ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

শাহজাহানপুর রেল কলোনি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকা। মির্জা আব্বাস ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদপ্রার্থী। তাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না, কোন নির্বাচনী প্রচারণায় নেই তিনি। তার স্ত্রীকেই দেখা যাচ্ছে। তার স্ত্রী প্রচারণা চালাচ্ছেন। একে-ওকে-তাকে ধমকে দিচ্ছেন। এটা লেভেল প্লেয়িং কিনা তা নিয়ে কথা বলার জো নেই। কারণ, বিএনপি’কে বিশেষ ছাড় দিতে হবে এখন। কিন্তু যে মেয়র প্রার্থীর ইশতেহার পাওয়া গেল না, মেয়র প্রার্থীর চেহারা দেখা গেল না, তিনি আসলে কিসের জন্য মেয়র হতে চান? অথবা মেয়র হয়ে নিজের রাজনৈতিক ফায়দা ব্যতীত তিনি কী দিতে পারবেন জনগণকে?

শাহজাহানপুর রেল কলোনি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকা। বেগম খালেদা জিয়া তার অসুস্থতা, বন্দিত্ব ভুলে গেলে আচমকা। মির্জা আব্বাসের জন্য ভোট চাইতে লিফলেট বিলি করলেন এই এলাকায়। ২০ দলীয় নেত্রীর মহাসমারোহে নির্বাচনী প্রচারণা লেভেল প্লেয়িং কিনা তা নিয়ে বলার জো নেই। কারণ,  কারণ, বিএনপি’কে বিশেষ ছাড় দেয়ার সকল দায় আমাদের মাথার উপর চাপিয়ে দিয়েছেন টকশোজীবীরা।

শাহজাহানপুর রেল কলোনি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকা। এই এলাকায় খোলা ছিল একটি পানির পাইপ। লেভেল প্লেয়িং না, ’হামাগুড়ি প্লেয়িং’ অথবা মাটিতে ছোট পায়ে থপ থপ করে ’ছুটোছুটি প্লেয়িং’ করতে গিয়ে পানির পাইপে পড়ে গেল শিশু জিহাদ। জাতি ২৪ ঘণ্টার ’অকার্যকর’ সিসিটিভি লাইভ দেখল। ভিড়ের মধ্যে অসংখ্য মুখ ছিল। টিভি ক্যামেরা ছিল। মির্জা আব্বাস ওই স্থান থেকে খুব বেশি দূরে থাকেন না বোধকরি। তার মুখ দেখা গেল অ-নে-ক পড়ে। মন্ত্রীর চেহারা ক্যামেরায় দেখার পরই বোধকরি নাম দস্তখতে মির্জা আব্বাস একবার এসে পাইপে উঁকি দিয়েই চলে গেলেন। শিশু জিহাদকে উদ্ধারে প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে মির্জা আব্বাসের দায়িত্বশীল কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। শিশু জিহাদের পরিবারের পাশে সমবেদনা জানাতেও দেখা যায়নি তাকে। বিএনপি’র একটা নামকাওয়াস্ত বিবৃতি ছিল, সেটাও পত্রিকায় একটা শিরোনাম রাখার জন্য কেবল।

নির্বাচনী প্রচারণায় মির্জা আব্বাস তার ইশতেহারের মাধ্যমে অথবা তার স্ত্রী অথবা ম্যাডাম খালেদা জিয়া, কি এই আশ্বাস দিয়েছেন, যে মেয়র নির্বাচিত হলে অন্তত কোন পরিত্যক্ত বা ব্যবহৃত পাইপ খোলা পড়ে থাকবে না…?

শাহজাহানপুর রেল কলোনি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকা। আজ সেখানকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোট চলছে।