ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

*** *** ****
পূর্ববর্তী পোস্ট : পারসোনা কি তবে পর্নগ্রাফি সরবরাহকারী!
*** *** ****

অনেকেই বলে থাকেন, মেয়েদের সেলুনে না গেলে কী হয়? সেলুনে অতি আধুনিকা কিংবা উগ্র মেয়েরাই যায় বলেও মনে করেন অনেকে। অথচ, নরসুন্দর, সুশীল, নাপিত এগুলো আজকের পেশা নয়। সাধারণ ঘরের মেয়েটিও চেষ্টা করে মাসে একবার ফেসিয়াল করিয়ে নিতে। অফিস ও ঘরের কাজের ব্যস্ততায় যে নারীর ত্বক মলিন হতে বসেছে, তিনিও চেষ্টা করেন পার্লারে গিয়ে সময় করে ত্বকচর্চার কাজটি সেরে নিতে। বিষয়টি শুধু নারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি কখনোই। নারীদের জন্য যেমন পার্লার আছে, তেমনি পুরুষদের জন্যও পার্লার আছে। অন্যদিকে অত্যাধুনিক চেহারার বিউটি সেলুন ব্যবসা হিসেবে একটি সামাজিক মর্যাদা গড়ে নিয়েছে। বিউটি পার্লার ব্যবসায় জড়িয়ে আত্মকর্মসংস্থান হচ্ছে অসংখ্য জনের। পার্লারগুলোতে সপ্তাহের যে কোন দিন গ্রাহকের আনাগোনা লেগেই থাকে। পারসোনা হলো সেরকমই গ্রাহক ঠাসা একটি পার্লার! গত দুই-তিন বছরের মধ্যে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে পারসোনার এতগুলো আউটলেট উদ্বোধন হয়েছে, তাতেও ভিড় ঠেকানো যায়নি। কারণ পারসোনা হলো ’ব্রাণ্ড’ প্রতিষ্ঠান! কারণ পারসোনা হলো স্টাইল আইকন! কারণ পারসোনা নারীর সৌন্দর্য বোঝে!

একটু পেছন ফিরে দেখা যাক। অন্তত পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে এমন একটা-দুটো ঘটনা অনেকেই মনে করতে পারবেন যেখানে, পুলিশের রেইডে বিউটি পার্লারে অবৈধ কার্যকলাপ ধরা পড়েছে। তবে সে সব খবরে সবাই এতো বেশি আতংকিত হয়নি, এমনকি যেসব নারী নিয়মিত বিউটি সেলুনে যান, তারাও না। কারণ, ওই সব পার্লারগুলো এলাকার অখ্যাত পার্লার! যেহেতু আমরা ’ব্র্যান্ড’ প্রেমী তাই ওসব পার্লারে সচেতন গ্রাহকদের আনাগোনা হয়না সাধারণত। বিখ্যাত ব্রান্ড প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরণের কিছু হবে না বলেই বিশ্বাস থাকে গ্রাহকদের। তাই দু’চার পয়সা বেশি দিয়ে হলেও একটা ভাল সেলুনে যান গ্রাহকেরা। গ্রাহকদের প্রত্যাশা এটাই থাকে প্রতিষ্ঠান গ্রাহককে নিষ্ঠার সাথে সেবা প্রদান করবে।

যদি ভেজালের যুগে পারসোনার মত প্রতিষ্ঠানে ফেসপ্যাকে, হেয়ার প্যাকে ভেজাল মেশানোর অভিযোগ চাউর হতো, তবে সেটা গ্রাহকের আস্থার জায়গায় কিছুটা আঘাত করলেও ভেজালে অভ্যস্ত গ্রাহকের প্রতিক্রিয়া হয়ত অনেক উচ্চমাত্রায় হতো না। যা হোক, বস্তুত সে রকম কোন অভিযোগ পারসোনার বিরুদ্ধে ওঠেনি। কিন্তু যে অভিযোগ উঠেছে, তা গ্রাহক আস্থাকেই কেবল নষ্ট করেনি, পাশাপাশি সৃষ্টি করেছে ভয়াবহ আতংক। পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত যৌক্তিক বক্তব্য না পাওয়াও গ্রাহক থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজের পুরুষ-নারী সকলের মনে জন্ম নিয়েছে চরম ঘৃণাও। সবটাই পারসোনাকে কেন্দ্র করে। এবং যেহেতু পারসোনা, তাই সবটাই এ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার কানিজ আলমাসকে কেন্দ্র করেও।

ইতিমধ্যে মূল ঘটনা ও এর বিপরীতে প্রতিক্রিয়া আমরা বিকল্প গণমাধ্যম হিসেবে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুক ও বাংলা ব্লগগুলো থেকে জেনে গেছি। গণমাধ্যমে প্রচারিত/প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে দেখেছি/পড়েছি। একজন গ্রাহক তার স্পা কক্ষে ক্যামেরা বসানো দেখতে পান। এরপর তার স্বামী ক্যামেরায় ধারণকৃত তার স্ত্রীর স্পা-সেবা নেয়ার দৃশ্য উদ্ধার করেন। যদিও এই দম্পতি কোনরূপ মামলা করবেন না সামাজিক দিক বিবেচনা করে, তবে তারা পারসোনার এ ধরনের আচরণে বিক্ষুব্ধ। নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তারা বারবার সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সকলকে।

সমস্যা হলে পুরো বিষয়টি নিয়ে পারসোনা কিংবা কানিজ আলমাসের বক্তব্য কোন ভাবেই সন্তোষজনক নয়। যদিও পারসোনা তথা কানিজ আলমাস কিছু অকেজো কথা দিয়ে বিষয়টিকে ’এমন কিছু না’ পরিস্থিতিতে নিয়ে যেতে চাইছেন। যেহেতু, অভিযোগকারী উক্ত দম্পত্তি মামলা করছেন না, এটাকেও পারসোনা সম্ভবত তাদের পক্ষের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টারত। কিন্তু সকলের সন্দেহ তো তাতে মিটছে না। মিটবেও না। পারসোনার এখন পর্যন্ত আচরণ বরং সন্দেহ আরো ঘনীভূতই করছে। ক্যামেরা সরানো হবে না বলে কানিজ আলমাসের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যও পুরো বিষয়টিকে আরো ঘোলাটে করে তুলেছে।

