ক্যাটেগরিঃ নাগরিক মত-অমত

২১ বছর বয়সী মালয় জিমন্যাস্ট ফারাহ আন আব্দুল হাদি তার নিখুঁত ক্রিড়াশৈলীতে সাউথ ইস্ট এশিয়ান গেমস ২০১৫ আয়োজনে জিতে নিয়েছেন স্বর্ণপদক। এ অর্জন গর্বেরই হওয়ার কথা সকলের জন্য। কিন্তু মালয় মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে ধাক্কা দিল এ নারী ক্রীড়াবিদের পোশাক।

জিমন্যাস্টরা পারফরম্যান্সের জন্য নমনীয় ও আরামদায়ক পোশাকই পরে। ফারাহ ব্যতিক্রম ছিলেন না। তবে তার ক্রিড়ানৈপূণ্যে নয়, পোশাকেই দৃষ্টি দিয়েছেন অনেকে। ফলে ফারাহ শিকার হচ্ছেন অশ্লীল আক্রমণের। মালয়েশিয়ার শীর্ষ পত্রিকাগুলো সংবাদ করছে জিমন্যাস্টিক পোশাকে ফারাহ আন আব্দুল হাদি’র দু’পায়ের মাঝে নারীঅঙ্গের আকার-আভাস নিয়ে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াগুলোকে উদ্ধৃত করে [, ]।  ফারাহকে উদ্দেশ্য করে একজনের মন্তব্য ছিল, তোমার কাপড় খুলে ফেল, যেন সবাই দেখতে পায়। তবে ফারাহকে সমর্থনকারী মন্তব্যেরও কমতি ছিল না। তাও আবার বিভিন্ন শীর্ষ পদে অবস্থানরত নারী-পুরুষদের। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ উইমেনের ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যা মারিনা মাহাথির টুইট করেছেন, যারা একজন ক্রীড়ানড়ের গোপনাঙ্গ খুঁজতে সময় ব্যয় করছেন, তারা দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে কী করেছেন? মালয়েশিয়ার যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী খায়রি জামালুদ্দিনও ফারাহকে সমর্থন জানিয়ে টুইট করেন।

নেতিবাচক মন্তব্যকারীদের উদ্দেশে একজন বলেছেন,  মালয়েশিয়ায় অসংখ্য মালয় মুসলিম ’তালেবান’ রয়েছে।

’মালয়েশিয়া হবে তালেবান’, মালয়েশিয়ার পরিস্থিতি এখনও এমন সংকটের মুখে পড়েনি যদিও, তবে বাংলাদেশকে  ’তালেবানি রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখার স্বপ্নদোষে ভুগছে কিছু গোষ্ঠী। এরই অংশ হিসেবে নারীর পোশাক নিয়ে ছুতোনাতায় চলে মাতামাতি। নারীর পোশাক নিয়ে নসিহত প্রদান নতুন কিছু নয়। রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থার নামে নারীকেই সামলে চলো হুমকি শুনে শুনে চলতে হয়েছে আজীবন। কিন্তু ধর্মব্যবস্থা নাকি সমাজব্যবস্থা কোনটি আসলে নারীর পোশাক নিয়ে বেশি উৎকণ্ঠিত?

মালয়েশিয়াতে নারীরা হিজাব পরিধান করলেও তারা দিব্যি জিন্স, টিশার্ট, স্কার্ট, কোয়ার্টার প্যান্ট পরে। জিন্স পরিধান সেখানে নারীদের ’আধুনিক’ রূপে চিহ্নিত করে না, বরং জিন্স একটি স্বাভাবিক পরিধেয়। যা আমাদের দেশে পরিবারে, সমাজে  দৃষ্টিকটূ মানে।  বস্তুত ১৯৭১ পরবর্তীতে, আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে, ১৯৭৫ পরবর্তীতে দেশে মৌলবাদি গোষ্ঠীগুলো রাজনীতি করার আইনগত সুযোগ প্রাপ্তির পর থেকে আমাদের সমাজে নারীর পোশাকে পরিবর্তন ঘটেছে রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থার ভ্রূকুটি দেখিয়ে।

