ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

ঢাকা শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটের সামনের অংশটি এখন ময়লার ভাগাড়। বায়তুল মোকাররম মার্কেট এবং জিপিও এর মাঝের রাস্তায় গেলে দেখা মিলবে এমন দৃশ্য।

সেগুনবাগিচায় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে ময়লার স্তুপ গ্রহণযোগ্য না হলেও এই দৃশ্য দেখা যাবে সেখানে গেলেই।

ঢাকা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবেই বজ্য ব্যবস্থাপনার এই বেহাল দশা। এসব স্থানে ময়লা না ফেলে কোথায় ময়লা ফেলা যাবে তার কোনও নির্দেশনাও দেখা যায়নি। অর্থাৎ নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনার অভাবটিও এর মাধ্যমে ফুটে ওঠে।

সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাড়িগুলো থেকে সংগৃহীত ময়লা ভ্যানে বয়ে নিয়ে ঐ এলাকার প্রধান কোনও সড়কে স্তুপ করে রাখে। পরে এসব স্তুপকৃত ময়লা পচে বাতাস দূষিত করে।

ঢাকার সংগ্রহকৃত ময়লা আমিনবাজার কিংবা মাতুয়াইল যেখানেই ডাম্পিং করা হোক না কেন, নগরীর ভেতরের কোন সড়কেই ময়লা স্তুপ করে রাখা উচিৎ না। তাই নগরবাসীর সুস্থ্যতার জন্য যত বেশি পরিচ্ছন্নতা কর্মী দরকার তা নিয়োগ করা উচিৎ।

ঢাকার বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় ময়লা ফেলে রাখার প্রধান কারণ হতে পারে বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রকৃত ময়লা একবারেই নগরের বাইরে ডাম্পিং করার স্থানে নিয়ে যাওয়ার মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নেই।

তবে যতদূর মনে হয়, প্রয়োজনের তুলনায় ময়লা পরিবহনের ট্রাকের সংখ্যা কম, সেই সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের ময়লা ব্যবস্থাপনায়  অর্থ বরাদ্দও কম।

তবে মানুষের অসচেতনতাও যেমন সার্বিকভাবে নগরকে নোংরা করায় দায়ী, তেমনি কারও কোনো প্রতিবাদ না থাকায় পরিস্থিতির উন্নতিও হচ্ছে না।

রাস্তায় কোনও ময়লা না ফেলে ঢাকা শহরকে যদি পরিচ্ছন্ন রাখা যেত, তবেই ঢাকা শহর একটা আদর্শ রাজধানী হত। হাতিরঝিলের ন্যায় ঢাকা শহরের প্রতিটি এলাকা সুসজ্জিত করতে যদি অধিক অর্থও ব্যয় হয় তবুও তা করা উচিৎ। অধিক অর্থ ব্যয় করে যদি উড়াল সেতু তৈরি করা যায় তবে শহর থেকে ময়লা অপসারণ করে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা যাবে না কেন?