গ্রাহকের যে কোন অভিযোগ-অনুযোগে সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নমনীয় সুরে কথা বলবেন, প্রত্যাশা থাকে এমনটাই। গ্রাহকের অভিযোগ গুরুতর হলে, সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রাহক এই অভিযোগের সাথে একমত পোষন করলে, সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে পুংখানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ দিতে বাধ্য থাকতে হবে এবং তা অবশ্যই যৌক্তিক ও সন্তোষজনক হতে হবে। এটাই বিজনেস স্ট্র্যাটেজি; বিজনেস ম্যানার। সেরা ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব কানিজ আলমাস তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে গিয়ে সম্ভবত সেই ’বিজনেস ম্যানার’ বিষয়ে স্মৃতিভ্রষ্ট হয়েছেন। ফলে তাকে সেসব মনে করিয়ে দেয়া জরুরী। প্রথমেই তাকে বলা দরকার, কানিজ আলমাস, লো ডাউন ইয়োর ভয়েস। ক্যামেরা সরানো হবে না বলে বক্তব্যের জন্য [খবর সূত্র: , ] ক্ষমা প্রার্থনা করা জরুরী আপনার।

কানিজ আলমাস মনে করেন, স্পা কক্ষে সিসি ক্যামেরা থাকলে, স্পা সেবা গ্রহণরত গ্রাহকের ভিডিও রেকর্ড হলে কোন ধরণের প্রাইভেসি লংঘন হয় না। ’প্রাইভেসি লংঘন’ বিষয়ে এমন ন্যাক্কারজনক বক্তব্য তুলে নেয়াটাই সমীচিন কানিজ আলমাসের জন্য। একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী যদি ’গ্রাহক প্রাইভেসি’ বিষয়ে এরূপ মন্তব্য করে থাকেন, তবে সেই ব্যবসায়ী কর্তৃক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কোন ধারায় পরিচালিত হতে পারে তা বুঝতে বেগ পেতে হয় না। এক্ষেত্রে, ধরে নিতে হবে কানিজ আলমাস পুরোপুরিভাবে ’বিজনেস ইটিকেট’ ভ্রষ্ট হয়েছেন ।

যদিও প্রথমের সেই ‘টেকনিশিয়ানের অনিচ্ছাকৃত ভুলে ক্যামেরা ঘুরে গেছে’ জাতীয় ‘সো কল্ড’ কথাবার্তা এখন আর পাওয়া যাচেছ না কানিজ আলমসের বক্তব্যে, তবে ‘হিডেন ক্যামেরা নয়, নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা’ -এমন ন্যাকামো বক্তব্য এখন পর্যন্ত দিয়ে যাচ্ছেন কানিজ আলমাস। এ প্রসঙ্গে, যিনি ক্যামেরাটি স্পা কক্ষে দেখেছিলেন, সেই গ্রাহকের বক্তব্য হলো –

সিসি ক্যামেরা অবশ্যই সিকিউরিটির জন্য। কিন্তু কিসের সিকিউরিটি? ওখানে তো আমি আমাকে দেখতে পাচ্ছি!

পারসোনায় উদ্ভূত পরিস্থিতি, তারপর থেকে পারসোনার আমতা আমতা অযৌক্তিক বক্তব্য বিচার করে তাদের পরস্পর বিরোধী কার্যকলাপগুলো মেপে নেয়া যাক।

১। পারসোনা তাদের ফেসবুক পাতায় জানিয়েছিল, গ্রাহকদের মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে তারা সিসি ক্যামেরা বসিয়েছে। এখন তারা বলছেন [খবর সূত্র: , ], পারসোনার বনানী ব্রাঞ্চে চুরি হওয়ায় তারা সিসি ক্যামেরা বসিয়েছেন। দুই পরিস্থিতিতে পারসোনার রিসিপশন, পারসোনার সদর দরজা ক্যামেরার আওতায় রাখা যেতে পারে। স্পা/ফেসিয়াল সার্ভিস কক্ষের দরজা বা এসব কক্ষের আশেপাশে/করিডরে/ভেতরে ক্যামেরা বসানো পারসোনা কর্তৃপক্ষের অবশ্যই আপত্তিকর ও অনৈতিক আচরণের অর্থ বহন করে।

২। ক্যামেরা যদি স্পা/ফেসিয়াল সার্ভিস করিডোর, স্পা কক্ষের দরজা, এটুকুও কাভার করে, তবে সেটাও গ্রাহকের প্রাইভেসি লংঘনের সামিল। কারণ গ্রাহকেরা স্পা/ফেসিয়াল পোষাক পড়ে এক সার্ভিস এরিয়া থেকে অন্য সার্ভিস এরিয়াতে যায়। তারমানে পুরো অংশটি ভিডিও হচ্ছে এবং পারসোনার সিসিক্যামেরা মনিটরকারিরা তা দেখছে!

৩। স্পা/ফেসিয়াল কক্ষের অনেক দরজায় বেশ স্বচ্ছ/অর্ধস্বচ্ছ পর্দা দেয়া থাকে। গ্রাহকেরা কক্ষে পোষাক পরিবর্তন করলে, সার্ভিস বেডে শুয়ে/বসে থাকলে সেটা বাইরে থেকে দরজার দিকে ফোকাস করে রাখা ক্যামেরাতেও ঠিকই ধরা পড়বে।

৪। যে গ্রাহকের স্পা ভিডিও তার স্বামী দেখেছেন এবং উপস্থিত অনেকেই দেখেছেন ও প্রাইভেসি লংঘন ও আপত্তিকর বলে মানছেন, তা কানিজ আলমাসের কাছে তেমন গুরুত্বই পাচ্ছে না! উপরন্তু তিনি নিজের গলা বাড়িয়েচড়িয়ে বলছেন, ভিডিওতে আপত্তিকর কিছু নেই, কেবল গ্রাহকের গলা পর্যন্ত দেখা যায়। প্রশ্ন হচ্ছে, ভিডিওতে গ্রাহকের গলা পর্যন্তই বা কেন দেখা যাবে? এবং এভাবে গ্রাহককে সেবা নেয়াকালীন ক্যামেরার আওতায় আনা রীতিমত আপত্তিকর আচরণ ও গর্হিত অপরাধ। সামহোয়্যার ইন ব্লগে একজন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ব্লগার চরম বিরক্তি নিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়েছিলেন, গলা পর্যন্ত যে দেখা গেছে, সেটা কি পা থেকে গলা পর্যন্ত?

