ক্যাটেগরিঃ কৃষি

কাজের ফাঁকে কিংবা আড্ডায় চা খাওয়ার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই আছে। আমরা সবাই জানি, চা গাছের পাতা থেকে আসে এই চা। কিন্তু কীভাবে জন্মায় চা গাছের চারা? চলুন প্রশ্নের উত্তর খুঁজি এই প্রতিবেদনে।

ক্যামেলিয়া সিনেনসিস (Camellia sinensis) নামের এই উদ্ভিদ বীজ এবং অঙ্গজ প্রজনন এই দুইভাবে জন্মায়। সাধারণত ৫০ থেকে ৬০ বছর আয়ুর এই গাছে সাত বছর বয়সে ফুল আসে। হেমন্তের শুরুতে গাছে গাছে ফুল দৃশ্যমান হয়, শীতকালে ফল ধরে। জেনে রাখা ভালো, চায়ের ফুলগুলো খুব সুগন্ধযুক্ত হয়ে থাকে। চায়ের ফল থেকে বীজ এবং তেল তৈরি হয়।

যেহেতু চায়ের ফল পেতে সাত বছর সময় লাগে, তাই কেউ ফল ধরার অপেক্ষায় পাতা সংগ্রহ বন্ধ রাখে না। সাধারণত চা গাছ রোপনের প্রথম দুই বছরেই প্রতিটি গাছে সংগ্রহের জন্য পর্যাপ্ত পাতা পাওয়া যায়। বছরে ১৬ থেকে ২০ বার গাছের প্রতিটি ডালের আগা থেকে দুটি পাতা একটি কুঁড়িসহ কেটে পাতা সংগ্রহ করা হয়। তাই প্রতিটি গাছ সর্বদা তিন থেকে সাড়ে তিন ফুট পর্যন্ত ছাঁটাই করা থাকে। পাতা সংগ্রহ বন্ধ রাখলে তা সর্বোচ্চ ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়।

 

পাতা সংগ্রহের জন্য উপযুক্ত চা গাছ। তেতুঁলিয়ার করতোয়া টি ফ্যাক্টরির পার্শ্ববর্তী চা বাগান  

জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি কুঁড়ি জন্মে বলে এ সময় চা পাতা সংগ্রহ বন্ধ রাখা হয়। এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে দুইবার করে গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করা হয়। একটি গাছ থেকে ৩০-৪০ বছর পর্যন্ত চা উৎপাদনকারী পাতা পাওয়া যায়।

সারা বছর ধরে পাতা সংগ্রহের কারণে চা গাছে তাই ফুল ধরে না। আর ফুল ছাড়া তো ফল হবে না। তাই চারা তৈরির জন্য করা হয় অঙ্গজ প্রজনন। চা উৎপাদনের জন্য লাগানো গাছগুলো অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমেই চাষ করা হয়।

 

অঙ্গজ প্রজননের জন্য গাছের মগডাল থেকে পত্রকলি সহ দশ সেন্টিমিটার লম্বা ডাল কেটে উর্বর সার মিশ্রিত মাটির মধ্যে পুঁতে রাখা হয়। ঐ মাটিতেই শিকড় গজিয়ে বেঁচে ওঠে চারা। চারা ২০ সেন্টিমিটার লম্বা হলে তা নির্দিষ্ট স্থানে রোপনের উপযুক্ত হয়।

 

এক মাস বয়স্ক চা চারা

জলাবদ্ধ ভূমিতে চা চাষ করা যায় না, তাই উঁচু ভূমিতে চা চাষ করা হয়। মিঠা পানি চা চাষের উপযুক্ত। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত হওয়ায় সেখানে চা জন্মে না। রাঙামাটি ও সিলেটে সবচেয়ে বেশি চা জন্মে।