ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, ব্লগালোচনা

 

সাইবার স্পেসে যে মানুষটি বিচরণ করে তার নিরাপত্তা প্রদানে আমরা কতটুকু সমর্থ? ব্যক্তিজীবনে – সড়কে, নগরে, গ্রামে আমাদের নিরাপত্তা যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ, সংশয়পূর্ণ – সেখানে সাইবারভূমিতে ব্যক্তির নিরাপত্তা প্রদানের প্রসঙ্গটি একেবারে নতুনতর, বাতুলতাসম।

তবে ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধের ধরণ ও প্রকৃতি স্পষ্টতর হতে থাকায় এর প্রতিরোধ-ব্যবস্থা নিয়ে ভাবনার সাথে সাথে বাক স্বাধীনতা রুদ্ধ করার বিষয়টি সর্বপ্রথম সংশয়পূর্ণ হয়ে পরে। কিভাবে সাইবার বিধি ও বাক স্বাধীনতার মত স্পর্শকাতর সম্পর্কের অবস্থানকে সিন্ক্রোনাইজ করা হবে। নি:সন্দেহে জটিলতম একটা কর্ম।

এসব বিষয়ে আলোচনা ও কৌশল নির্ধারণে ব্লগার তথা সাইবার স্পেসের অধিবাসীরাই যে প্রধান ভূমিকা পালন করবেন সেটা অনস্বীকার্য। দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি থেকে শুরু করে মোবাইলের কল্যাণে সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষরা এখন ক্রমবর্ধমান হারে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হয়ে পড়ছেন। যেভাবে এতে করে তারা তাদের বক্তব্যকে বাধাহীন তুলে ধরতে পারছেন তেমনভাবে এর অপব্যবহার করার সুযোগও উন্মোচিত হচ্ছে সাইবার ক্রিমিনালদের সামনে।

আগামীদিনের রাজনীতিবিদ সাইবার স্পেসের দক্ষ পরিচালক যেমন হবেন, তেমনি আগামীদিনের শ্রেষ্ঠ আউটলও সাইবার স্পেসের অভিজ্ঞ ব্যবহারকারী হবেন – এটা এখন বিশুদ্ধ অনুমিতি।

এসব বিষয়কে সামনে রেখেই ১৯শে ডিসেম্বরের ৩য় বাংলা ব্লগ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্বাচন করা হয়।

এ আয়োজনে ছিলেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, স্বনামে যার বিশিষ্ট পরিচিতি, তিনি উল্লেখ করেন, গণজাগরণ সাইবার স্পেসের শক্তিকে ভিন্নপথে চালিত হবার ঘটনা আরব বসন্তের পরপরই দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে উদাহরণসহ তিনি মিশর, তিউনিশিয়া ও লিবিয়ার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে মৌলবাদী সরকার এখন ক্ষমতায় আরোহন করতে যাচ্ছে।

বস্তুত সাইবারে গণজাগরণের এই প্রকৃতি হওয়াই স্বাভাবিক মনে করি। কারণ দ্রুত যোগাযোগ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবাদের কণ্ঠকে অপ্রতিরোধ্য করা গেলেও রাজনীতির কাঠামোগত প্রক্রিয়ায় সাইবার স্পেসের বাসিন্দারা সংগঠিত হতে পারেন না। এখানে মূলত একটা ঘটনা/দূর্ঘটনা মানুষের মানবীয় অনুভূতিকে এভাবে নাড়িয়ে দিতে সফল হয় যা রাজনীতিবিমুখ মানুষকেও প্রতিবাদের একটা শব্দ এবং সাইবার স্পেসের নিজস্ব পরিকাঠামোগত নানা বিক্ষোভ ধরণে সম্পৃক্ত হতে সহজেই অনুপ্রাণিত করতে পারে। এসব মানুষের বেশীরভাগ ননপার্টিজান, রাজনীতি-বিমুখ সচেতন অনুভূতি-প্রখর নাগরিক, যাদের মধ্যে বৃহৎ একটা অংশ প্রকৃতপক্ষে রাজনীতির মাঠে দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোগত চর্চার মধ্যে কোনো চেইন অব কমান্ড মেনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অবসর রাখেন না। এসব কারণে জাগরণের ফলাফল নির্ধারিত হয় আগে থেকে সংগঠিত কোনো রাজনৈতিক দলের তৎপরতায় – যে মাঠ দখল করে নেয়, সরবরাহ করে উপকরণ যার সাথে থাকে অর্থনীতির যোগান। এসব কারণে সাইবার জাগরণের পরবর্তী অবস্থা মোকাবেলা করার দিকে মনযোগী হবার জন্য অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম হয়তো তার বক্তব্যে ইংগিত দেন।