তবে সময় বেশ খানিকটা পার হওয়ায় কানিজ আলমাস তার কথার সাথে কথার সুতো জুড়ে নেয়ার একটু অবকাশ পেয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। সেই ঝলকই দেখা যাচ্ছে, সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০১১ তারিখে মানব জমিনে প্রকাশিত তার সাক্ষাৎকারে [লিংক]! একটা কথা আছে, উল্টা চোর কোতোয়ালকো হি ডাটে! মানে, চোরই পুলিশের উপর হম্বিতম্বি করছে! কানিজ আলমাসের বক্তব্য আসলে সেটাই প্রমাণ করছে! উল্টো তিনিই প্রশ্ন করছেন, কী হয়েছিল সেদিন আসলে? তিনি বিক্ষুদ্ধ দম্পত্তির আচরণকে ’লঙ্কাকাণ্ড’ সম্বোধন করছেন এখন! কানিজ আলমাসের জানা উচিৎ, এ ধরণের বক্তব্য ধৃষ্টতার সামিল!

কানিজ আলমাস এখন বোঝাতে চাচ্ছেন, বনানীতে স্পা নেই। কিন্তু স্পা না থাকলেও তো ঘটনা এমন কিছু পরিবর্তন হয় না কানিজ আলমাস! কারণ অন্য সার্ভিস তো আছে। নানা ধরণের ফেসিয়াল আছে। এবং দামের তারতম্য অনুযায়ী সেসব সার্ভিসের জন্য বিশেষ বিশেষ নির্ধারিত কক্ষও আছে। কক্ষে বেড থাকে, বাথ টাব থাকে। সুতরাং, বনানী ব্রাঞ্চে স্পা -ই, নেই এমন শিশুসুলভ কথাবার্তায় মূল ঘটনা পাশ কাটানোর চেষ্টা না করাই শোভনীয়। কানিজ আলমাস প্রয়োজনে পারসোনার বনানী ব্রাঞ্চে সেবাগুলোর পুরো তালিকা তুলে দিতে পারেন মানবজমিন পত্রিকার মোহাম্মদ আওলাদ হোসেনের কাছে একটি পুন:সাক্ষাৎকারে। । তাহলে, আলোচনা করতে আরো সুবিধাই হবে।

যদিও টিভি রিপোর্টগুলোতে পুলিশ প্রশানের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বিপরীতে পুরো গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের আস্থাহীনতা দেখা গেছে। মানবজমিনে প্রকাশিত উক্ত সাক্ষাৎকারে গ্রাহক তালিকার যে ফিরিস্তি কানিজ আলমাস দিয়েছেন, সেটা পড়তে গিয়ে ব্লগার রিজভী‘র একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস উল্লেখ করা অত্যাবশ্যকীয় হয়ে গেল এখানে। স্ট্যাটাসটা এরকম –

যতটুকু জানি, মিডিয়ার প্রায় সব পক্ষকেই কানিজ আলমাস ম্যানেজ করেছেন। সুতরাং পারসোনা সম্পর্কে আর কোন ধরণের নেগেটিভ নিউজ আসবে না বলেই ধরা যেতে পারে। এক্ষেত্রে অন্যান্যদের মধ্যে পারসোনার মতন বিউটি পার্লারগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাটাই জরুরী…

এমনকি পুলিশও জানিয়েছেন, ক্যামেরার যে অবস্থান তা দিয়ে পুরো কক্ষ কাভার করা সম্ভব। পুলিশ এও বলছেন, এ ধরণের জায়গায় ক্যামেরা বসানো ‍উচিৎ হয়নি। কিন্তু এই অনুচিৎ, আপত্তিকর আচরণটি স্বীকার করছেন না পারসোনা কর্ণধার কানিজ আলমাস! ০২ অক্টোবর একুশে টিভির একটি প্রতিবেদনে পুলিশ/ডিবি কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন, তারা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন, ভিডিও ও এর অপব্যবহারের কোন ঘটনা প্রমাণ হলে যত বড় প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেহেতু, অভিযোগকারী দম্পতি সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে মামলা করছেন না, তাই পুলিশকেই এমন নাগরিক উদ্বেগকারী ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

কানিজ আলমাসের কাছে যে প্রশ্নগুলো জনে জনে রাখছে –

* পারসোনায় গ্রাহকদের ব্যক্তিগত জিনিস রাখার জন্য লকার করা হয়নি কেন?
* সিসি ক্যামেরা আছে, এমন জায়গাগুলোতে ‘this place is under surveillance’ এর মত সতর্ক নোটিশ রাখা হয়নি কেন?
* যে কর্মীরা ভিডিও সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে তাদের ব্যাপারে কী ব্যবস্থা গৃহিত হলো?
* কোন প্রতিষ্ঠানের, কোন টেকনিশিয়ান ক্যামেরা করে সেট করে দিয়েছে?
* আমরা ধরে নেই, কেষ্ট ব্যাটাই চোর! তাহলে সেই টেকনিশিয়ানের বিরুদ্ধে কাজে গাফিলতি করা নিয়ে শো-কজ করবেন কি কানিজ আলমাস?
* ক্রুটিপূর্ণ ক্যামেরা সম্পর্কে ডিউটিরত কর্মচারীরা রিপোর্ট করেনি কেন?
* চিকিৎসক গ্রাহকের স্বামীর প্রশ্ন, যদি ব্যাড ইনটেনশন না থাকে তাহলে ওই কক্ষের ক্যামেরা দ্রুততার সাথে সরিয়ে নেয়া হলো কেন?
* যেখানে গ্রাহকদের প্রাইভেসি ক্ষুন্ন হচ্ছে, সেখানে সিকিউরিটির কথা বলে ’ক্যামেরা সরানো হবে না’ জাতীয় ঔদ্ধতপূর্ণ মন্তব্য করে নিজেদের কোন জরুরী সিকিউরিটি রক্ষা করতে হচ্ছে পারসোনাকে?

