ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

eid-sufferings-photo-2

রক্তস্রোতে ভাসা শহরের আলোকচিত্র ফেসবুকে প্রচারের সময় যদি নিজের মনে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য জাগে, তাহলে নিজের অনুভূতি যে এলার্মিং লেভেলে রয়েছে, সে সম্পর্কে সতর্ক হোন প্রথমেই। যে ’রক্ত’ খোদ সৃষ্টিকর্তাও গ্রহণ করেন না বলে জানান দেন, সে ’রক্ত’ গায়ে মেখে দাঁড়িয়ে সেফলি তুলে অথবা রাজপথে ভাসিয়ে তাতে ধর্মীয় ভাবাবেগ চাপিয়ে দেয়াটা ধর্মীয় অন্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। যে দৃশ্যটি শরীর ও মনের জন্য অস্বাস্থ্যকর, তাকে অস্বাস্থ্যকর বলতে পারাটাই স্বাস্থ্যকর। শুভ।

রক্তস্রোতে ভাসা নগরীর জন্য বৃষ্টিকে যেহেতু দায়ী করে লাভ নেই, তাই সকলে সিটি করপোরেশন এবং মেয়র সাহেবকে এক নাগাড়ে দায়ী করে করছেন। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ বাস করা শহরে একজন যোগ্য মেয়রেরও বেগ পেতে হবে এমন কিছু সমস্যার সমাধানে। অধিক বৃষ্টিতে নগরীতে পানি জমার দৃশ্য নতুন কিছু না। এবং মালয়শিয়া, ভারত, সৌদি, আমেরিকা এসব উন্নত দেশের শহরও বন্যা, পানি জমায় আক্রান্ত হচ্ছে।

শান্তিনগরের গলিতে রক্তাভ পানি দেখে কেউ কেউ নাগরিক সচেতনতার নামে মেয়র ও সিটি করপোরেশনকে দোষারোপ করছেন। নগরীর অনুন্নত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে দুষছেন। কিন্তু ঈদের দিনের এই দৃশ্যের জন্য খোদ নাগরিকও যে দায়ী সে আওয়াজ দেবে কে?

নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি নিয়ে অধিকাংশের ধর্মীয় অনুভূতির নামে অনীহাও গতকালের রক্তাভ দৃশ্য গড়েছে। যদিও ২-৩ বছর ধরে ক্ষীণ স্বরে প্রশাসন প্রসঙ্গটি তুলেছে, শেষ পর্যন্ত সিটি করপোরেশন  এ বছর প্রজ্ঞাপন-বিজ্ঞাপন দিয়ে সচেতন করছে নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি দিতে। এখন নাগরিক নিজে যদি দায়িত্ববান না হন, তবে এমন অস্বাস্থ্যকর  দৃশ্য দেখতেই হবে। দেখতে হবে রক্তস্রোত পার হয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষের, গাড়ির, রিকশার গা শিউরানো অরুচিকর দৃশ্য।

বিষয়টা কেবল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নয়, অলিগলি, রাস্তায়, বাড়ির সামনে ব্যতিরেকে নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি দেয়াও। সুতরাং, নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি দিন। সিটি করপোরেশনের কাছে দাবি তুলুন শহরে ও শহরেরও বাইরেও নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি দেয়ার সরকারি-বেসরকারি কেন্দ্র গড়ে তুলতে।