ক্যাটেগরিঃ সামহোয়ারইন ব্লগ

জ্বী কলমদাদির কথাই বলছি….
দাদিকে নিয়ে সপ্তাহখানেক আগেই আর.টিভি(RTV) শুট করেছিল… আর কাল(২৯শে এপ্রিল,২০১১) তা অন এয়ার হচ্ছে…
“মানবতার চোখ”নামের প্রোগামটির এবারের এপিসোডের পুরোটা জুড়েই থাকছেন আমাদের প্রিয় “কলমদাদি”….
তা আজ ঠিক বিকেল ৪:১০ মিনিটে আরটিভি টিউন করতে ভুলবেন না যেন,,,

ব্লগার অসামাজিক ০০৭০০৭ তার সাম্প্রতিক পোস্টে কলমদাদিকে নিয়ে আরটিভির অনুষ্ঠানের খবর বিনিময় করছিলেন সহ-ব্লগারদের সাথে।

কলমদাদি সম্পর্কে জানা যায়, তারই মুক্তিযুদ্ধে শহীদের স্ত্রী এখন ফেরিওয়ালা!!!জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রাপ্যটা আমরা এভাবে দিলাম!? শিরোনামের পোস্টে।

নাসেরা বেগম ,যিনি ১৯৬৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে অনার্স সহ মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। নাসেরা বেগমের জন্ম ১৯৩৮ সালে নাটোরের কান্দিভিটা গ্রামে।নাটোরস্থ নাটোর গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। লেখাপড়া শেষে কর্মজীবন শুরু করেন একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন হাবীব ব্যাংকের (বর্তমান অগ্রণী ব্যাংক) কর্মকর্তা চান মিঞার সঙ্গে বিবাহ হয়।১৯৭১ সালের ১ এপ্রিল ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামী চান মিঞাকে হানাদার পাকিস্তান বাহিনী ধরে নিয়ে হত্যা করে।

স্বামীকে হারানোর পর প্রবল জীবন সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয় আমাদের আজকের কলমদাদিকে। পোস্টটি থেকে জানা যায় –

১৯৮৫ সালে খুলনা মেমোরিয়াল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালনকালে ধরা পড়ে তার হার্টের ভাল্ব নষ্ট।স্বাভাবিক ভাবেই বাধ্য হয়ে চাকরি ছেড়ে ১৯৮৭ সালে ঢাকায় এসে কল্যাণপুর কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি নেন অপেক্ষাকৃত কম পরিশ্রমে। অসুস্থতার তাকে সেখানেও পিছু ছাড়েনি।তারপর জমানো কিছু টাকা দিয়ে কল্যাণপুরের রাজিয়া সুলতানা রোডে একটি হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকান দেন। একপর্যায়ে তাকে দোকানও বিক্রি করতে হয়।

এরপর ঢাবির শিক্ষকদের সহায়তায় ১৯৮৯ সাল থেকে শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কলম বিক্রি শুরু করেন কলমদাদি। পরিশ্রম, অর্থকষ্ট সব তার মানসিক শক্তিকে দূর্বল করতে না পারলেও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পোস্টটি থেকে জানা যায়-

একটি বেসরকারী চ্যানেলে তাকে দেখাবার পর ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এরশাদ রহমান নামে এক ডাক্তার তাকে মিরপুর হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসা দেন। তার হার্টে ৫টি ব্লক ধরা পড়ে। এরপর ওই ডাক্তারের বোন সঞ্জিতা রিমা ওষুধ বাবদ মাসে ১৫০০ টাকা করে দিতেন। গত ২ বছর ধরে কারও কাছ থেকে কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পান না

হৃদরোগ ও বার্ধক্যজনিত সমস্যায় আক্রান্ত কলমদাদি প্রত্যাশা করেন, মুক্তিযুদ্ধে স্বামী হারানো উচ্চশিক্ষিত বয়োবৃদ্ধা অসুস্থ নারী হিসেবে তার জন্য সরকারি ভাতার সুযোগ-সুবিধা দেয়া হোক হোক।

কলমদাদিকে সাহায্য পাঠানোর একমাত্র ঠিকানা – একাউন্ট নম্বর-২০৮২১৮,,,, অগ্রণী ব্যাংক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

তবে এ্যাকাউন্টটি বর্তমানে সচল আছে কিনা সে ব্যাপারে কলমদাদি অবগত নয়।

সামহোয়্যর ইন ব্লগের ব্লগাররা কলমদাদির সাথে একটি আড্ডার আয়োজন করেছিল। যার উদ্দেশ্য ছিল, কলমদাদিকে কিভাবে সহায়তা করা সম্ভব তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা। কলমদাদির সাথে পরিচিত হওয়া, এক সাথে একটু সুন্দর সময় কাটানোতেও আগ্রহী ছিল ব্লগাররা।

গত ২৬ মার্চ ব্লগাররা টিএসসিতে কলমদাদির সাথে সাক্ষাৎ করে।

ফেসবুকে কলমদাদিকে নিয়ে একটি পাতা খোলা হয়েছে- Amader Kolomdadi ( আমাদের কলমদাদি )। এখানে কলমদাদিকে নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা, ব্লগের পোস্ট লিংক, ছবি রয়েছে।

ছবি: কলমদাদির সাথে এক বিকেলে by ব্লগার রাষ্ট্রপ্রধান

***
ছবি সূত্র: ব্লগার রাষ্ট্রপ্রধান এর ফটো এ্যালবাম থেকে সংগৃহিত