ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

১.

একজন স্বামী কি তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করতে পারেন? প্রশ্নোত্তরে ‘হ্যাঁ’ -এর গ্রহণযোগ্যতা পাশ্চাত্য সমাজে পাওয়া যাবে। আমাদের সমাজ এহেন চিন্তাকেই বাজেয়াপ্ত চিহ্নিত করবে। এমনকি এ সমাজের বিবাহিত নারীও এই প্রশ্নকে ভ্রূকুটির সাথে অস্বীকার করবেন। পাশ্চাত্য একে কীভাবে বিশ্লেষণ করছে?

বার্ব কাইফ-এর ম্যারিটাল রেপ নিবন্ধে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে আমেরিকার আদালতে সর্বপ্রথম স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। বিতর্ক যতই থাকুক, এ ধরনের ঘটনা স্বীকৃতি পায় ম্যারিটাল রেপ তথা বৈবাহিক ধর্ষণ হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তাদের সকল প্রদেশেই বৈবাহিক ধর্ষণ আইন প্রণয়ন সম্পন্ন হয়েছে। এই আইনে অন্য যে কোনও ধর্ষণ মামলার মতই শাস্তি (জেল, জরিমানা) প্রদানের বিধান আছে।

বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই বৈবাহিক ধর্ষণ একটি স্বীকৃত অপরাধ। এরপর কিছু কিছু রাষ্ট্রে দম্পতি পৃথক অবস্থান করলেই তবে বৈবাহিক ধর্ষণ অভিযোগ গ্রহণ করা হয় এবং তা অপরাধ বলে বিবেচ্য হয়। কিছু রাষ্ট্রে বৈবাহিক ধর্ষণ অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত নয়, তবে গৃহ নির্যাতন হিসেবে গণ্য করা হয়। এর বাইরে কিছু রাষ্ট্রে, উল্লেখযোগ্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশে, বৈবাহিক ধর্ষণ পরিভাষাটিই অশ্রুত, একে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা তো কল্পনাতীত।

এককালে পাশ্চাত্যের সমাজেও এ ধারণা প্রতিষ্ঠিত ছিল, বিবাহের অর্থ হল স্ত্রী দেহের স্বর্বময় অধিপতি হবেন স্বামী। সুতরাং, যে স্ত্রী দেহের মালিক হচ্ছেন স্বামী, তিনি কীভাবে ধর্ষক হন? ধর্ষণ অপর কোনও নারীর জন্য প্রযোজ্য হতে পারে, স্ত্রীর জন্য নয়। নিশ্চয়ই স্ত্রীরাও এরূপ ভাবতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন, কারণ সমাজ নারীদের এরূপেই গড়ে নেয়। হুমায়ুন আজাদ বিবাহিত নরনারীদের মধ্যকার এই যৌন যোগাযোগকে কটাক্ষ করেছিলেন ‘চুক্তিভিত্তিক দেহদান’ বলে।

ম্যারিটাল রেপ মামলাগুলোতে যৌনতায় স্ত্রী সম্মতিকে মর্যাদা দেওয়া হয়। অর্থাৎ কাগজে স্বাক্ষর করার ধর্মীয়-সামাজিক-আইনগত আচার সম্পন্ন করলেই নারীর ওপর পুরুষের যৌন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা পায় না। তবে চ্যালেঞ্জের জায়গাটুকু হচ্ছে, এ ধরনের মামলার অভিযোগে গুরুতর শারীরিক অত্যাচার চিহ্নিত করা গেলে তবেই ধর্ষণ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। আইনের এই দুর্বলতাকেই নিরাপদ স্ট্র্যাটেজি হিসেবে ব্যবহার করে প্রতারণার ছলে নারীর সম্মতি আদায় পুরুষের জন্য একটি কার্যকরী পন্থা। ‘ফুসলিয়ে’ সম্মতি আদায় করে শারীরিক সম্পর্ক গড়ার মতো প্রতারণামূলক দৃষ্টান্ত আমাদের সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিরল নয়। অনেকক্ষেত্রে এই প্রতারণাগুলো বিবাহের মোড়কেও বৈধ করে নেওয়া হয় পুরুষের পক্ষ থেকে। ভিকটিম নারীটি যতক্ষণ না শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন, যতক্ষণ না স্বামী পুরুষটির চরিত্র স্খলনের অপরাপর প্রমাণ প্রাপ্ত হন, ততক্ষণ বুঝতে অপারগ থাকেন তাকে বিবাহের প্রকৃত ‍উদ্দেশ্য।

 

২.