মা-চাচী, নানী-দাদীদের সাদাকালো ছবিগুলো দেখলে তাদের আজকের নারীদের চেয়ে আধুনিক মনে হয়। সেকালে হাতাকাটা ব্লাউজ পরা নারীটি সাধারণ ঘরেরই হত। আজকাল হাতাকাটা ব্লাউজ-কামিজ পরা মানে পরিবারে, পাড়ায় ঢি ঢি পড়ে যাবে। জিন্স আমাদের সমাজে কেবল ’মডার্ন’ মেয়ের পোশাক। হালে ভূমিকম্পের যাবতীয় বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাকে নাকচ করে ভূমিকম্পের ইসলামি ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছেন পাকিস্তানি মওলানা ফজলুর রহমান- জিন্সই ভূমিকম্পের কারণ। এভাবে ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীটির পোশাকও সামাজিক ব্যাখ্যায় নারী ধর্ষণের একমাত্র, অন্যতম, প্রধান কারণ!

একটি জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলে ইসলামি সওয়াল-জবাব অনুষ্ঠান ছাড়াও কিছু ইসলামি নাটিকা দেখাতো বেশ কয়েক বছর আগে। ওই সময় আবুল কালাম আযাদ উরফে বাচ্চু রাজাকারও ওই চ্যানেলের জনপ্রিয় ইসলামবিদ। সম্ভবত জুম্মাবারে এ ধরনের আয়োজন হতো। অধিকাংশ নাটিকাই ছিল, নারীকে পর্দার মর্ম বোঝাতে। পর্দা না করলে ইভটিজিং হবে। বখাটেদের উৎপাত হবে। দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ওয়াজগুলোর কিছুটা ‘শৈল্পিক’ চিত্রায়ন ছিল ওইসব নাটিকাগুলো। সারমর্ম ছিল সাঈদীর ওয়াজেরই অনুরূপ, কলা ছিলে রাখলে মাছি বসবেই। ওই সময় নাটিকার প্রভাব ততটা দৃশ্যমান না হলেও, গত তিন-চার বছরে হিজাবের প্রচলন বেড়ে যাওয়াতে বোঝা যাচ্ছে, ক্রমাগত নারীকে পর্দার অন্তরালের রাখার ধর্মীয় ও সামাজিক চাপ এবার বড় আকারে কাজে দিচ্ছে।

সৌদি বোরকা বেশ জনপ্রিয় বাংলাদেশে। আজকাল হিজাবও জনপ্রিয়। অবশ্য হিজাব এবং বোরকা এক নয়। হিজাব কেবলমাত্র চুল-মস্তক ঢাকার বস্ত্রখণ্ড। মালয়েশিয়াতে বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশিদের যাতায়াত বেড়ে যাওয়াতে মালয়েশিয়ার নারীদের মত আমাদের দেশেও নারীরা হিজাবচর্চা করছেন। তবে দুনিয়ার সকল দেশের মুসলিম নারীরা একই রকম পোশাক পরিধান করে না। আমার মিসরীয় নারী বন্ধুটি মাথায় স্কার্ফ পড়লেও, সাথে দিব্যি জিন্সের স্কার্ট, কেডস পরছে। বুকে ওড়না দেওয়ার প্রচলন কিংবা বাধ্যবাধকতা উপমহাদেশ ব্যতীত অন্য কোনও দেশে গরহাজির। তাহলে ধর্ম আর রক্ষণশীলতার দোহাই দিয়ে নারীর পোশাক নিয়ে অপরের কেন প্রাণপাত?

নারীকে ভীত করে, পহেলা বৈশাখের চিরাচরিত বাঙালি নারীর সাজসজ্জাকে বিতর্কিত করাই ছিল পহেলা বৈশাখে নারী প্রতি যৌননির্যাতনের বিশেষ উদ্দেশ্য। বাঙালি নারীর শাড়ি পরার ঐতিহ্যবাহী ঢঙ ঢেকে দিতে চাচ্ছে মৌলবাদ। সেদিন নজরে পড়ল, অন্যমেলা বুটিক শপের বনানী আউটলেটের শাড়ি পরা ম্যানিকিনগুলোও আজকাল হিজাব পরছে। আগে স্কুল-কলেজে ইউনিফর্ম হিসেবে বাড়ন্ত মেয়েদের জন্য যুক্ত হত, ওড়না এবং স্কার্ফ। এটাই তো যথেষ্ট ছিল এ সমাজের প্রেক্ষাপটে এবং কোনভাবেই অশ্লীল ছিল না। আজকাল একদম ছোট ক্লাসের মেয়েদেরও দেখা যাচ্ছে স্কার্ফ পরা। তবে এখন আর স্কার্ফ পরার ধরন আগের মতো সাধারণ নেই। এখন প্রায় সব স্কুলের ছোট থেকে বড় ক্লাসের মেয়েরা হিজাবের মতো করে মাথা-ঘাড় পেঁচিয়ে স্কার্ফ পড়ছে।

