ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

পাবলিক ইউনিভার্সিটিসমূহ বাংলাদেশে শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ। দেশের আর্থসামাজিক অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সন্তানদের নর্থসাউথের মত পাঁচ তারকা বিশ্ববিদ্যালয় জোটে না। তাদের পড়তে হয় এসব পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে। একটা উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে শিক্ষাখাতে সরকারের সর্বোচ্চ বরাদ্দ থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। যা বাংলাদেশেও আছে।

গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র সংবিধানে ঝুলিয়ে দেশের শিক্ষামন্ত্রী একজন সোশ্যালিস্ট। অথচ অবাক বিস্ময়ে আমাদের দেখতে হলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কর্পোরেট কোম্পানীতে রূপান্তরের জঘন্য প্রচেষ্টা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা পড়লো যার প্রথম এক্সপেরিমেন্টাল খড়গের কোপে।

এমন হীন প্রচেষ্টা রুখে দিতে সোচ্চার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নেমেছে। সরকার মুখে শিক্ষানীতির বিস্তারিত উদারীকরণের গল্প শুনিয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীদের উপরে পুলিশি নির্যাতন চালালো। অথচ এই ঘটনার এমন পরিণতি হবার কথাই নয়। ছাত্রছাত্রীদের দাবী যে কেবল জগন্নাথ আর এর মুষ্টিমেয় শিক্ষার্থীদের নয়, সেটা অনুধাবনের মত ঠুটো জগন্নাথ সরকারের হবার কথা নয়। পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীদের পড়ার খরচ বৃদ্ধির সংবাদ দেশের অন্য সকল পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে দাবানলের মত জ্বলে ওঠার কথা।

শুধু তাই নয়, অভিভাবক ও শিক্ষক থেকে শুরু করে দেশের লাখো লাখো তরুণেরা যারা সদ্য পাশ করে বের হয়েছে, সবাই-ই ক্ষোভ প্রকাশ করবে – এটাই স্বাভাবিক।

সামাজিক নেটওয়ার্ক সাইট থেকে শুরু করে ব্লগোস্ফিয়ার সর্বত্রই মানুষের বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইন ব্লগার অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ এ নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংহতি প্রকাশ করে গতকাল ৩০শে সেপ্টেম্বর সমাবেশ করেছে। বাংলাদেশের ব্লগোস্ফিয়ার এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশী দ্রুততার সাথে সংবাদ ছড়িয়ে দেয় কোটি মানুষের কাছে। ব্লগ গবেষকদের মতে, পরোক্ষভাবে দেশের কমপক্ষে ১ কোটি মানুষ ওয়েবস্ফিয়ারের নানা সংবাদ ও প্রতিক্রিয়ার খবরাখবার পেয়ে থাকেন। ফলে ব্লগারদের এই সংহতি বেশ শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়ে থাকতে পারে প্রশাসনকে। এ বছরের শুরু থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার বিশ্বব্যাপী বিপ্লব-এ্যাক্টিভিজম সরকারকে এক ধরণের ভীতি প্রদান করে থাকবে। গতকাল অনলাইন অনলাইন ব্লগার অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপের অন্যতম সংগঠক আসিফ মহিউদ্দীনের বাসায় ডিবি পুলিশ খুঁজতে যায়, না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে তাকে থানায় রিপোর্ট করতে বলে। আজকে আসিফ মহিউদ্দীন তার বোনকে নিয়ে থানায় রিপোর্ট করলে, পুলিশ তাকে আটক করে। যারা কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ দেখানো হয়নি, তবে শোনা যাচ্ছে তার মোবাইল কল ট্রাক করা হয়েছে।

কয়েক মাস আগে বাংলা ব্লগোস্ফিয়ারের প্রথম কোনো গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছিলো। জনপ্রিয় ব্লগার দিনমজুর ওরফে অনুপম সৈকত শান্ত গ্রেফতার হয়েছিলেন। এবার ঘটলো দ্বিতীয় ঘটনাটি। আসিফ মহিউদ্দীন একজন জনপ্রিয় ব্লগার এবং অ্যাক্টিভিস্ট। মুক্তমনা, শক্তিশালী লেখক ও যুক্তিবাদী আসিফ ব্লগের সকল ক্যাম্পেইনে থাকেন অগ্রসর সৈনিক হিসাবে।

সরকারী আমলাতন্ত্র সম্ভবত বিকল্প মিডিয়ার শক্তি সম্পর্কে অনভিজ্ঞ। আসিফ মহিউদ্দীন মাত্র একটা নাম – তবে ভার্চুয়াল অঙ্গনে এখন লাখো আসিফ মহিউদ্দিন সরব হয়ে আছেন। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া এমন আটকের ঘটনা দেশের পুলিশী ব্যবস্থাপনার ঘৃণ্য চরিত্র উন্মোচিত করে।

আসিফ মহিউদ্দীনের মুক্তি এখন হোক প্রতিটা ব্লগারের একমাত্র দাবী।