষ্ট করতে পারে। এজন্যই তার পদত্যাগ এখন সময়ের একমাত্র দাবী। এর ফলে পরবর্তী যোগাযোগমন্ত্রী কি কাজ করবেন এবং সেটা কিভাবে করবেন তার একটা শক্তিশালী মেসেজও পৌঁছে যাবে। উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসবে দেশ। নইলে কোনদিন হয়তো এসব মন্ত্রীরা হয়তো বলে বসবেন – প্রধানমন্ত্রী আমাকে সড়ক মেরামত করতে দেয় নি, তিনি নিজে গিয়ে রাস্তায় দাড়িয়েছিলেন যেন আমাদের কন্ট্রাকটর কাজ না করতে পারে।

সবাইকে ঈদ আবুলহোসেন জানাই।