মৌলবাদী গোষ্ঠী বুঝতে পেরেছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মৌলবাদ প্রতিষ্ঠা সহজ এবং এর প্রভাব সুদূর প্রসারি। মৌলবাদ হতে মুক্তিতেও এই পদ্ধতি কার্যকর হবে, যা এড়িয়ে গেছে রাষ্ট্র, সুশীল সমাজ, পাঠ্যসূচী প্রবর্তনকারীরা, মিডিয়া, বুদ্ধিজীবীরা, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

বস্তুত আমরা ধোঁয়াশাচ্ছন্ন সমাধান খুঁজি। অস্পষ্ট আলাপ করি। তাও ভাল আজকাল ভারতসহ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ সমাবেশের দেখাদেখি আমরাও প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে বলছি, ডোন্ট টেল মি হাউ টু ড্রেস; টেল দেম নট টু রেপ। কিন্তু এর কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে না। আর এই না যাওয়ার কারণ হলো রাষ্ট্র ’চুপ’ মেরে আছে। ধর্ষকদের আটক করে শাস্তিও হচ্ছে না, ধর্ষকামী সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনে কার্যকরি পদক্ষেপও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বরং সরকারের পক্ষ থেকে একপ্রকার পৃষ্ঠপোশকতা রয়েছে। নয়তো,  মাদ্রাসা পাঠ্যসূচির পরিমার্জিত সংস্করণে চিরায়ত বাঙলার গাঁয়ের বধূর অল্প দেখা যাওয়া পিঠ ঢেকে দেওয়ার  চিন্তা হবে কেন? কেনই বা রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকরা পাঠ্যসূচির প্রচ্ছদে আঁকা হাফপ্যান্ট পরা গ্রামের কিশোরী মেয়েকে হিজাব পরিয়ে দিতে চান?

মৌলবাদী প্রচারণা ও হালহকিকত যখন এই, তখন হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ও ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে মেয়েদের পোশাক নিয়ে নেতিবাচক সৃজনশীল প্রশ্নপত্র অবাক করে না। যে কারও ভুলে যাওয়ার কথা নয়, ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষক পরিমল জয়ধর কর্তৃক স্কুলের শিক্ষার্থীকে একাধিকবার যৌননির্যাতন করার সংবাদ প্রকাশিত হলে অধ্যক্ষ হোসনে আরা ঘটনাটিকে মিউচুয়্যাল সেক্স আখ্যা দিয়েছিলেন। অর্থ্যাৎ মৌলবাদী লেবাসের বাইরেও আধুনিক লেবাসের মৌলবাদ গেঁড়ে আছে সমাজে।

রাষ্ট্র একরকম আত্মসমর্পিতে এইসব মৌলবাদি পর্দা ফতোয়ার কাছে। নয়তো শফি হুজুর নারীদের তেঁতুলতুল্য বলে পর্দা শেখানোর ভাষণ দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা কেন হয় না?  কী করে আমরা ভুলে যাই, শফি হুজুরের ইশারায় পথে নেমেছিল তার অনুসারিরা আর চলতি পথে গাড়ি, সিএনজি, রিকশা থামিয়ে মেয়েদের মাথায় কাপড় দিতে বলেছিল, একলা চলাফেরা করতে নিষেধ করেছিল? এই ঘটনা আইনত একটি অপরাধতুল্য এবং এর পেছনে উস্কানিদাতাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিৎ ছিল। কিন্তু রাজনীতির ফেরে সেই শফি হুজুরের কাছে দোয়া চাইতে যান, চট্টগ্রামের সদ্য নির্বাচিত মেয়র। এরকম মেরুদণ্ডহীন প্রশাসন কী করে নারীর নিরাপত্তা দেবে? কী করে রুখবে নারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া পোশাক ফতোয়া?

বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা ‘রক্ষণশীল’, এ কথার মধ্যে কোন গর্ব নেই। এই তথাকথিত রক্ষণশীলতার মাঝে কোনও  মানবিকতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, ব্যক্তিঅধিকার নেই। এই রক্ষণশীল সমাজ নারীকে ব্যক্তি হিসেবে গণ্যই করেনি। ’রক্ষণশীল সমাজ’ একটি সামাজিক ফতোয়া, যা নারীকে দমনপীড়নের জন্য সমাজের একটি কাঠামোগত রাজনীতি।  যে দেশে ৭ বছরের কন্যাশিশু ধর্ষিত হয়, যে দেশে অশীতিপর বৃদ্ধা ধর্ষিত হওয়ার নজির রয়েছে, সে দেশে নারীর পোশাক নিয়ে কথা তুলে ধর্ষণকে প্রশ্রয় দেয়ার ধৃষ্টতা দেখায় কোন সে ‘সামাজিক-ধর্মপ্রাণ জীব’?

ভারতীয় সংসদে নারী সাংসদ কিরন খের দ্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছিলেন, জিন্সের সাথে ধর্ষণের কী সম্পর্ক? আমাদের নারী সাংসদরা সংসদে একদিন একজোট হয়ে আঙ্গুল তুলে শাসিয়ে দিতে পারেন নাকি এইসব ফতোয়াবাজদের? ইতিপূর্বে এ নিয়ে কলাম লিখেছিলাম, ’জাগো নারী সাংসদেরা, জাগো’। একই প্রত্যাশা এখনও রাখছি।

ভারতের মানবাধিকার, আইন, কুসংস্কার, রক্ষণশীলতা ইত্যাদি নিয়ে ইউটিউবে বহু শর্টফিল্ম পাওয়া যায়। ভারত সরকারের সচেতনতা ক্যাম্পেইন এর পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত হয় এমন শর্টফিল্মগুলো। অধিকাংশ শর্টফিল্ম ইউটিউবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, আলোচিত হয়েছে,  সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। বাংলাদেশে সরকার গৎবাঁধা কিছু নাটিকা নির্মাণ করে নারী নির্যাতন নিয়ে, যেগুলো সরকারি-বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হয়, তবে কোনটাই  আলোচনায় আসে না। বরং দেখা যায়, আমরা ফেসবুকে ভারতের ভিডিও ক্যাম্পেইনগুলোই শেয়ার করি। তাহলে বাংলাদেশে ভাইব্রেটিং কোনও ক্যাম্পেইন নেই নারীর ওপর যৌননির্যাতন নিয়ে? পোশাক ফতোয়া নিয়ে?

প্রচারণার এই শূন্যতা ও গাফিলতিকে দিশা দিতে হবে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নির্মিত হোক সচেতনতামূলক ভিডিও ক্যাম্পেইন। ভিডিওগুলো প্রদর্শিত হোক স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে। এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। এমনকি সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়গুলোতেও। রাখঢাক করে নয়, পশ্চাদমুখী রক্ষণশীল সমাজের ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর যুথবদ্ধতায় গড়া   ’সহিহ পোশাক‘ ফতোয়ার বিরুদ্ধচারণ করতে হবে জোর গলায়।  এতটাই জোরে যেন, সমাজের রক্ষণশীল, ধর্ষকামী চিন্তাজগতে এবার সত্যিকার অর্থে কম্পন ধরে যায়। নারী ফ্যাশনেবল পোশাক পড়বে, নারী তার জন্য যা আরামদায়ক সেই পোশাক পড়বে। রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতেই হবে- নারীর সহিহ পোশাক নির্বাচনের অধিকার কেবলমাত্র নারীর।

পুনশ্চঃ অভিনন্দন জানানো ব্যতীত যারা ফারাহ আন আব্দুল হাদির জিমন্যাস্টিক পোশাক ও পোশাকের ভাঁজে তার যৌনাঙ্গ নিয়েই বিরূপ নসিহত প্রদানে আগ্রহী ছিলেন, তাদের উদ্দেশে ফারাহ টুইট করেন, ভাঙ্গা কলস বাজে বেশি (Empty cans make the most noise)।

 

***

প্রকাশিত: বাাংলা ট্রিবিউন, জুন ১৪, ২০১৫