ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বিএনপি টিকে আছে সুশীল সমাজের কৃপায়, সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ব্যর্থতায় এবং আওয়ামী লীগের বাচালতায়। এর বাইরে রাজনীতি দক্ষতা নয়, বরং বিভিন্ন প্রোপাগান্ডার সফলতা বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছে।

বাংলাদেশের জন্ম অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা নিয়ে। বিএনপি বস্তুত এন্টি-আওয়ামী লীগ চেতনা থেকে উদ্ভুত জলপাইরঙা দল। মুক্তিযুদ্ধকালে জামায়াতের সাম্প্রদায়িক ও ভারতবিরোধী চেতনাকে আত্মস্থ করেছিল ১৯৭৮ সালে ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।

১৯৭১ সালে পাকিস্তান অবজারভার পত্রিকায় গোলাম আযম কিংবা শান্তি কমিটির যেসব বক্তব্য ও কর্মসূচি ছাপা হতো, তাতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে ভারতের সমর্থনকে বরাবর হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ওই সব প্রতিবেদনগুলোতে ভারতীয় সৈন্যদের ‘ভারতীয় এজেন্ট’ অর্থ্যাৎ ‘ভারতীয় দালাল’ সম্বোধন করা হত। রাজাকার কর্তৃক ভারতীয় এজেন্ট ধৃত বা হত্যার সংবাদও ছাপা হত পত্রিকায়। বস্তুত পাকিস্তান প্রশাসন এবং রাজাকার-শান্তি কমিটি মিলে ‘ভারতবিরোধী’ মনস্তত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল। তারা ‘পাকিস্তানের অখণ্ডতা’ অটুট থাকার প্রচারণার পাশাপাশি সবাইকে এই ধারণা দিতে সচেষ্ট ছিল যে, পাকিস্তান ভেঙেছে ভারতের ইন্ধনেই।

বাংলাদেশকে সহায়তায় ভারতের সশস্ত্র সেনা আগমন পাকিস্তানি দোসরদের চিন্তিত করেছিল। এপ্রিল ১৯৭১ -এ ভারতীয় হামলা হতে ‘পাকিস্তানকে’ রক্ষা করতে ঢাকায় মিছিল করা হয়। পাকিস্তানি পতাকা হাতে এই মিছিলের আয়োজক ছিল নাগরিক শান্তি কমিটি। ভারতকে প্রতিহত করতে স্টিয়ারিং কমিটিও গঠিত হয়। পাকিস্তানিরা জিহাদে অবতীর্ণ ও জাতীয় সংহতি রক্ষায় তাদের ঈমান দৃঢ় এমন বক্তব্য আসত পাকিস্তান প্রশাসন থেকে, যাতে পূর্ণ সমর্থন থাকত রাজকার গোষ্ঠীর। হুশিয়ারি থাকত ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি। বিশেষ বিশেষ স্লোগান ছিল – ইন্দিরা গান্ধী হুশিয়ার (India Gandhi Be Aware), ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দাও (Stand up to face Indian attacks), ক্রাশ ইন্ডিয়া (Crush India), চলো চলো দিল্লী চলো (Let us march to Delhi)।

 

যেহেতু বাংলাদেশিরা স্বাধীন-স্বার্বভৌম ভূখণ্ড চেয়েছিল, যুদ্ধে নেমেছিল, তাই বিজয় পতাকা বাংলাদেশই উড্ডয়ন করেছিল। স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধীশক্তির আস্ফালন দৃশ্যমান ছিল না।  ১৯৭১ সালে বাংলাদেশিদের মধ্যে পাকিস্তান ও রাজাকারগোষ্ঠীর শত চেষ্টাতেও ভারতীয় বিদ্বেষ গেঁড়ে বসেনি যদিও, কিন্তু  ১৯৭৫ পরবর্তী থেকে, বিশেষত বিএনপির জন্ম এবং পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান কর্তৃক জামায়াতের রাজনীতি করার সুযোগ, সেই বিদ্বেষ বিস্তারে সফল হতে শুরু করে। আওয়ামী লীগ ক্রমাগত কোনঠাসা হতে শুরু করেছিল স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিদের উত্থানকালে। আওয়ামী লীগকে ভারতীয় দালালরূপে চিহ্নিত করার পুরনো ষড়যন্ত্র সফলতা পেতে থাকে। আওয়ামী লীগ হিন্দু ঘেঁষা, এমন ধারণাও প্রচারিত হতে থাকে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে দেশের মানুষের ভেতরে অসাম্প্রায়িক চেতনাবোধও  হত্যা হয়েছিল। তা না হলে, ভারতবিদ্বেষ এতটা সফল হতো না এদেশে। বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮৬ সালে প্রমাণ করেছিলেন, জাতিকে কীভাবে দিকভ্রান্ত করা সম্ভব। ভারতবিদ্বেষই খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি’র ট্রাম্পকার্ড ছিল নির্বাচনে জনগণের ভোট পেতে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিল , ‘আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে ফেনী ও চট্টগ্রামের একটা বড় অংশ ভারতের হয়ে যাবে।’ খালেদা জিয়া এও প্রচারণা করতেন যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সব মসজিদে-মসজিদে উলুধ্বনি শোনা যাবে।