ক্রিকেটার রুবেলের বিরুদ্ধে হ্যাপীর ধর্ষণ মামলার ঘটনাটি বড় আকারের শিরোনাম পেয়েছে মিডিয়ায়। একটি ভিজ্যুয়াল মিডিয়া হ্যাপী-রুবেল প্রেমালাপের অডিও ক্লিপ প্রচার করে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি যে ভিত্তিহীন নয়, তার সমর্থনে অবস্থানও নিয়েছিল। এছাড়াও মামলাটিকে ঘিরে হ্যাপীর বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া নিয়ে নিয়মিত সংবাদ করছে কিছু পত্রিকা।

 

মোটের ওপর সকল মিডিয়াতে কিছু শব্দের প্রয়োগ লক্ষণীয়। যেমন, ‘প্রলোভন, ’সঁপে দেওয়া’, ’উজাড় করে দেওয়া’। শব্দগুলো হ্যাপীর অভিযোগের প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরছে, কিন্তু কতটা মর্যাদাকরভাবে? সেকেলে সিনেমাটিক শব্দ ’সঁপে দেওয়া’ এবং ’উজাড় করে দেওয়া’ একটা ইরোটিক ভিজ্যুয়াল ডিসপ্লে ঘটায় পাঠকের সামনে। নিশ্চিতভাবে এই ভিজ্যুয়ালে কেবল ’নারী অবয়ব’-ই স্থান পায়। এই সব শব্দ ব্যতিরেকে অন্য কোনও ডিগনিফাইড শব্দ কি প্রিন্ট ও ভিজ্যুয়াল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারে না?

 

একইভাবে ‘প্রলোভন’ শব্দটি ভ্রান্ত ইন্টারপ্রিটেশন বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। নারীর জন্য শব্দটি ‘প্রলোভন’ নয়, বরং ‘প্রতিশ্রুতি’, যাতে নারীটি আস্থা রেখে ভুল করছেন। পুরুষটি প্রতারণার মানসিকতায় বিবাহের ‘প্রলোভন’ দেখিয়েছেন আর নারীটি সেটাকে ’প্রতিশ্রুতি’ হিসেবে গ্রহণ করেছেন- পরিস্থিতির ব্যাখ্যা মূলত এটাই। কিছুদিন আগে বাংলা ট্রিবিউন-এর একটি কলামে কথার মারপ্যাঁচে ‘বিয়ের প্রলোভন’ -এ মজে হ্যাপীর নিজেকে ’সঁপে দেওয়া’ নিয়ে হাস্যরস করলেন একজন কলাম লেখক। এতেই অনুমেয় যে, এই সব শব্দগুলোকে রুবেল পক্ষের উকিল কৌশলগতভাবে তার জেরায় কতটা অশ্লীলভাবে ব্যবহার করতে পারেন।

এছাড়াও কিছু নামপরিচয়হীন অনলাইন পত্রিকা সময় সময় হ্যাপীকে নিয়ে রগরগে খবরও ছেড়ে দিচ্ছে। পরিচিত একজন জানালেন, হ্যাপীর সাথে আরো বারো পুরুষের সম্পর্ক ছিল। এটা নাকি তার মেডিকেল টেস্ট রিপোর্টে ধরা পড়েছে। তার এই খবরের সূত্র হল ফেসবুকে শেয়ার হওয়া একটি সস্তা অনলাইন পত্রিকা।

হ্যাপীর মেডিকেল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে এই তথ্য সকল মিডিয়াতে ছাপা হয়েছে। রুবেলের মেডিকেল টেস্ট বিষয়ক আপডেটও মিডিয়া ছাপবে আশা রাখি।

৩.

নারী ধর্ষণ আইন, নারী নির্যাতন আইন যথেষ্ট নারীবান্ধব নয়। তদুপরি, আইনে ধর্ষণ সংজ্ঞায় দেহ-মন-সম্পর্কের দর্শন ও মনস্তত্ত্বের প্রতিফলন বিস্তারিত নয়, বরং পুরনো ও গতানুগতিক। যৌন প্রতারণা সরাসরি অন্তর্ভুক্ত না হলেও যৎসামান্য কিছু ধারা যৌন প্রতারণামূলক মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (২০০৩ এর সংশোধনীসহ) এর ৯(১ ) ধারার ব্যাখ্যায় বলা আছে, ”যদি কোনও পুরুষ বিবাহ ছাড়া ষোল বছরের বেশি বয়স্ক কোনও নারীর সাথে তার সম্মতি ছাড়া বা ভয় দেখিয়ে বা প্রতারণামূলকভাবে তার সম্মতি আদায় করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে, তবে তা ধর্ষণ বলে গণ্য হবে।” প্রতারণামূলকভাবে সম্মতি আদায় করে নারীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন যে আইনত ধর্ষণ এই ধারায় তার আলোকপাত আছে।