জনাব নজরুল ইসলাম খান, সরকারের এক্সেস টু ইনফরমেশন প্রকল্পের পরিচালক, সরকারের ব্লগিং আগ্রহ নিয়ে চমকপ্রদ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নাধীন কিছু কর্মসূচী তুলে ধরেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কম্পিউটারের ট্রাবলশ্যুটিং একটি দুরূহ কাজ। প্রযুক্তির সহজলভ্যতার জন্য কম্পিউটার এখন গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে আছে। কিন্তু নানাধরণের হার্ডওয়ার ও সফটওয়ার জনিত সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য যোগ্য ট্রাবলশুটার পাওয়া মুশকিল। তিনি এমন এক প্লাটফর্মের কথা জানালেন যার সূচনাতে ব্যবহারকারীদের এই প্রয়োজনটার দিকে নজর দেয়া হয়। উক্ত প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীরা তাদের সমস্যার কথা জানাতে শুরু করেন এবং যার সমাধান আসতে থাকে অন্যান্য ব্যবহারকারীদের মধ্য থেকেই যারা ট্রাবলশ্যুটিং এ পারদর্শী। এমন নির্দিষ্ট সমস্যার ধরণকে চিহ্নিত করে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ছড়িয়ে যায় প্ল্যাটফর্মের কার্যপরিধি। এখন সম্পৃক্ত আছেন সরকারী, বেসরকারী নানাধরণের মানুষ। ট্রাবলশ্যুটিং ছাড়াও এ প্ল্যাটফর্ম এখন নানান সামাজিক সমস্যা এবং সরকারী সেবার নানা অব্যবস্থা তুলে ধরতে শুরু করছে যা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌছে যাচ্ছে সহজতর উপায়ে।

নজরুল ইসলাম খান ব্লগিং ও প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে শিক্ষার দ্বার উন্মোচন করার জন্য বলেন। ‘এডুকেশন ফর আইসিটি’কে তিনি উচ্চতর বিদ্যার্থীদের জন্য মনে করেন, কিন্তু ‘আইসিটি ফর এডুকেশন’কে তিনি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য অপরিহার্য বলে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য শিক্ষকদের উপযোগী ব্লগসাইট যেখানে কারিকুলাম থেকে শুরু করে নানা বই ও পাঠদান পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকে – এমন উদ্যোগও পাইলট পর্যায়ে চালু হয়েছে। এ-প্রসঙ্গে নানা সেক্টরের জন্য উপযোগী ও প্রয়োজনীয় ব্লগ সাইট চালু করার জন্য উৎসাহ প্রদান করা আবশ্যক।

সরকারের এই প্ল্যাটফর্ম আপাতত উন্মুক্ত না হলেও তিনি এ্যাডভোকেসি করছেন যেনো সহসাই একে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

এসব পরিকল্পনা ও বাস্তবায়াধীন কর্মসূচী নি:সন্দেহে তৃণমূল পর্যায়ে ডিজিটালাইজেশনের শক্ত ভিত্তির সূচনা করেছে। তবে একই সাথে সাইবার পরিসরের বিশুদ্ধ ব্যবহার একধরণের অলীক ধারণা। সরকার সবসময়ই একে ব্যবহারোপযোগী নাও পেতে পারেন। বিশেষ করে যেখানে ‘পাবলিক সার্ভিস’ সবসময়ই সমালোচনার বিষয়বস্তু সেখানে তির্যক মন্তব্যকে কিভাবে সরকার গ্রহণ করবে তা একধরণের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। ক্ষুদ্র মন্তব্য প্রলয়ংকরী ঝড় তুলতে পারে, অথবা সরকারী কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতাকে স্পষ্ট করে তুলতে পারে। সব মিলে এই জটিল প্রক্রিয়াকে নিয়ে বিস্তারিত কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সুস্পষ্ট। বাংলাদেশের এ মুহূর্তে দেড় লাখ ব্লগার, বিশ লাখ ফেসবুক আর দুই কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংস্কৃতি, বিস্তৃতি, ট্রেন্ড বিশাল গবেষণার বিষয়বস্তু। এর প্রায়োগিক ধারণা এবং তার স্থানীয় প্রকৌশল ও কৌশল কি হবে তা কেবলমাত্র সরকারী পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের পক্ষে সম্ভব নয়। দীর্ঘকাল সাইবার যাপনকারী জনগণ ও এর বিশ্লেষক এবং একই সাথে সরকারী কর্মকর্তাদেরও সাইবারের সাথে ওতপ্রোতভাবে না জরিয়ে গেলে এর জটিল গতিশীলতাকে অনুধাবন করা একপ্রকারের অসম্ভব।