১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও খালেদা জিয়া সেই ভারতবিরোধী ট্রাম্পকার্ড ব্যবহার করেছিলেন। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভারতের কাছে দেশবিক্রির এই প্রোপাগান্ডা অনেকেই গিলেছিল। ২০১২ সালের ১২  মার্চ আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে  বেগম খালেদা জিয়া বিশাল গাড়ি বহরসমেত লংমার্চ করেছিলেন । যার স্লোগান ছিল, ‘চলো চলো ঢাকা চলো’। এই স্লোগান কি ১৯৭১ সালের ভারতবিরোধী স্লোগান ‘চলো চলো দিল্লী চলো’ থেকে প্রভাবিত নয়?

বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী এবং সুশীল সমাজের অনেকে বিএনপিকে একটি বৃহৎ দল হিসেবে সমীহ করার বার্তা দিয়ে থাকেন। ৩৫-৪০% সমর্থক গোষ্ঠীর বিএনপির জন্য কত ধরনের গণতান্ত্রিক সুবিধা বরাদ্দ থাকা উচিৎ, তাই হচ্ছে প্রধান আলোচনা। এসব আলোচনাকে জোরালো করতে ২০১৩ সালে দৈনিক প্রথম আলো একটি আলোচিত ও সমালোচিত জরিপ প্রকাশ করে। জরিপটি ছিল প্রথম আলোর উদ্যোগ এবং ওআরজি-কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেড পরিচালিত।  এই জরিপই হয়ে উঠেছিল বিএনপির জন্য অন্যমত অবলম্বন। প্রথম আলো দেশজুড়ে জনতাকে বার্তা দিয়েছিল, বিএনপি একটি জনপ্রিয় দল এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনতা বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। বিষয়টি অত্যন্ত শঙ্কাজনক, আমাদের দেশের সাধারণ জনতা থেকে বুদ্ধিজীবী জনতা একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর প্রতি তাদের সমর্থন জানাচ্ছে।

এসব জরিপ, এসব ‘বিভ্রান্ত’ সমর্থকগোষ্ঠীকে নিয়ে বিএনপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতি অব্যাহত থাকে। বিএনপির  সুস্পষ্ট হিন্দুবিদ্বেষী রাজনীতি ভারতবিদ্বেষকে বাংলাদেশে জারি রাখারও একটি কৌশল বটে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ককে এ কারণে এখনও বহুজনে সন্দেহের চোখে দেখে। বিএনপির এই ভারতবিদ্বেষী রাজনীতি বিএনপি ও জামায়াত উভয়কে সুযোগ করে দেয় জাতীয় আবেগকে পুঁজি করে অপরাজনীতির। ফলে সীমান্ত হত্যা অথবা ক্রিকেট খেলায় পাকিস্তানি আম্পায়ারের ভুলের কারণে ভারতের কাছে বাংলাদেশের হার – এমন পরিস্থিতিতে সমাধানমূলক আলোচনার চেয়ে ভারতবিদ্বেষ প্রকট হয়ে ওঠে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং জগতে বহুবার দেখা গেছে, বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ থেকে ক্রমাগত আবেগকে পুঁজি করে ভারতবিদ্বেষ উস্কে দেওয়ার প্রচেষ্টা। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ভারতীয় দালাল’ ট্যাগিং –ও দেওয়া হয় হরেদরে। এমন মনে করার কোনও কারণ নেই, এখানে সবাই রাজনীতি বিশেষজ্ঞ এবং আদ্যোপান্ত  বিশ্লেষণ করে তবেই আওয়ামী লীগ ও কোনও মতামত প্রদানকারীকে ‘ভারতীয় দালাল’ আখ্যায়িত করা হচ্ছে। বরং সেই ১৯৭১ থেকে পাকবাহিনী ও রাজাকার গোষ্ঠীর  ‘ভারতীয় এজেন্ট’ প্রচারণা ও পরে বিএনপির ভারতবিদ্বেষ রাজনীতি আজকে ‘ভারতীয় দালাল’ ধারণাটিকে সবার মনোজগতে প্রতিষ্ঠিত করেছে সফলভাবে।