কানিজ আলমাস অবশ্য গ্রাহকদের উৎকণ্ঠা, আতংকের যৌক্তিকতা নিয়ে চিন্তিত নয়। নারীর সৌন্দর্য বুঝতে পারা পারসোনা নারীর নিরাপত্তা, নারীর প্রাইভেসি বুঝতে অপারগ! তার বক্তব্য তাই প্রমাণ করে। তাই নিজেদের প্রতিবাদ নিজেদের করাই সমীচিন। গ্রাহককে তার সেবা ও নিরাপত্তার অধিকার বুঝে নিতে হবে। কানিজ আলমাস, ডোন্ট ফর গেট, উই, দ্য কমন কাস্টমার, পে ইউ টু প্রোভাইড আস বেস্ট এ্যান্ড রিলায়েবল সার্ভিস! তাই বিশাল সেলিব্রিটি গ্রাহক ফর্দ দেখানো থেকে বিরত থাকুন।

ব্লগে বিভিন্ন মন্তব্যে ইতিমধ্যে অনেকেই এই বিষয়ে জনমত বাড়িয়ে তোলার জন্য একত্রে জমায়েত হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। এই সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই আছে। অনেকেই প্রস্তাব করছেন, পাবলিক প্লেস হিসেবে, শহীদ মিনার, প্রেস ক্লাব এসব স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ, মানব বন্ধন করার। প্রস্তাবনায় কেউ বলেছেন, স্কুল-কলেজে টিনএজারদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে যুথবদ্ধ প্রতিবাদের যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা , দুটোই আছে। আশা করা যায়, সচেতন নাগরিকরা, অনলাইন ব্যবহারকারীরা, দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলা ব্লগাররা মিলে অ্চিরেই পারসোনার এহেন আচরণের ও কানিজ আলমাসের অযৌক্তিক, উদভ্রান্ত ও খাপছাড়া বক্তব্যের প্রতিবাদ করতে একটি কার্যকরী পদক্ষেপ নিবেন।

পরিশেষে কানিজ আলমাসকে আবারো স্মরণ করিয়ে দেয়া অত্যাবশ্যক, সিসিক্যামেরাই হোক আর অন্য যে কোন ক্যামেরাই হোক না কেন, ক্যামেরা কিন্তু সরাতেই হবে!

*** *** **** *** *** ****
সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২১

ফলোআপ ১: বিকল্প মিডিয়া’র জন্য লিখিত সাংবাদিক নুরুজ্জামান লাবু’র রিপোর্ট থেকে জানা যায়

ভিডিওকৃত অংশ ডিলিট করে ফেলায় পুলিশ কর্তৃপক্ষও কোনো অ্যাকশনে যেতে পারছে না। একারণে ডিলিট করার সুযোগ দেওয়ায় এসআই মেহেদী মাসুদকে শাস্তি স্বরুপ কোজ করা হয়েছে।

পারসোনার ঘটনা তদন্তে এরইমধ্যে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ফলোআপ ২: মানব জমিনের প্রতিবেদনে নামীদামী সেলিব্রিটি গ্রাহকদের নাম ‍উল্লেখ করে কানিজ আলমাস জোরালো প্রতিবাদের কথা জানালেন। পারসোনার অনৈতিক ভাবে ক্যামেরা স্থাপনের প্রতিবাদই তো করছে সাধারণ গ্রাহকরা। কিন্তু কানিজ আলমাস কিসের প্রতিবাদ করতে চান সেটা বোধগম্যনয়। আর তার বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, সাধারণ গ্রাহকদের তিনি ধর্তব্যে আনেন না।

বস্তুত পারসোনার এ ধরণের অনৈতিক আচরণ এবং কানিজ আলমাসের অযৌক্তিক ও লাগাম ছাড়া বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এখন প্রতিবাদ সমাবেশ করাটাই সমীচিন। দেখা যাক, কার প্রতিবাদ বেশি জোরালো হয়, সেলিব্রিটি গ্রাহকদের নাকি সাধারণ গ্রাহক ও সচেতন নাগরিকদের।

*** *** **** *** *** ****
সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০১১ সন্ধ্যা ৭:০৬

ফলোআপ ৩: কানিজ আলমাস বলেছেন,

পারসোনার ৭টি শাখায় নিরাপত্তার কারণে সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু এ ক্যামেরাগুলো মহিলাদের জন্য নির্ধারিত কক্ষের বাইরে অবস্থিত … তাছাড়া পারসোনার নারীদের জন্য রক্ষিত কক্ষে কোন সিসি ক্যামেরাও থাকে না।

একই প্রশ্ন পুনরায় করতে হচ্ছে, সেদিন সেই বিশেষ কক্ষের ভেতরে ক্যামেরা গেল কিভাবে? টেকনিশিয়ানের ভুলের কারণে যেহেতু ক্যামেরা ঘুরে গেছে, তারমানে টেকনিশিয়ান ডেকে ক্যামেরা বসানো হয়েছে সেখানে, তাই নয় কি? ওই কক্ষ থেকে রাতারাতি ক্যামেরা সরিয়েই বা কেন নেয়া হলো?

কানিজ আলমাস আরো বলেছেন,

পুলিশ ডিস্ক নিয়ে গিয়ে তদন্ত করে দেখে সেখানে কিছুই নেই। তারপরও পুলিশ তাদের মামলা করতে বললে তারা রাজি হননি। ছোট্ট একটি ঘটনা।

পুলিশ গিয়ে যদি কিছু না পেয়ে থাকে সেটার কারণ তো আপনার অজানা থাকার কথা নয়। আপনারই কর্মচারীদের ভিডিও মুছে দেয়ার, পেন ড্রাইভে সরিয়ে দেয়ার তড়িৎ কুকীর্তি তো ইতিমধ্যে সবাই জেনে গেছে। এবং আপনি ভুলে যাচ্ছেন, পুলিশ বারবার বলেছে, ক্যামেরা দিয়ে পুরো কক্ষ কাভার করা সম্ভব ও এভাবে ক্যামেরা বসানো ঠিক হয়নি। ওই দম্পতি সামাজিক দিক বিবেচনা করে মামলা করতে রাজি হয়নি, এমনটা না বোঝার মত অসামাজিক নিশ্চয়ই আপনি নন। এবং একটি ঘটনাকে ’ছোট্ট একটি ঘটনা’ বলে আপনি ‘বড় একটি ভুল’ করছেন কানিজ আলমাস।

