ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

ঢাকা দু’জন নগর অভিভাবক পেল ১৩ বছর পর। উত্তর ঢাকা সিটি করপোরেশন মেয়র এবং দক্ষিণ ঢাকা সিটি করপোরেশন মেয়র। শোনা গিয়েছিল যে, আনিসুল হক নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুতের আগে জরিপ করে জেনেছিলেন, নাগরিক দৃষ্টিকোণে কোন সমস্যাগুলো প্রকট। সেই মোতাবেক আগামী ৫ বছরে স্মার্ট ও ডিজিটাল ঢাকা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছেন আনিসুল হক। অন্যদিকে সাঈদ খোকনের ইশতেহারে প্রাধান্য পেয়েছে পাঁচটি বিষয়। তারা কিছু নাগরিক সুবিধা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন আর বেশ কিছু রয়ে গেছে অস্পষ্ট। আধুনিক ঢাকা বা স্বাস্থ্যকর ঢাকা_ এমন অনেক মনোহর শব্দভাণ্ডার আমাদের সামনে রাখলেও অবাক লাগে, ব্যস্ততম নগরে যেখানে প্রতিদিন ৪০-৫০ লাখ মানুষের চলাচল, তাদের জন্য গণশৌচাগার নিয়ে ইশতেহারে কোনো পরিকল্পনার উল্লেখ নেই। কাগুজে হিসাবে ৬০-৭০টি পাবলিক টয়লেটের তথ্য অনেক পত্রিকাতে পাওয়া যায়। তবে কোনো টয়লেটই ব্যবহার উপযোগী নয়। ফলে রাস্তাঘাট, বাস স্টপেজগুলো মূত্রত্যাগের প্রধান স্থল হয়ে উঠছে। এতে অপরাপর পথচারীরা যেমন বিব্রতবোধ করেন, তেমন ফুটপাতগুলোও হাঁটাচলার উপযোগিতা হারিয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ‘দেয়ালে আরবি লিখন’ ফুটপাত প্রস্রাবমুক্তকরণে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নয়। পাবলিক টয়লেট নির্মাণ এবং নাগরিকদের পাবলিক টয়লেট ব্যবহারে সচেতনকরণ প্রধানত সিটি করপোরেশনের ওপর বর্তায়। ঢাকার দুই মেয়র পাবলিক টয়লেট সমস্যাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিলে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর ঢাকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা হবে।

ভারতে সম্প্রতি চালু হয়েছে উন্নত ই-টয়লেট ব্যবস্থা। একই সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে ফুটপাতে প্রস্রাবকে সামাজিক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘পিসিং ট্যাঙ্কার’ নামে একটি ভাইরাল ক্যাম্পেইনও চলেছিল ভারতে। ফুটপাতে, পথে পথচারীদের মূত্রত্যাগে উদ্যত হতে দেখা গেলেই তাদের ওপর তীব্র পানির স্রোত আছড়ে পড়ে। খোলা স্থানে মূত্রত্যাগ একটি লজ্জাকর বিষয় ও অপরাধ এবং ‘পিসিং ট্যাঙ্কার’ যেন শাস্তিদাতার ভূমিকায়_ এটাই ছিল ক্যাম্পেইনটির ভিডিও চিত্রায়ণ।

শাস্তি প্রদানের আগে অবশ্য পাবলিক টয়লেট নির্মাণ জরুরি। ভারত বিভিন্ন মেয়াদি প্রতিশ্রুতিতে অঞ্চলভেদে গণশৌচাগার নির্মাণও করছে। আমাদের ঠিক তাই করতে হবে। যদিও স্যানিটেশন খাতে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে নানা অসন্তোষ রয়েছে; এমন বৈরিতার ভেতরেও আসন্ন তিন লাখ কোটি টাকার বাজেটে মহানগরে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ অর্থায়নে ঢাকার দু’জন মেয়রের যৌথ ভূমিকা আবশ্যক। মেয়রদ্বয় একত্রে গণশৌচাগার নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পাবলিক টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেন। গণশৌচাগার প্রকল্পে তিনটি ধাপ হতে পারে_ ১. গণশৌচাগার নির্মাণ; ২. রক্ষণাবেক্ষণ এবং ৩. নাগরিক সচেতনতা।

নগরের সবচেয়ে ‘ক্রিটিক্যাল পয়েন্ট’গুলো শনাক্ত করে সেসব স্থানে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ কাজে হাত দিতে পারে সিটি করপোরেশন। গণশৌচাগারগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহার উপযোগিতা হারায়। এজন্য গণশৌচাগারগুলোতে পানি, বিদ্যুৎ, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাজেট বরাদ্দ জরুরি। এরপরই জরুরি হচ্ছে নাগরিকদের গণশৌচাগার ব্যবহারে সচেতন করা। স্বাস্থ্যকর পরিবেশ হলে নারী ও পুরুষ উভয়ই পাবলিক টয়লেট ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। প্রচারণার মাধ্যমেও নাগরিকদের গণশৌচাগার ব্যবহারে সচেতন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে, মূলধারার গণমাধ্যমে ক্যাম্পেইন কার্যকরী হবে। পাশাপাশি সিসিটিভির মাধ্যমে বিভিন্ন স্পটে নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ফুটপাতে মূত্রত্যাগকারীর জরিমানা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। উন্নত গণশৌচাগার নিশ্চিত করে নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা। এই মানবিক অধিকার নিয়ে ২০০১ থেকে প্রতিবছর ১৯ নভেম্বর পালিত হয় বিশ্ব টয়লেট দিবস। এ বছর ১৯ নভেম্বর বিশ্ব টয়লেট দিবসে ঢাকার দুই মেয়র গণশৌচাগার বিপ্লব ঘটাবেন_ এমনটাই প্রত্যাশা থাকল।

***

প্রকাশিত: দৈনিক সমকাল, ২৭ মে ২০১৫

27May2015