ভারতের জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে নরেন্দ্র মোদির কট্টর চেহারা দেখা গিয়েছিল। এমনকি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন শঙ্কিত ছিল, মোদি সরকার গঠিত হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে অবনতি ঘটবে এবং হিন্দু-মুসলিম বিরোধ মাথাচাড়া দেবে। কিন্তু মোদি সরকার গঠনের পর প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার সবরকম সবুজ সংকেত প্রদান এখন পর্যন্ত অব্যাহত রেখেছেন।

বিজেপির অনেককে কট্টর ধর্মীয় বক্তব্য দিতে শোনা গেলেও, মোদি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘ভারতীয় মুসলিমরা দেশের জন্য বাঁচেন, প্রাণ দেন’।  রাষ্ট্রের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে রক্ষা করাই রাষ্ট্রপরিচালকের দায়িত্ব। বিপরীতে বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া  বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্ম ইসলামকে পুঁজি করে রাজনীতি করেছেন এবং ’উলুধ্বনি’ তথা হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে দেশে ধর্মীয় বিদ্বেষ উস্কে দিয়েছেন। আজকে দেশে মৌলবাদী সংগঠনগুলোর উলম্ফন, পহেলা বৈশাখকে হিন্দুয়ানা সংস্কৃতি চিন্হিতকরণ, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে স্থাপত্য নিদর্শনকে ’মূর্তি’ চিন্হিত করে তা ধ্বংস কার্যক্রম –  এ সবের পথ সুপ্রশস্ত করেছিল বিএনপি’র ’উলুধ্বনি’ বিদ্বেষী রাজনীতি। আওয়ামী লীগকে বর্তমানে ’নাস্তিক সরকার’ চিহ্নিতকরণে বিএনপি’র অপরাজনীতির ভূমিকাই প্রধান।  জাতীয় নির্বাচনকালে এ কারণে এখনও হিন্দু জনগোষ্ঠীকে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ার দায়ে আক্রমণের শিকার হওয়ার আতংক নিয়ে বাঁচতে হয়।

উলুধ্বনি বিদ্বেষ দিয়ে বিএনপি ভারত বিষোদগারকে জিইয়ে রেখেছে এদেশে। বিভিন্ন সময় বিএনপি যতটা আমেরিকা-লন্ডনমুখী রাজনীতি করেছে, তার চেয়ে বেশি দেখানোর চেষ্টা করেছে ভারতে অনাগ্রহ। তবে প্রণব মুখার্জির সঙ্গে হরতালের অজুহাতে সাক্ষাতের সৌজন্যতা না করে বিএনপি যে ’ভারতীয় দালাল’ নয়, এমন ইমেজ প্রতিষ্ঠা রাজনৈতিক অঙ্গনে ভাল কোনও দৃষ্টান্ত গড়েনি। এ বোধটুকু ঘটামাত্রই বালুর ট্রাকবন্দিত্ব মুক্ত খালেদা জিয়া বার্ন ইউনিটের বদলে আমেরিকা এবং ভারতের কূটনীতিকদের সঙ্গে দেখা করতে তৎপর হয়ে উঠেন।