*** *** **** *** *** ****
সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০১১ রাত ৯:৪১

ফলোআপ ৪: রাত ৯:৩৭ -এর প্রকাশিত ব্লগার শেখ রহিম তার পোস্টে বলেছেন,

কানিজ আলমাস খান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি একটু আগে আমার হাতে এসে পৌঁছেছে। প্রকাশের জন্য আমার পত্রিকায় আমার বরারর পাঠানো হয়েছে। কানিজের কথাগুলো পড়ে মনে হল তার কাছে ঘটে যাওয়া ঘটনা যেন কিছুই না। তার দাবি পারসোনার আড়ালে পারসোনাল কোন কাজ করা হয়না। তাহলে কি হয়? এই প্রশ্ন এখন সবার।

চিঠি পড়ে দেখা যাচ্ছে, অভিযোগকারী দম্পতিকে কানিজ আলমাস সহঝোতায় সফল ভাবে নিয়ে আসতে পেরেছেন। শেখ রহিম চিঠিটি টাইপ করে ব্লগে তুলে দিয়েছেন –

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১১, শুক্রবার দুপুরে পারসোনার বনানী শাখায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত। নিছকই ভুল বোঝাবুঝির ফল। বিষয়টি ঘটনাস্থলেই মীমাংসা হয়ে যায়। এমনকি আমরা উভয়পক্ষই পুরো বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকায় কেউ কারো বিরুদ্ধে কোথাও কোন অভিযোগও করিনি। কিন্তু পরের দিন প্রচার মাধ্যমে প্রকাশিত খবর আমাদের ভীষণভাবে বিস্মিত, মর্মাহত ও বিব্রত করেছে। এমনকি আমাদের বরাত দিয়েও খবর ছাপা হয়েছে। অথচ দু:খজনক হলেও সত্যি আমাদের সঙ্গে কোন কথা না বলেই আমাদের উদ্ধৃতি হিসেবে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে।

ঘটনাটি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। তারপরও মনে হচ্ছে আমাদের সুনাম এবং মর্যাদাহানীর জন্য কোন মহল হয়ত উদ্দেশ্যমূলকভাবেই বিষয়টিকে জটিল করে তোলার চেষ্টা করছে। আমরা মনে করি এটা কোন মতেই কাম্য নয়। এই বিষয়টি নিয়ে যাতে আর কোন ভূল বোঝাবুঝির অবকাশ না থাকে সেজন্য সবাইকে অনুরোধ করছি। আপনাদের সবার সহযোগীতা আমাদের একান্ত কাম্য।

কানিজ আলমাস খান ইশতিয়াক আহমেদ
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
সেবাগ্রহীতার স্বামী
পারসোনা

*** *** **** *** *** ****
সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০১১ রাত ১০:৫৪

ফলোআপ ৫: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম পত্রিকা থেকে জানা গেল পারসোনাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। খবরে প্রকাশ –

নোটিসে প্রতিষ্ঠানের বনানী শাখায় গোপন ক্যামেরায় এক নারীকে স্পা দেওয়ার দৃশ্য ধারণ করায় কেন কানিজের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ এবং ৬৭ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না- তা সাত দিনের মধ্যে জানতে চাওয়া হয়।

এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে নোটিস দেন তারা।

কানিজের বিরুদ্ধে নোটিশে বলা হয়, রূপ চর্চার আড়ালে কক্ষগুলোতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় নারীদের আপত্তিকর চিত্র ধারণ করে আসছে পারসোনা। এটি ব্যক্তিগত, ধর্মীয়. রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে। এ সংক্রান্ত সংবাদ অনলাইন, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম ও পত্রিকায় প্রচারিত ও পরিবেশিত হয়েছে।

অপর এক সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আলামত নষ্ট করার জন্য গুলশান থানার এক উপ-পরিদর্শককে (এসআই) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

*** *** **** *** *** ****
মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০১১ রাত ১০:১১

ফলোআপ ৬: ক্যামেরা বিষয়ে কানিজ আলমাসের একেক সময়ের একেক বক্তব্য প্রদান এখনো জারি আছে। ডেইলি স্টারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি বলেন,

She (the customer) suspected a CCTV camera was taking her footage but it was not true as the camera was used for the space in front of the room in which she took service

এর অর্থ করলে এমনটা দাঁড়াবে,

তিনি (গ্রাহক) সন্দেহ করেছিলেন একটি সিসিক্যামেরায় তার ফুটেজ নেয়া হচ্ছে কিন্তু এ সত্য নয়, কারণ যে কক্ষে তিনি সেবা নিচ্ছিলেন ক্যামেরা সেই কক্ষের সম্মুখের অংশে বসানো ছিল।

কানিজ আলমাস মনে হয় স্মৃতি শক্তি হারিয়েছেন। ক্যামেরা প্রসঙ্গে তার যে সকল বক্তব্য পাওয়া গেছে –

১. ক্যামেরা টেকনিশিয়ানের অনিচ্ছাকৃত ভূলে সরে গেছে! [এর অর্থ ক্যামেরা ছিল এবং ক্যামেরার ফোকাস আপত্তিকর ছিল]

২. ক্যামেরা সরানো হবে না [যদিও ততক্ষণে অভিযোগকারী গ্রাহকের সেই সেবা রূমের ভেতর থেকে তড়িৎ গতিতে ক্যামেরা সরানো হয়েছিল। উপরন্তু গ্রাহকের যে বক্তব্য মাছরাঙা চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছিল, তাতেও বোঝা গেছে ক্যামেরা কক্ষের ভেতরে ছিল]

৩. ক্যামেরাতে গলা পর্যন্ত দেখা গেছে গ্রাহকের [গলা পর্যন্ত দেখা যাওয়াকে কানিজ আলমাস কিছু না মনে করেন। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কানিজ আলমাসের এই বক্তব্যই প্রমাণ করে ক্যামেরা কক্ষের ভেতরে ছিল।]