সাইবারে যেসমস্ত অপরাধের ধরণ এ পর্যন্ত চিহ্নিত করা সম্ভব সেসব প্রতিরোধ কিভাবে হবে, এবং কারা করবে – এসব প্রসঙ্গ এর মধ্যে বিশেষভাবে পৃথক করতে হবে। ব্যক্তির নিরাপত্তার জন্য সাইবার পুলিশ এখন বহির্বিশ্বের বাস্তবতা। আমাদের সমাজে সাইবার অপরাধ এর উদাহারণ টাটকা ও প্রতিদিনই নির্মিত হচ্ছে। এর সাথে বাক স্বাধীনতা ও একই সাথে সরকারের দমন-তোষণকেও অবশ্যম্ভাবী ধরে নিয়ে নিরাপত্তার প্রশ্নটি কেবল একমুখী নয়, এর সাথে অপব্যবহারের ঝুঁকিও পরিপূর্ণ বিদ্যমান। সেক্ষেত্রে কাঠামোগত প্রকৌশল যেভাবে সাইবার স্পেসকে একধরণের স্বাধীনতা দেয় – সে শক্তি অপকৌশলের বিরুদ্ধে সবসময়েই সোচ্চার ভূমিকায় অবতীর্ণ থাকবে।

বিশেষ করে যুদ্ধপরাধের দোসর ও জামাত-শিবির রাজাকার সহ মৌলবাদী চক্র অনলাইনের অবাধ স্বাধীনতার সুযোগে ইতিহাস বিকৃতির মহা আয়োজনে লিপ্ত। একাত্তরের যুদ্ধকালীন ঘটনা, তথ্য, উপাত্ত থেকে শুরু করে নানা প্রামানিক দলিল অনলাইনে বিকৃতি ঘটিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর ফলে অনলাইন কনটেন্ট হিসাবে এগুলোর অবস্থান ও দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ায় নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসাবে ওয়েব লিংকের উল্লেখ একপ্রকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এদিক থেকে বাংলা ভাষায় মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও সেগুলোর আর্কাইভের জন্য নিবেদিত প্রাণ ব্লগারদের সরকারীভাবে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান, এবং তাদের মাধ্যমেই এই ইতিহাস-বিকৃতির সরূপ উন্মোচন করা সম্ভব।

ড: আনিসুজ্জামান বাহান্নোর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এযাবত কাল বাঙালী ও বাংলাদেশের ভাষা ও কৃষ্টির শুদ্ধতম ব্যবহার ও প্রসারে নিবেদিত। প্রযুক্তির ব্যবহার্য্য ভাষা হিসাবে বাংলাকে ব্লগগুলো তুলে ধরলেও বিভিন্ন সফটওয়ারের ইংরেজী-বান্ধব অবস্থার কারণে ইংরেজীকরণের মত ঘটনার উদাহারণ তুলে ধরেন। যেমন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের একটা পত্র উপন্যাসকে কম্পিউটারজাত করা হয়েছে ‘বেঙ্গলি ফিকশন বা নভেল’ হিসাবে, প্রবেশপত্র যেখানে ম্যানুয়ালি করা সম্ভব ছিলে বাংলায় সেখানে কম্পিউটারাইজড হওয়ায় ইংরেজীতে লেখা হচ্ছে। এবং এসবের কারণ হিসাবে সফটওয়ার ইংরেজী-বান্ধব বলে উল্লেখ করা হয়।

আমাদের সাইবার স্পেসের যাপনকারীরা বাংলায় স্বচ্ছন্দ এবং তাদের পাঠকশ্রেণী বাংলায় মতামত তুলে ধরতে অভ্যস্ত। কিন্তু ব্যবহারিক সফটওয়ারগুলোর ইংরেজী-প্রধান্য প্রকারন্তরে বাংলাকে অ-ব্যবহৃত ভাষা হিসাবে প্রযুক্তিতে তুলে ধরছে কিনা – এটা একটা শঙ্কাজনক পরিস্থিতি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ড: আনিসুজ্জামান অত্যন্ত সময়োপযোগী পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

