ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

বিআরটিসি বাসে সিট না পেয়ে মাঝখানের বদ্ধ দরজায় হেলান দিয়ে হেডফোন কানে লাগিয়ে রেডিও অন করতেই শুনতে পেলাম তার কণ্ঠস্বর। প্রথমে মনে হলো খবর পাঠিকার গলটা একটু ফ্যাসফ্যাসে, একদমই নয়া। পরে খবর নয়, কেমন যেনো কল্পগাঁথা লাগছিলো। ঠিক তখনই চিনতে পারলাম প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠস্বর। একটু চর্চা করলে ভালো খবর পাঠিকা হতে পারতেন।

প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন আশা করি দেশের সব মানুষ নানাভাবে তা শুনেছেন বা জানতে পেরেছেন। এবং সবাই মোটামুটি এমন এক রাষ্ট্রের সাফল্যের চিত্র ফুটে উঠতে দেখলেন যার সাথে তাদের পরিচয় নেই।

আমার সন্দেহ হয় প্রধানমন্ত্রী জীবনে নিজে চাল কিনেছেন কিনা। আজকাল তো নয়ই। তিনবছর আগেও না। প্রকৃতপক্ষে শেখ হাসিনা সারা জীবনে কখনও চাল কিনেছেন কিনা সেটা নিয়ে সংসদীয় বিতর্ক হতে পারে।

তিনবছর আগে চালের দাম ছিলো ৪০-৪৫, এখন সেটা ২৫ থেকে ৩০ – এই আবিস্কার প্রধানমন্ত্রীর। নিশ্চয়ই তার আস্থা ছিলো বক্তৃতায় বাজারের দাম বসিয়েছে যে মন্ত্রনালয় – তাদের প্রতি। অথচ যারা বক্তৃতা শুনেছেন তারা কিন্তু প্রতিদিন চাল কিনছেন, যত ধরণের চাল আছে সবগুলোর দাম তাদের নখদর্পনে, কবে কেজি প্রতি এক টাকা চেঞ্জ হয় সেসব তাদের স্মরণে থাকে দীর্ঘকাল। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনে মনে হলো তিনি এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে চালের দাম সম্পর্কে জ্ঞান দান করলেন – ধরে নিয়েছেন এরা জীবনে চাল কেনে না, ভাত খায় না – কেবল হাওয়া খেয়ে বাঁচে।

তিনবছর আগে মোটা চালের দাম ঐ ৩০টাকার আশেপাশে ছিলো – এখনও তাই আছে। যে মিনিকেট বা চিকন চালের দাম ৪৫ টাকা ছিলো সেটা দোকান ও বাজার ভেদে ৪৫ থেকে ৫০ এর মধ্যেই আছে। চালের দাম কমলো কিভাবে?

হয়তো প্রধানমন্ত্রী এটা বোঝাতে চেয়েছেন যে যারা আগে ৪৫ টাকা দামের চিকন চাল খেতেন তারা এখন ৩০ টাকা দামের মোটা চাল খাচ্ছেন, ফলে চালের দাম তাদের কমেছে। তেল, গ্যাস, পানি, বিদ্যুতসহ অন্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম যেভাবে বেড়েছে – সেক্ষেত্রে চিকন চাল থেকে মোটা চালে অবনয়ন ঘটাই স্বাভাবিক, প্রধানমন্ত্রীর কাছে হয়তো সেটাই মনে হয়েছে উত্তরণ!