ক্যাটেগরিঃ সমালোচনা

 

গুড মনিং এর বাংলা করেছি আমরা শুভ প্রভাত হিসাবে। কিন্তু বাঙালি কি শুভ প্রভাত বা গুড মনিং প্রচলনের আগে সম্ভাষণের রীতিতে অভ্যস্ত ছিলো না? কি ছিলো আমাদের সম্ভাষণের ধরণ? নিশ্চিতভাবে বলা যায় সময়/ক্ষণ মেপে বা নির্দিষ্ট করে আমরা সম্ভাষণে অভ্যস্ত বা চর্চায় ছিলাম না। এই অঞ্চলে বরঞ্চ ছিলো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করে/সন্মান প্রদর্শন করে সম্ভাষণের পদ্ধতি/রীতি, আদাব বা সালাম দিয়ে যা বহুল প্রচলিত। বলার কারণ হলো শুভ প্রভাত নামক আচারে প্রকৃতপক্ষে গুড মর্নিং সংস্কৃতির বাজারজাত করে আমরা সভ্য হবার যে পেখম ধারণ করছি তা মূলত এক ধরণের কল্পিত ফানুস বৈকি অন্য কিছু নয়। আমাদের রীতি বা আচারে যে ঐতিহ্য ছিলো তার থেকে ভাষার আমদানীতে/অনুবাদে আমাদের সংস্কৃতি গড়ে ওঠার বা সংস্কৃতিকে জাতে তোলার যে প্রচেষ্টাকে আমরা সাধুবাদ জানাই – তা মূলত দৈন্যতার দিকে ধাবিত করে। আমাদের নিজস্ব সম্ভাষণের রীতি তুলনা করলে গুড মর্নিং এর চেয়ে অনেক বেশী সভ্য আচরণের পরিচয় বহন করে।

যা আমাদের জাতে তোলে সেই বৈদেশিক অভিধা/টাইটেলে আমরা গলিত হই। অথচ এসবই অন্য একটা জাতি/গোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতির বিস্তার বা প্রচারের উপকরণ মাত্র। যেভাবে আমাদের মনোবৈকল্য তৈরী হয় – আমাদের বিস্তার বা বেড়ে ওঠার অগ্রযাত্রাকে প্রকারন্তরে গ্রাস করে ফেলে। অর্থনৈতিক শ্রেণীর চরিত্রানুযায়ী আমরা অনুগামী ও প্রত্যাশী হই। এক ধরণের বিশ্বাস জন্মে যা কিছু পশ্চিমা, যা কিছু শ্বেতকায় – তাই ঔজ্জ্বল্যের, শুভ্রতার, সভ্যতার প্রতীক। ফলে আমাদের অস্থি-মজ্জায় ক্রমাগত ক্ষয়িত হতে থাকে উদ্ভাবনী, কোমড় সোজা করে দাঁড়াবার শক্তি, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে গলাটিপে মেরে তৃপ্ত হই অন্যের স্বীকৃতির। আমরা কি আমাদের স্বীকৃতিতে আস্থা রাখতে পারি না?

আমাদের মানুষের নিকট থেকে স্বীকৃতি অর্জনে আমাদের যত অসুবিধে। আমরা ছাড়া আমাদের স্বীকৃতি অন্য কেউ কিভাবে দিতে পারবে? আমাদেরকে চিনিয়ে দিতে হয় অন্যের অভিধায়, দূরাগত-অপরিচিতের আহ্বানে। যার সাথে আমাদের নাড়ির সম্পর্ক নেই, যা আমাদের সংস্কৃতিগত ও অর্থনৈতিক রাজনীতির সাথে দুস্তর ব্যবধানের তার আরোপিত ট্যাগিং আমাদেরকে অন্ধ করে।

ইউনূসের নোবেল প্রাপ্তি তাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যায় নি। একটা নোবেল এমন কোনো বিশেষত্ব তৈরী করে না – একমাত্র ধোয়াশে প্রহেলিকা ছাড়া। বিডিনিউজে প্রকাশিত আজকের সংবাদটিকে ইউনূসের পূর্বের ফান্ড হস্তান্তর সংক্রান্ত সংবাদের চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। আমারা আমাদের কষ্টি পাথরে দেখতে চাই ইউনূসের স্বীকৃতির মাজেজা।

ইউনূস হোক নোবেল পদককে পরিমাপের অস্ত্র। আমরা স্বীকৃতি দেবো কিনা নোবেল নামক পদকের রাজনীতিকে সেটা এখন আমরাই নির্ধারণ করতে পারি। নোবেলের হাত ধরে আমাদের জাতে তোলার দরকার নাই।