সাইবার স্পেস দ্রুততম সংযোগের, সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্র, মত প্রকাশের উন্মুক্ত ও অবাধ প্রান্তর। এসব শক্তিশালী দিকগুলো কাজে লাগিয়ে কিভাবে তৃনমূল পর্যায়ে মানুষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত হচ্ছে সেসব তুলে ধরেন সরকারের ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের পরিচালক মানিক মাহমুদ। তিনি বিষ্ময়কর তথ্য উপস্থাপন করেন। এ-সমস্ত তথ্য কেন্দ্র থেকে যেসমস্ত সামাজিক ও সরকারী সেবামূলক অব্যবস্থা উঠে আসছে তার ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান নানা মনিটরিং ইউনিট বসানো শুরু করেছে। বিশেষ করে তিনি উল্লেখ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কথা, যারা ইতিমধ্যে মনিটরিং সেলও স্থাপন করে ফেলেছে। এখন প্রায় দশ হাজার ব্যবহারকারী পরস্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং এ সংখ্যা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এক্সেস টু ইনফর্মেশন প্রকল্পের নীতি বিশ্লেষক জনাব আনীর চৌধুরী বাংলা ব্লগারদের স্ফীত অবস্থা দেখে আশাবাদী হয়ে ওঠেন। গণজাগরণের বাংলা ব্লগ কমিউনিটির দৃষ্টান্ত ও উদাহরণ দেখে তিনি এর নিরাপত্তা বিধানের জন্য ব্লগারদেরকেই মেকানিজম তৈরীর পরামর্শ দেন। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার সাথে সাথে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম উল্লেখ করে ব্যান্ডউইথ মূল্য হ্রাস করার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। সরকার কমানোর পরেও যা ইউজার লেভেলে এখনও প্রতিফলিত না হওয়ার পেছনে সার্ভিস প্রোভাইডারদের অসহযোগিতাকে দায়ি করেন।

আনীর চৌধুরী বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল ব্লগ তৈরীর জন্য ব্লগারদের সাহায্য কামনা করেন। এ পর্যায়ে বিবেচনাধীন বাংলাদেশ পুলিশের জন্য কেমন ব্লগসাইট হতে পারে, তার কাঠামো ও মডারেশনের নানা দিক কিভাবে সামলানো সম্ভব – সেসব বিষয়ে ব্লগারদের অভিজ্ঞতাকে তিনি বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। তিনি মূলত পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ভিত্তিতে তিন ধরণের ব্লগ পর্যবেক্ষণ করেন। এক) সামাজিক যোগাযোগ সম্পন্নকারী মাধ্যম, দুই) কমিউনিট ব্লগিং, তিন) ডিপার্টমেন্টাল/ক্যটাগরি ভিত্তিক ব্লগিং। এক্ষেত্রে সরকারী-বেসরকারী সংযোগ বৃদ্ধি ও নিবিড় পরিষেবা নিশ্চিত করণে ব্লগারদের রিসোর্স হয়ে ওঠার সুযোগ থাকছে বলে তিনি জানান।

মোবাইল নির্ভর ইন্টারনেটে উপযোগী প্রোগ্রাম সম্প্রসারণের জন্য ইতিবাচক এক পদক্ষেপের কথা জানান আনীর চৌধুরী। বাংলাদেশের সকল মোবাইল অপরারেটর ও মোবাইল সেট আমাদানীকারকদের সরকারীভাবে বাংলা সফটওয়ার ব্যবহার ও এর উন্নয়নের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশা করা যায় মোবাইলে বাংলা লেখার সহজ পদ্ধতি প্রচলন ঘটলে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে যাবে সাইবার স্পেসের গণযোগাযোগমাধ্যমগুলোতে।

ব্লগ পরিসর বাড়ছে। আলোচকরা বাংলা ব্লগের ভবিষ্যত ট্রেন্ড শনাক্ত করার অভিপ্রায়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। ব্লগকে নিয়ন্ত্রন করা যে এক অসম্ভব চেষ্টা আলোচকরা তা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পেরেছেন, তবে সাইবার ক্রিমিনালদের প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে সবার।

জনাব জাকারিয়া স্বপন ব্লগের পরিসর বৃদ্ধিতে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্রের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখিয়েছেন। প্রযুক্তির খবর সর্বাগ্রে তুলে দেবার জন্য তার পরিচালনাধীন ব্লগ ‘প্রিয়’ তে ব্লগাররা যোগাযোগ করতে পারেন। মানসম্মত কনটেন্ট ও ভিডিও ব্লগের জন্য সিলিকন ভ্যালিতে দীর্ঘ ১২ বছর কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন জাকারিয়া স্বপন বাংলাদেশে ব্লগে আরো নতুন নতুন ফিচার সংযুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী।

এসবই আশাব্যঞ্জক। আমাদের মোবাইল নির্ভর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষায়িত প্রোগ্রাম দরকার। সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে অচিরে মোবাইলে বাংলা লেখার সহজ উপায় উদ্ভাবন ঘটবে। এছাড়া এই বিস্তীর্ণ সাইবার স্পেসে গণজাগরণের আরো প্রত্যহিক ইস্যু আমাদের সামনে ক্রমশ বাড়ছে। সুবিধা বিস্তারের সাথে সাথে অপব্যবহার রোধের জন্য সাইবারকে উপযোগী বিচরণ স্থান রূপে গড়ে তোলার দায়িত্বও সেজন্য বৃদ্ধি পায়, যা স্পষ্ট হয়ে ওঠে ৩য় বাংলা দিবসের আলোচনায়।

***
ফিচার ছবি কৃতজ্ঞতা: Murshed Ahmmad Khan এর ফেসবুক থেকে সংগৃহিত