ফলোআপ ৭: বনানী ব্রাঞ্চে স্পা -ই নেই বলে নিজের দোষ ঢাকার কানিজ আলমাসের প্রচেষ্টাটি বেশ দুর্বল। উল্লেখ্য বনানী ব্রাঞ্চে পারসোনা এ্যাডামস থেকে ’মেনজ স্পা’ বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে উব্দোধন হয়েছিল। তাছাড়া স্পা নেই বলে পুরো বিষয়টিকে সামান্য ঘটনা করে দেয়ার এই প্রচেষ্টা নিন্দনীয়। কারণ অন্যান্য ফেসিয়াল, বডি ম্যাসেজ ইত্যাদি সার্ভিস কিন্তু রয়েছে।

ফলোআপ ৮: দুপুরের দিকে ফোনে কথা হচ্ছিল একজন ব্লগারের সাথে। বিভিন্ন পত্রিকায় পাঠানো পারসোনা এবং গ্রাহকের স্বামীর স্বাক্ষরকৃত চিঠি সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, এটা কিছুটা হাস্যকর হয়ে গেছে। নারী গ্রাহক নিজেই শিক্ষিত, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি। কোন ঘটনাই যেহেতু নেই, তাহলে তার স্বামীকে কেন স্টেটমেন্টে স্বাক্ষর করতে হচ্ছে, নারী গ্রাহক নিজে নয় কেন?

*** *** **** *** *** ****
মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০১১ রাত ১১:৩৩

ফলোআপ ৯: তৌহিদা শিরোপা‘র ”পারসোনার সিসি টিভিতে আপত্তিকর কিছু পাওয়া যায়নি” শীর্ষক দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনটি ইতিমধ্যে পাঠকের নিন্দা কুড়িয়েছে। তবে এই রিপোর্ট থেকে আমাদের আইনগত দুর্বলতার একটি বিশেষ দিক লক্ষনীয়। যদিও পারসোনাকে আইনগত নোটিশ পাঠানো হয়েছে ইতিমধ্যে, তবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেনের বক্তব্য থেকে জানা যায়,

সিসি ক্যামেরা ব্যবহারবিধি নিয়ে আমাদের দেশে কোনো নীতিমালা নেই। অবশ্যই এর জন্য নীতিমালা করা দরকার। যত দিন নীতিমালা হবে না, তত দিন প্রতিষ্ঠানকেই এ বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে। উন্নত বিশ্বে এ বিষয়ে নীতিমালা আছে। ক্যামেরা কোন জায়গায় রাখবে, কতটুকু ধারণ করবে, সেটির ব্যবহারবিধিও নীতিমালায় থাকতে হবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশে উপযুক্ত আইসিটি ল, সাইবার ল নিয়ে সরকারের তৎপরতা কখনই সন্তোষজনক নয়। এমনকি অবাক করার বিষয় বিশেষ বিশেষ ’আপত্তিকর ঘটনা‘ ছাড়া প্রযুক্তি ও অনলাইন ব্যবহারকারীরাও এ বিষয়ে জোরালো কোন দাবি তোলেন না। তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের এটা বোঝার এখনই সময়, এখন ও আগামীতে যদি তারা কোন অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার পেতে চান, তবে তাদের নিজেদের স্বার্থেই আইসিটি ল, সাইবার ল নিয়ে সজাগ, সচেতন হতে হবে।

ফলোআপ ১০: পারসোনার সার্ভিস এরিয়ার সম্ভাব্য অংশগুলোতে ক্যামেরা অবস্থান নিয়ে মূল পোস্টে আগেই বলা হয়েছে। ক্যামেরাকে একেক বক্তব্যে একেক ভাবে ফোকাস করে কানিজ আলমাস তার শেষ বক্তব্যে এটিকে সার্ভিস কক্ষের সম্মুখে বসিয়েছেন শেষ পর্যন্ত। মূল পোস্টে এ প্রসংগে ব্যাখ্যা অনেক আগেই দেয়া হয়েছিল। সেটাই এখানে আবারো ‍উল্লেখ করা হলো।

* ক্যামেরা যদি স্পা/ফেসিয়াল সার্ভিস করিডোর, স্পা কক্ষের দরজা, এটুকুও কাভার করে, তবে সেটাও গ্রাহকের প্রাইভেসি লংঘনের সামিল। কারণ গ্রাহকেরা স্পা/ফেসিয়াল পোষাক পড়ে এক সার্ভিস এরিয়া থেকে অন্য সার্ভিস এরিয়াতে যায়। তারমানে পুরো অংশটি ভিডিও হচ্ছে এবং পারসোনার সিসিক্যামেরা মনিটরকারিরা তা দেখছে!

* স্পা/ফেসিয়াল কক্ষের অনেক দরজায় বেশ স্বচ্ছ/অর্ধস্বচ্ছ পর্দা দেয়া থাকে। গ্রাহকেরা কক্ষে পোষাক পরিবর্তন করলে, সার্ভিস বেডে শুয়ে/বসে থাকলে সেটা বাইরে থেকে দরজার দিকে ফোকাস করে রাখা ক্যামেরাতেও ঠিকই ধরা পড়বে।

দেখা যাক, এরপরের স্টেটমেন্টে কানিজ আলমাস সিসি ক্যামেরা কোন খানে বসাতে আগ্রহী হন!

*** *** **** *** *** ****
মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০১১ রাত ১২:১৯

ফলোআপ ১১: পারসোনাতে সেবাকক্ষে সিসিক্যামেরা পাওয়া নিয়ে এটিএন চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদনটি দেখুন।

এই প্রতিবেদনে কানিজ আলমাস তার বক্তব্যের এক অংশে বলেছেন,

আমাদের ক্যামেরাগুলো কিন্তু ক্লায়েন্টকে মনিটর করে প্লাস আমাদের যারা কাজ করছেন, তারা ঠিকমত কাজ করছেন কিনা মনিটর করে, যে আমাদের মেয়েরা সার্ভিসটা ঠিকমত দিল কিনা।

প্রশ্ন হলো –
১. ক্লায়েন্টকে কিভাবে/কোনখানে/কী অবস্থায় মনিটর করা হয়?
২. মেয়েরা সার্ভিস ঠিকমত দিচ্ছে কিনা সেটা মনিটর কিভাবে করা হচ্ছে?
৩. মেয়েরা সার্ভিস ঠিকমত দিচ্ছে কিনা বলতে মেয়েরা ফেসিয়াল/স্পা/বডি ম্যাসেজ/মেনিকিয়োর/পেডিকিয়োর ইত্যাদি ঠিক মত করছে কিনা বোঝানো হলে, সেক্ষেত্রে তো পুরো সার্ভিস প্রদানকেই যে ক্যামেরার আওতায় রাখা হচ্ছে সেটাই কি স্পষ্ট হচেছ না?

