ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

রবিবারের আন্দোলন কর্মসূচী অথবা অবস্থান ধর্মঘট ঘোষিতই ছিল। অনেকে যতটা জনদুর্ভোগ জনদুর্ভোগ করে আন্দোলনকে নেতিবাচক অর্থে পরিচিত করাতে চান, মূলত পাবলিক আন্দোলনকারীদের নিয়ে ক্ষুব্ধ না। এমনকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়িতে, বাসে জ্যামে বসে থেকে, গরমে ঘামতে থেকে, পায়ে হেঁটে যেতে যেতেও জনতা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কটু কথা বলেনি। বলেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এই আন্দোলন সরকারের নীতিমালার ব্যর্থতা, পরিকল্পনার ব্যর্থতা, সরকার ও শিক্ষার্থীদের, বলা ভাল নাগরিকের মাঝে যোগাযোগ স্থাপনের ব্যর্থতার কারণে সৃষ্ট, এটা জনতা ঠিক মতই বুঝতে পারছে। ফলে যাদের রোগী বহনকারী ব্যক্তিগত গাড়ি অলিততে, গলিতে ঘুরে ঘুরেও গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে যখন আন্দোলনকারীদের অবস্থান স্থলের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার কালে শিক্ষার্থীরা ছাড়পত্র হিসেবে গাড়ির গায়ে স্প্রে করে নো ভ্যাট লিখে দেয়, তখনও কেউ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করে না, বরং পরিস্থিতির জন্য সরকারের মুখপাত্রদেরই দায়ি করে।

 

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গতানুগতিক শাহবাগ কেন্দ্রীক রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক প্রতিবাদ সমাবেশ নয়। বিভিন্ন সময় শাহবাগের বিভিন্ন ইস্যুর প্রতিবাদ সমাবেশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারি, শাহবাগ একটি ইজি ক্রাউড প্লেস। ইজি মিডিয়া এটেনশন প্লেস। কিন্তু কারো বোধকরি এত স্পষ্ট ধারণা ছিল না, এভাবে প্রগতি স্মরণীতে, উত্তরার কোন এক মোড়ে, ধানমণ্ডিতে, গ্রীনরোড়ে ন্যায্য দাবিতে একযোগে আন্দোলন চালনা করা যায়।

 

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাস ভাঙচুর করেনি। অযথা হম্বিতম্বি নেই। তাদের আন্দোলনের পরিবেশ আন্তরিক, এমনকি সুশৃঙ্খলও। কেবল শাহবাগ এলকাটি মিডিয়ার পছন্দের বলে, সেখানে জনতার দুর্ভোগ মিডিয়ার চোখে পড়ে না। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন মিডিয়া প্রচারণা ভর করে সাড়া জাগায়নি। এই দাবির ন্যায্যতা, সুশৃঙ্খল আন্দোলন চালনাই একে গ্রহণযোগ্যতা দিয়ে জনতার কাছে।

 

আমি খুব সহজেই গ্রীণরোডে শিক্ষার্থীদের জমায়েতের মধ্যে দাঁড়িয়েছি। শিক্ষার্থীরা আগ্রহ ভরে প্ল্যাকার্ড ধরে দাঁড়িয়েছে।   কয়েকজন চমৎকার ব্যবহারে আলাপ করতেও এগিয়ে এসেছে। তারা এও জানিয়েছে, তারা সচেতন জনতার দুর্ভোগ নিয়ে। এমনকি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যারা দাঁড়িয়ে আছে তাদের সাথেও তারা সুব্যবহার করছেন। একজন শিক্ষার্থী জানালেন, তারা চেষ্টা করেছেন পথচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কারো কারো আলাপ করতে যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কোন অযাচিত আচরণ হচ্ছে কিনা তাদের সাথে। সকলেই এক বাক্যে জানিয়েছেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাদের অভিযোগ নেই।

 

গ্রীনরোডের মোড় আসলে অনেকটা চৌরাস্তার মত। প্রতিটি মোড়ের মুখে ছাত্রছাত্রীদের জমায়েত। ক্ষণে ক্ষণে স্লোগান। আন্দোলনের একেবারে মধ্যে দাঁড়িয়ে  মোবাইল ক্যামেরায় ধারণকৃত কিছু মুহূর্ত।

 

1

ছবি: যে গাড়িগুলোকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝ দিয়ে চলাচলের জন্য ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে, তার গায়ে লিখে দেয়া হচ্ছে স্লোগান – নো ভ্যাট!

 

2

ছবি: গ্রীনরোড় মোড়ের সড়কদ্বীপের একটি সাইনবোর্ডে শিক্ষার্থীদের স্লোগান।

3

ছবি: বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা সংহতি জানাতে এসেচিল আন্দোলনে। তাদের সবারই ছিল দাবি আদায়ের স্লোগান।

4

ছবি: প্রখর রোদের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে গেছে। অনেকে উদোম গায়েও লিখেছে নো ভ্যাট। অনেকে গায়ের টি-শার্টে।

5

ছবি: শিক্ষার্থীরা বুদ্ধিদীপ্ত। উশৃঙ্খল নয়, তবে বিদ্রুপাত্মক। ফলে আন্দোলনের স্লোগানে স্যাটায়ার তো যুক্ত হতেই পারে – শিক্ষা লই চুদুর বুদুর চইলতোনো চইলতোনো!

6

ছবি: সত্যিকার অর্থেই এটি কোন সরকার বিরোধী আন্দোলন নয়। কিন্তু সরকার মুখপাত্রদের অসংলগ্ন বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্বহীন আচরণের কারণে শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ে এখনো রাজপথে।

7

ছবি: উন্নত রাষ্ট্র গড়তে হলে সরকারকে শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শিক্ষাখাত থেকে উপার্জন করার চিন্তা বাদ দিতে হবে। শিক্ষিত সমাজই রাষ্ট্রের মূলধন।

8

ছবি: গ্রীনরোড় চৌরাস্তার একটি মুখে শিক্ষার্থীরা ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে।

9

ছবি: গ্রীনরোড চৌরাস্তার অপর আরেকটি মুখে শিক্ষার্থীদের অবস্থান এবং সাথে চলছে স্লোগান।

10

ছবি:  দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট উচ্চারণ স্লোগানে স্লোগানে – বাপের টাকা ঘুষের না, ভ্যাট মোরা দেব না।

11

ছবি: নো ভ্যাট অন এডুকেশন – এই দাবিতে রাজপথ মুখরিত।

12

ছবি: শিক্ষায় ভ্যাট কেন? এর কোন সদুত্তর দিতে পারেনি ভ্যাট প্রস্তাবকারি সরকারি মুখপাত্ররা।

7

ছবি: সরকারকে তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ব বুঝতে হবে। তাদের অধিকারকে রক্ষা করতে হবে। তবেই মূলত একটি সরকার আধুনিক রাষ্ট্র গড়তে পারে।

13

ছবি:  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মমাফিক সেমেস্টার পদ্ধতি, অরাজনৈতিক অঙ্গনকে কোন বিশেষ স্বার্থে ব্যবহারের জন্য কেউ ভ্যাট  প্রবর্তনের বুদ্ধি দিচ্ছে কি সরকারকে? 

14

ছবি: প্রাইভেটে বড়লোকের সন্তানেরা পড়ে, এমন বক্তব্য সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া অনুচিত এবং আপত্তিকর। বিত্তবান হলেই ভ্যাট দেয়ার ন্যায্যতা তৈরী হয় না।

 

আমি আমার আলমা ম্যাটার নিয়ে গর্বিত। আমার উপার্জিত অর্থ ঘুষের না। এবং আমি ভ্যাট দেব না।