মোদি আওয়ামী লীগের শুভাকাঙ্ক্ষী হবেন না এমনটা ধারণা করে মোদি সরকারের শপথ সভায় যোগ দিতে বিএনপি গোপনে অনেক চেষ্টা চালিয়েছিল। মোদি সরকার যতটুকু আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ রাখলে চলে, এর বেশি সুযোগ বিএনপিকে দেয়নি, যদিও বিএনপি মোদির মন জয়ে ক্রমাগত তৎপর থেকেছে। ভারতের সঙ্গে বিএনপি’র বন্ধুত্ব আছে এটা বোঝাতেই বুঝি জনতা পার্টির(বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহ খালেদা জিয়াকে ফোন করে খোঁজখবর নিয়েছেন এমন ভুয়া খবর সৃষ্টি করতে হয় বিএনপিকে। ছিটমহল চুক্তি বাংলাদেশ-ভারতের ১৬২ ছিটমহলের ভাগ্যবিড়ম্বিত জনগোষ্ঠীর জন্য মুক্তির আস্বাদ। এই আলোচনার শুরু হয়ত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু, কিন্তু চূড়ান্ত সমাধান হলো হাসিনা-মোদি সরকারের আমলে। শেখ হাসিনা সরকার যেমন, মোদি সরকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন, তেমনি ভারতের সংসদে মোদি সরকার শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। লক্ষ্যণীয় ছিল, ভারতের মন জোগাতে বিএনপি থেকে ধন্যবাদ জানানো হয় শুধু মোদিকে, শেখ হাসিনাকে নয়।

 

শেখ হাসিনাকে সামান্য ধন্যবাদ জ্ঞাপনের সৌজন্যতা দেখাতে ব্যর্থ বিএনপি মোদির বাংলাদেশ সফরে শেখ হাসিনা শলা করবেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে, এমন প্রত্যাশা ফলাও করে মিডিয়াতে প্রচার করছে। মোদির সফরকে ঘিরে বিএনপি নিজের ভারতবিদ্বেষ লেবাসকে বারবার ধুয়েমুছে সাফসুতরাও করছে। এমন বার্তাও বিএনপি সম্প্রতি জোরেশোরে উচ্চারিত করেছে- বিএনপি কখনই ভারতবিরোধী নয়। তাহলে কি বিএনপি ’ভারতীয় দালাল’ হয়ে উঠতে আগ্রহী? সেক্ষেত্রে দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক কূটচালে এ দেশের আপামর গোষ্ঠীর মধ্যে জন্ম নেওয়া ভারতবিদ্বেষের কী হবে এখন? আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি উভয়ই ‘ভারতীয় দালাল’ হয়ে উঠলে কী হবে বাংলাদেশের ভারতবিদ্বেষী বুদ্ধিজীবীদের?

‘ভারতীয় দালাল’ আওয়ামী লীগ প্রতিবেশি দেশ ভারতের সঙ্গে অনেক অমীমাংসিত ইস্যু ধীরে-ধীরে সমাধান করেছে, নয়তো সমাধানে পথ প্রশস্ত করে কূটনৈতিক বৈরিতা কমিয়ে এনেছে। বেগম খালেদা জিয়া কিন্তু প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন (১৯৯২ সাল) ভারত সফর থেকে ফিরে এসে জানিয়েছিলেন, ফারাক্কার কথা বলতে তিনি ভুলে গিয়েছিলেন।

খুবই দুঃখজনক যে, ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশে ‘মসজিদে মসজিদে উলুধ্বনি হবে’ বিএনপির এমন কট্টর সাম্প্রদায়িক রাজনীতিও সফলভাবে প্রভাবিত করেছিল অনেককে। এর সঙ্গে হিন্দুবিদ্বেষ ও ভারতবিরোধিতা অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। বিএনপির  রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা দেশের স্বার্থে প্রতিবেশি রাষ্ট্রবান্ধব নয়। ক্ষমতায় যেতে বিএনপি ভারত বিদ্বেষকে ব্যবহার করেছে। আজকে সেই ক্ষমতার লোভই বিএনপিকে চেহারা পালটে ভারতমুখী দলে পরিণত করেছে। বিএনপির ভারতবিরোধিতা বাংলাদেশের জন্য সুফল বয়ে আনেনি। বিএনপির ভারতপ্রীতি ভঙ্গুর এই দলটিকে জোড়াতালি দিতে কতটা সহায়ক হবে তা মোদি সফর পরবর্তিতে বোঝা যাবে। তবে এটা নিশ্চিত যে, বিএনপির এই সময় সুবিধাবাদী খোলস পরিবর্তন নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধি ব্যতীত রাজনীতিতে সর্বোপরি বাংলাদেশের জন্য কোনও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত বয়ে আনবে না।

 

***

প্রকাশিত: বাংলা ট্রিবিউন, মে ৩০, ২০১৫