ফলোআপ ১২: দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনে ব্যারিস্টার সারা হোসেনের বক্তব্য অনেকটা হতাশা জাগিয়েছিল। তবে এটিএন বাংলা চ্যনেলে প্রচারিত প্রতিবেদনে ব্যারিস্টার তুহিন আফরোজের বক্তব্য থেকে গ্রাহক আস্থা ভঙ্গের দায়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায় এমন কিছু ধারনা পাওয়া যাচ্ছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, প্রতিবেদক জানাচ্ছেন,

দণ্ডবিধির ২৯৯, ৪০৫, ৪০৯ ধারা অনুযায়ী কারো অজান্তে ভিডিও ফুটেজ ধারণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

প্রতিবেদনটি থেকে এও জানা যায়,

কোন কারণে কেউ মামলা না করলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগেই মামলা করতে পারে।

এখন পুরো বিষয়টিতে যথোপযুক্ত ও সন্তোষজনক জবাবদিহিতা এবং আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পুলিশের দ্বায়িত্বশীল ভূমিকা বিরাট ভূমিকা রাখছে।

*** *** **** *** *** ****
বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০১১ রাত ১:১১

ফলোআপ ১৩: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিবেদক আশিক হোসেনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জাতীয় তথ্য কমিশনের সদস্য সাদেকা হালিম বলেছেন,

বিউটি পারলার পারসোনায় সিসিটিভি ক্যামেরায় ভিডিও ধারণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।
কোন স্থানে সিসিটিভি স্থাপন করা যাবে এ বিষয়ে কোনো নীতিমালা নেই। শিগগিরই এ বিষয়ে একটি নীতিমালা করা উচিত।

*** *** **** *** *** ****
বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০১১ সকাল ৮:১৮

ফলোআপ ১৪: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অপিনিয়ন পাতায় আফসান চৌধুরীর লেখায় কাস্টমারদের নানা ধরনের বক্তব্য দেখা গেছে। যেমন একজন বলছেন,

After all CCTV cameras are more common in the developed world than ever before in the name of security. People have protested but the cameras haven’t been brought down. While the private sector can be pushed, can anyone push the government?

বক্তব্য অনেকটা এই অর্থ বহন করছে,

নিরাপত্তার নামে উন্নত দেশগুলোতে পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে নিরাপত্তার নামে সিসি ক্যামেরার ব্যবহার বেড়েছে। মানুষ প্রতিবাদ করেছে কিন্তু ক্যামেরা সরানো হয়নি। ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাপ দেয়া যায় যদিও, কেউ কি সরকারকে চাপ দিতে সক্ষম?

*** *** **** *** *** ****
বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০১১ রাত ৮:০৮

ফলোআপ ১৫: শুনে ছিলাম যে, পারসোনা থেকে মোবাইলে এসএমএস করে নিজেদের ইমেজ পুনুরূদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কিছুক্ষণ আগে সেই এসএমএস পেলাম।

dear client
persona thanks u very
much for ur
support. Together we can
overcome n build a
stronger community! We
r always here to Serve u
best. Kaniz Almas Khan

কানিজ আলমাস অবশ্যই তার প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে চাইবেন। কিন্তু তাকে বুঝতে হবে, সাধারণ গ্রাহকদের ’প্রাইভেসি লংঘন’ করে দাম্ভিক আচরণের পর একটা এসএমএসেই আস্থা পুনরায় অর্জিত হয় না। এ এ জন্য যৌক্তিক ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ বেছে না নেয়াই মঙ্গল আপনার জন্য!

ফলোআপ ১৬: শুরুর দিকে কেউ কেউ বলেছিলেন, যথাযথভাবে তদন্ত শুরু করে তদন্তের স্বার্থে পারসোনার পারলারগুলো সিজ করা হোক। অনেকটা এরকমই বললেন মন্তব্যকারী মাইনুল১১ [মন্তব্য নং ৪, সূত্র] –

আমার মতে বাংলাদেশে যতগুলি বিউটিপারলার আসে সব গুলি বন্ধ করে দিয়া নতুন আইন তৈরি করে সরকার অনুমোদিত বিউটিপারলার চালু করা উচিত

*** *** **** *** *** ****
বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০১১ রাত ৮:৪৬

ফলোআপ ১৭: সিসি ক্যামেরা নিয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেলে একটি সংবাদ প্রতিবেদন থেকে। [সূত্র: বিটিবি নিউজ ডটকম]

দুই রকমের ক্যামেরার মধ্যে আছে, আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) অর্থাৎ ওয়েবভিত্তিক সিসি ক্যামেরা এবং ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডিং (ডিভিআর) ক্যামেরা।

এর মধ্যে আইপি ক্যামেরা দিয়ে বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে ক্যামেরাযুক্ত স্থান পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এমনকি চাইলে সেখান থেকে সফটওয়্যারের সহায়তায় ক্যামেরা ডানে-বাঁয়ে ঘোরানো যাবে, আবার ছবি বড় করে (জুম) দেখা যাবে এবং বিভিন্ন তথ্য রেকর্ড হবে।

আইপি ক্যামেরার প্রচলিত বিভিন্ন মডেলের মধ্যে একটি এরকম-

এটিএন বাংলা চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদনে পারসোনার ভেতরের যে সিসি ক্যামেরাগুলো এক ঝলক দেখা গেছে, তা দেখতে অনেকটাই ছবির আইপি ক্যামেরার মতই।