বাংলাদেশে দণ্ডবিধির ৩৭৫ নং ধারা অনুযায়ী ”কোনও নারীকে বিয়ে না করেই ব্যক্তিটি তার আইনসঙ্গত স্বামী এই বিশ্বাস দিয়ে যদি কোনও পুরুষ যৌন সর্ম্পক স্থাপন করে তাকে আইনের ভাষায় ধর্ষণ বলা হবে।” অর্থ্যাৎ ”তাহার সম্মতিক্রমে, যেক্ষেত্রে লোকটি জানে যে, সে তাহার স্বামী নয় এবং নারীটি এই বিশ্বাসে সম্মতি দান করে যে, পুরুষটির সহিত সে আইনানুগভাবে বিবাহিত অথবা সে নিজেকে আইনানুগভাবে বিবাহিত বলিয়া বিশ্বাস করে”, এমতাবস্থায় ”যদি কোন ব্যক্তি, কোনও নারীর সহিত যৌন সহবাস করে তবে উক্ত ব্যক্তি ‘র্ধষণ’ করে বলিয়া গণ্য হইবে।” আইনি ধারার এই অংশেও সুস্পষ্ট যে, নারী একটি বিশ্বাসের ভিত্তিতে সম্মতি দিচ্ছেন, যেখানে পুরুষটি নারীর বিশ্বাসকে প্রতারিত করে নারীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করছেন, যা আইনত ধর্ষণ বলে গণ্য হচ্ছে এবং ব্যক্তিটি ধর্ষক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে, “ধর্ষণের মামলার প্রধান সাক্ষী হচ্ছে ধর্ষণের শিকার নারী নিজেই। পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের সমর্থন থাকলে শুধু এই সাক্ষীর সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করেই আদালত অভিযুক্তকে অপরাধী হিসেবে শাস্তি দিতে পারেন।

৪.

প্রেম হোক অথবা অপ্রেম, রুবেল ও হ্যাপী সম্পর্কিত ছিলেন এ কথা সত্য। ফলে প্রেমের সম্পর্ক বিষয়ক হ্যাপীর প্রাথমিক বক্তব্যও সত্য ভাষ্য । তাদের সম্পর্ক অন্তরঙ্গ পর্যায়ে ছিল, এ কথা হ্যাপী মামলার প্রথম দিন থেকেই জানাচ্ছেন। রুবেল এই ঘটনায় নিজের ইমেইজ ক্লিন রাখতে হ্যাপীকে প্রতারক বলার চেষ্টা করেন এবং পুরো ঘটনাটি হ্যাপীর পেছনে থাকা কোনও চক্রের দাবি করার চেষ্টা করেন। রুবেল ঠিক কবে কখন বুঝতে পারেন যে হ্যাপী প্রতারক চক্রের হয়ে কাজ করছেন? হ্যাপী ’সতি মেয়ে’ নন, এমনটা বুঝতে পারার পরও রুবেল কেন হ্যাপীর সাথে যৌন সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন?

প্রথমবার জামিনপ্রাপ্ত হবার পর রুবেল শিগগিরই একটি প্রেস কনফারেন্স করার আভাস দেন যেখানে তিনি ’সব’ কিছু জানাবার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। রুবেলের প্রতিশ্রুত সেই প্রেস কনফারেন্স আর হয়নি। এর কারণ সম্ভবত প্রকাশিত অডিও ক্লিপ, যা তাদের সম্পর্কের একটি প্রমাণ। ধারণা করা যেতে পারে, প্রেস কনফারেন্স করলে রুবেল হ্যাপীর সাথে সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করতেন, হ্যাপীকে ’নষ্টা’ হিসেবে দাবি করতেন, পুরো ঘটনাটি ষড়যন্ত্র এমন অভিযোগ করতেন । যেহেতু প্রেস কনফারেন্স হয়নি, তাই রুবেল ভাষ্য সরাসরি জানার সুযোগ ঘটছে না। তবে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে কৌশলী রুবেল এর বাইরে আর কী কী করতে পারেন?

অথবা হ্যাপীকে ’দুশ্চরিত্রা’ প্রমাণের পুরনো কৌশল অবলম্বন না করে রুবেল বরং সকলকে জানাতে পারেন, তিনি সত্যিকার অর্থেই গভীরভাবেই সম্পর্কিত ছিলেন, কিন্তু হ্যাপী সম্পর্কের ক্ষেত্রে রুবেলের প্রত্যাশামাফিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন না। সেক্ষেত্রে, বুঝতে হবে এই ঘটনায় মূলত রুবেলই হচ্ছেন ধর্ষিত, হ্যাপী একজন ধর্ষক! যেহেতু ফেয়ার ট্র্যায়াল হওয়া উচিৎ, তাই রুবেল এই আর্জিও পেশ করতে পারেন আদালত বরাবর।

৫.

