ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

[১] ড. ইউনূস বাংলাদেশ ব্যাংকের কথা শুনলেন না, তিনি শুনলেন পশ্চিমা শাসকদের কথা। অথচ ড. ইউনূস চাইলেই গ্রামীণ ব্যাংকের পদমর্যাদা ছেড়ে দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত দেখাতে পারতেন- যে ধরনের দৃষ্টান্ত বাংলাদেশে বিরল কিন্তু ভারত থেকে শুরু করে পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রায়শ দেখা যায়।

[২] নির্দিষ্ট বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ার পরও পদমর্যাদা বহাল রাখার গ্রহণযোগ্যতা-অগ্রহণযোগ্যতার ডিসকোর্সের সাথে নোবেল প্রাপ্তিকে গুলিয়ে ফেলাটা ড. ইউনূস ও পশ্চিমা হেজিমনি।

[৩] পদমর্যাদা ফিরে পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টাকারি ড. ইউনূস বারবার এই প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন তিনি যোগ্য নেতৃত্ব প্রদানকারী নন, কারণ তার কোন উত্তরসূরি তিনি তৈরী করতে পারেননি, যাকে অবলীলায় দায়িত্বভার অর্পন করা যায়।

[৪] গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে নতুন অধ্যাদেশ জারির পর ড. ইউনূস বলেছেন আগামির সরকার এই অধ্যাদেশ বাতিল করবেন বলে তার ধারনা। দেশে আছেই ঘুরেফিরে দু’টো দল। আওয়ামী লীগ আর বিএনপি। আগামির সরকার বিএনপি হতে যাচ্ছে ড. ইউনূস কি তাহলে এই ইঙ্গিত দিচ্ছেন?

[৫] সরকার বিরোধী নানা ইস্যু নিয়ে বিএনপি হাট-মাঠ কাঁপাতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে ড.ইউনূস ইস্যু নিয়ে এগুতে যাচ্ছে। এতে সম্ভবত তারা পশ্চিমা মদদও পাবে। বিএনপি’র জন্য শুভকামনা। দেখা যাক, রিজভী’র সাম্প্রতিক প্রলাপের হাত থেকে বিএনপি’কে মওদুদ আহমেদ কতটা ভিন্ন দিকে মোড় নেওয়াতে পারেন।

[৬] ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংককে গরিবের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সরকারের প্রতি। গ্রামীণ ব্যাংক কতটা গরিবের আছে আজো?

[৭] এ জাতি দ্বিতীয় নোবেলের ’চাপ’ কতদিন আর কী কী ভাবে বহন করতে সক্ষম হয়, তা দেখা যাক!

[৮] কখনো সময় পেলে একটু ভাবেন, গ্রামীণ ফোনের সেই পুরনো বিলবোর্ডগুলোর কথা, যেখানে গ্রাম্য মহিলাদের হাতে সাধারণ মানের কিছু হ্যান্ডসেট দেখা যেত। তারপর ফ্ল্যাশব্যাক থেকে ফিরে আসুন, তাকিয়ে দেখুন এখনকার ঝলমলে বিলবোর্ডগুলোর দিকে!

***
পূর্বালাপ: ব্যাংকার টু দি পুউর, ফাদার অফ মাইক্রো ক্রেডিটঃ মাইক্রো প্রতিক্রিয়া অফ দি পুউর ম্যাঙ্গো-জনগণ