এই তথ্যের পর সন্দেহ আরো ঘুণীভূত হচ্ছে। তাই যা জানা ও করা জরুরী –

১। পারসোনার ক্যামেরাগুলো আইপি ক্যামেরা কিনা এ ব্যাপারে সঠিকভাবে জানা জরুরী।
২। বোঝা যাচ্ছে, সিসি ক্যামেরার ফোকাস ক্যামেরা-মনিটরিংকারীরাও যে কোন দিকে ঘোরাতে পারবেন। তাই টেকনিশিয়ান কর্তৃক ক্যামেরা ঘুরে যাওয়ার গল্প কি এখন ধোপে টিকবে?
৩। টেকনিশিয়ান নয়, বরং পারসোনা থেকে ক্যামেরার ফোকাস ঘুরানো হয়েছে ও ইচ্ছামত ঘুরানো হয়, এ দাবিকে কানিজ আলমাস কিভাবে খণ্ডাবেন?
৪। পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো অনুরোধ যে সফটওয়্যার দিয়ে ক্যামেরা পরিচালনা করা হয়, তার ফিচারগুলো খতিয়ে দেখার। তাই যেসব কমপিউটার থেকে ক্যামেরা মনিটর করা হয়, সেগুলো সিজ করা হোক।
৫। পারসোনায় ঠিক কতগুলো কমপিউটার থেকে ক্যামেরা মনিটর করা হতো?
৬। কর্মচারী, কানিজ আলমাস ছাড়াও আর কে কে ক্যামেরা মনিটরিংয়ের এক্সেস পেতো?

*** *** **** *** *** ****
বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০১১ রাত ১০:৫৫

ফলোআপ ১৮: ৪ অক্টোবর ২০১১ তারিখ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমে প্রকাশিত ”কানিজ আলমাসের মিনতি…“ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়,

নিজেদের কোনো অপরাধ নেই বললেও ঘটনার পরের দিন কানিজ আলমাস বাংলানিউজকে নিজেই ফোন করে জানিয়েছিলেন তাদের কাজটি ভুল হয়ে গেছে।
ভুলটিকে সামান্য উল্লেখ করে সেদিন তিনি এও বলেছিলেন, এর জন্য পারসোনাকে ক্ষমা করে দেওয়া যায়।

পারসোনার তদন্ত নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের জনসংযোগ ও মিডিয়া বিভাগের সহকারী কমিশনার এস. এম. আশরাফুজ্জামান বলেন,

এখানে পিছু হটার কোনো কারণ নেই। আমরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে এর তদন্ত করছি।

*** *** **** *** *** ****
শুক্রবার ২১ অক্টোবর ২০১১ দুপুর ১২:০০

ফলোআপ ১৯: শেষ পর্যন্ত পারসোনা থেকে ক্যামেরা সরাতে নির্দেশ দিতে হয়েছে উচ্চ আদালতকে। [পারসোনা কেলেঙ্কারি: সব পার্লারের সিসি ক্যামেরা সরাতে হাইকোর্টের নির্দেশ] । পরবর্তীতে ক্যামেরা সরিয়ে নেয়া হয়েছে জানানো হয় পারসোনার পক্ষ থেকে। আদালতের ওই রায়ে সিসি ক্যামেরা নীতিমালা নিয়ে বলা হয়। খবরে জানা যায়-

বিচারপতি ফরিদ আহম্মদ ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একই সঙ্গে সিসি ক্যামেরা ব্যবহারে নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে দুই সপ্তাহের রুলও জারি করেন।

ফলোআপ ২০: পারসোনার ঘটনাটা এখন পুরোটাই তদন্ত ফলাফলের উপর নির্ভর করছে। ফেসবুক গ্রুপ ’বিকল্প মিডিয়া’ থেকে নুরুজ্জামান লাবু অবশ্য তদন্তের গতি ঝুলে যা্ওয়া নিয়ে জানিয়েছেন। ফেসবুক নোট থেকে জানা গেছে,

তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান পুলিশের গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিজামুল হক মোল্লা ব্যক্তিগত ছুটিতে রয়েছেন। এছাড়া আরেক সদস্য একই জোনের সহকারী কমিশনার (এডমিন) মিজানুর রহমান গেছেন প্রশিক্ষণে। এছাড়া এতদিনেও তদন্ত কমিটির সদস্যরা নিশ্চিত হতে পারেনি যে, সেদিনের ওই হার্ডডিস্ক থেকে কোনো কিছু ডিলিট করা হয়েছিল কিনা। ওই হার্ডডিস্কটি ডিএমপির আইটি সেকশনে পাঠানোর পর সেখান থেকে এখনও কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। এই অবস্থায় সহসাই তদন্ত কাজ শেষ হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সবচেয়ে আশংকার কথা হচ্ছে, পারসোনা থেকে পুলিশকে তদন্তের কাজে প্রভাবিত করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এই ফেসবুক নোট থেকে জানা যায়, পারসোনা দাবি করছে, তাদের সিসি ক্যামেরাগুলো ফিক্সড ছিল! অর্থ্যাৎ অপারেটররা ফোকাস নিয়ন্ত্রণ করতেন না। এই বক্তব্য যে অসার সেটা সুষ্ঠু তদন্ত হলেই প্রকাশ হবে বলে আশা করা যায়।

ফলোআপ ২১: তদন্ত ঝুলে যাওয়া নিয়ে ১২ অক্টোবর প্রকাশিত বিকল্প মিডিয়ার ফেসবুক নোটে জানা যায়,

দ্বিতীয় দফায় তদন্তের সময় আবারও ৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। এর আগে প্রথম দফায় ৫ দিন সময় বাড়ানো হয়েছিল।

২০ অক্টোবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর সংবাদ প্রতিবেদনে জানা গেছে, তদন্তে আরো ১০ দিন সময় নেয়া হবে।

সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সময় প্রয়োজন হলে তাতে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। তবে বারবার তদন্তের সময় বৃদ্ধি যদি পারসোনা কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে কোন প্রকার কালক্ষেপন হয়, তবে তা সকল শ্রেণীর নাগরিকদের জন্য একটি অশুভ সংকেত হবে। হার্ডডিস্ক থেকে ডাটা রিকভার বিষয়ে পুলিশ কতদূর অগ্রসর অথবা ডাটা রিকভার করতে প্রযুক্তিগত কোন অসুবিধা রয়েছে তাও এখন পর্যন্ত সুষ্পষ্ট নয়। প্রশাসন এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে দ্বায়িত্বের সাথে সাধারণের পাশে থাকবে সেটাই প্রত্যাশা।

ফলোআপ ২২: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর অনলাইন পত্রিকায় ১০ অক্টোর প্রকাশিত একটি লেখা শেয়ার করছি – পারসোনা, সিসি ক্যামেরা ও আইন