রুবেল বিয়ে করলেই হ্যাপী তার মামলা তুলে নেবেন এমন বক্তব্য প্রদান হ্যাপীর অথবা কোনও নারীর জন্য ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিকর। তবে এ ধরনের আচরণ প্রকাশ অস্বাভাবিক কিছু নয়। কেবল হ্যাপী নয়, প্রেমে ব্যর্থ হওয়া অধিকাংশ তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আকষ্মিক ইনসিকিউরিটি থেকে এরকম প্রগলভতা জন্ম নেওয়াটা মনোজাগতিকভাবে প্রত্যাশিত। ভিকটিমের এ ধরনের আচরণের মনস্তাত্তিক ব্যাখ্যায় বার্ব কাইফের নিবন্ধ থেকে উদ্ধৃত করা যায় –

Because the perpetrator was at one time trusted and loved, the survivor is likely to deal with bitter feelings of betrayal and broken trust, and may feel she cannot trust herself to decide which people are safe and which are not.

৬.

হ্যাপী নারী এবং মিডিয়া জগতের চলচ্চিত্র শাখায় পদচারণা আছে বিধায় হ্যাপীকে ’হ্যাপী টাইপ মেয়ে’ সম্বোধন করে বেশ রসালো আলাপচারিতার ছড়াছড়ি যত্রতত্র। ক্রিকেটারদের যেহেতু জাতীয় বীর গণ্য করা হয়, তাই পুরুষ রুবেলের ছোটখাট ’দোষ’ আমলে নেওয়ার পক্ষপাতি নন কোনও ক্রিকেট ফ্যান–ই। ফলে হ্যাপীকে বি অথবা সি গ্রেড নায়িকা গণ্য করে, এই শ্রেণির নায়িকাদের সঙ্গে ‘একটুআধটু বিনোদন’ ঘটে থাকলে তা নিয়ে আদালত পর্যন্ত পৌঁছানো বাড়াবাড়ি লাগে ফ্যানদের। ফ্যানদের চেয়েও সরেস হচ্ছে বিসিবি। বারবার ব্যক্তিগত ঘটনা বলে আইনি অভিযোগ এড়িয়ে রুবেলকে কৌশলে সমর্থন দিয়ে গেছে বিসিবি। ধর্ষণ মামলা থাকার পরও আসন্ন বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের জাতীয় দলে রুবেলের অন্তর্ভুক্তি বিসিবির নৈতিক অবস্থানকে নড়বড়ে করে। রুবেল জেলে থাকাকালীন তাকে দেখতে ছুটে গেছেন এককালের ক্রিকেটার আকরাম। বিসিবি রুবেলের খেলায় পারফরমেন্সের ওপর জোর দিয়েছেন, রুবেলের চারিত্রিক দৃঢ়তার ওপর নয়। বিসিবি ও আকরাম রুবেলের ’ব্যক্তিগত খেলাধূলাকে’ প্রচ্ছন্নভাবে আস্কারা দিচ্ছেন এতে করে।

অভিযোগ সত্য হোক অথবা মিথ্যে, ঘটনা আদালত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগ যার ওপর রয়েছে, সেই খেলোয়াড়কে বিসিবি কী করে মাঠে নামাতে চাচ্ছেন? এটি বিসিবির মতো প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলাব্যবস্থার নীতিহীনতাকে নির্দেশ করে। এই মুহূর্তে রুবেলকে মাঠে নামিয়ে বিসিবি কী আর সকল খেলোয়াড়সহ তরুণ প্রজন্মকে যৌন প্রতারণায় উৎসাহ দিতে চায়? রুবেল চার-ছয় মেরে জাতীয় বীর হবেন, জাতির গৌরব হবেন, রুবেলের পারফর্মেন্সে তার ফ্যানরা গগণবিদারী চিৎকারে উছলে উঠবেন আর বিসিবি-আকরাম-ফ্যানদের প্রত্যক্ষ উৎসাহে রুবেল তার প্রতারণার বিষয়ে থেকে যাবেন উপলব্ধিহীন একজন সামাজিক সুবিধাপ্রাপ্ত পুরুষ!

————–
প্রকাশিত হয়েছে: http://www.banglatribune.com, জানুয়ারি ১৪, ২০১৫