ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

টেলিভিশনে অ-নে-ক আগে একটা পত্রিকার বিজ্ঞাপন আসতো। বেশ গুরুগম্ভীর আবহ থাকতো সে বিজ্ঞাপনে। বিজ্ঞাপনে একটা লোককে হাত বাঁধা, চোখ বাধা, মুখ বাঁধা অবস্থায় দেখতাম। কিন্তু একটা গায়েবি ভরাট কণ্ঠ বলতো, আমাদের হাত বাঁধা নেই, আমাদের চোখ বাঁধা নেই, আমরা বলতে পারি…! প্রতিবার বিজ্ঞাপনটা দেখার সময় নিজের ভেতর চাপ বোধ করতাম। বিজ্ঞাপনটির গভীর তাৎপর্য বোঝা না বোঝার প্রকট চাপ। কেমন একটা বৈপরীত্য! বলছে হাত বাঁধা নেই, অথচ হাত বাঁধা! বলছে চোখ খোলা, অথচ চোখ তো বাঁধা! আবার বলছে, আমরা বলতে পারি! এ কেমনতর কথা! মুখ বাঁধা থাকলে বলা সম্ভব কি করে! সম্ভব-অসম্ভবের সমীকরণটা হয়ত বুঝেছিলাম কিংবা বুঝিনি, তবে ভেতরের দ্বন্দ বিজ্ঞাপন পুরনো হতে হতে একসময় মিইয়ে গিয়েছিল।

তারপর আবার অ-নে-ক অ-নে-ক দিন পর সেই চাপবোধ করছি আজকাল। সেই দ্বন্দ! এবার নিজেকেই হাত-পা-মুখ বাঁধা কেউ একজন মনে হচ্ছে। পার্থক্য হলো বাঁধনগুলো অদৃশ্য। আমি কেবল টের পাই শক্ত দড়ির ফাঁস গিরায় গিরায়। আমার নি:শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, বেঁধে রাখা মুখে কিছু বলতে না পারায় যন্ত্রনায়। আমার এমনতর দুর্বল মুহূর্তে প্রহসন করতে একটা গায়েবি আওয়াজ ক্রমাগত বলে যায়, তুমি তো স্বাধীন! তুমিই তো শক্তির উৎস। আমি সংশয়ে পড়ে যাই! কী বিভ্রম!

ব্লগার দিনমজুর যখন গ্রেপ্তার হলো, খবরটা শুনে এই স্থবিরতাই গ্রাস করেছিল। তবে সহ-ব্লগারের প্রতি সমর্থনে ব্লগারদের শান্তিপূর্ণ মানব বন্ধন, সাদা টিশার্টে সহ-ব্লগারের মুক্তির দাবি দেখে আশ্বস্ত হয়েছিলাম, মানবে মানবে বন্ধন ছিন্ন হয়নি এখনো। ব্লগার দিনমজুর দ্রুতই ছাড়া পেয়েছিল।

কেউ কেউ তখন প্রশ্ন তুলেছিলেন, নামের আগে ব্লগার ব্যবহার করে বিষয়টাকে ’ম্যানিপুলেট’ করা হচ্ছে। তবে কি না, সাংবাদিক-ছাত্র-শিক্ষক-ডাক্তার যে কোন কারণে আটক হলে যদি তাদের সেই পরিচিতিকে তুলে ধরা যায়, ব্লগারদের বেলায় কেন ব্লগার পরিচয় ব্যবহার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, তাও আবার ব্লগারদেরই দ্বারা, সেটা বিষদ আলোচনার দাবি রাখে। ব্লগার পরিচয় কি সামাজিক ভাবে স্বীকৃত কিছু নয়?

‘কেবল একটা ঘটনা’ ভেবে দিনমজুরের প্রেপ্তার পরবর্তী বিস্মিত আতংক আমি কেন, আমরা প্রায় সবাই ভুলে যেতে বসেছিলাম। কিন্তু পারলাম কই? ০১ অক্টোবরের ঘন সন্ধ্যায় জানতে পারলাম, ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে! একজন থেকে আরেকজনের কাছে খবরটা পৌঁছে যাচ্ছিল। কেউ বুঝতে পারছিল না কারণ কী? আর কী হতে পারে এখন! ভয়ানক চাপ চেপে বসছিল সবার মাঝে! তবে ব্লগারদের মনোবল যেখানটায় ধাক্কা খায়, সেখান থেকেই পাল্টা প্রতিরোধ ছুঁড়ে দেয়। ব্লগ থেকে ব্লগ, ব্লগার থেকে ব্লগারের মধ্যে একটাই কথা ছিল, আসিফ মহিউদ্দিনের মুক্তি চাই। পোস্টারের ধার ধারেনি ব্লগাররা, কারণ পোস্টে পোস্টে ছেয়ে গিয়েছিল ব্লগ। সকলে বিস্মিত ছিল – কেন এ হয়রানি! ব্লগারদের ডাকে প্রতিবাদ সমাবেশ হতে দেরি হয় না। ব্লগাররা তো সচেতন নাগরিকদের আওয়াজ!

ব্লগে আসিফ মহিউদ্দিন নানা কারণে তর্ক জিইয়ে রেখেছিলেন। মানে ব্লগে তিনি বিতর্কিতও বটে। কেউ তার বক্তব্যকে যুক্তি মানে। কেউ তার যুক্তিকে পাগলের প্রলাপ মানে। তবে এই একটি বার সকলকে অবাক করে দিয়ে সকলেই বলছিলেন, যে কারণে আসিফ মহিউদ্দিন আটক হলো তা অনুচিৎ! এ তো লেখায় জোর করে সম্পাদনার নির্মম কাঁচি চালিয়ে সার কথাকে অসাড় করার সামিল! এ তো আমাদের ভাবনার গাঁথুনিতে বুলডোজার চালানোর সামিল। তবে ব্লগাররা দমবার নয়। তাই গোলন্দাজ, ব্লাক সোলজার বলেছিল,

আমি আসিফ মহিউদ্দিনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করছি।

তাতে সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছিল বাল্মীকি, তন্ময় ফেরদৌস, সৌরভ ওয়াহিদ, আর.এইচ.সুমন , ক্যারোলিনা রোজালিন, কালাম আজাদ বেগ, বাকী বিল্লাহ, আসিফ রুমি সহ একের পর এক ব্লগারের মন্তব্য।

ব্লগার উপপাদ্য তার দীর্ঘ মন্তব্যে (মন্তব্য নং ১৬৩) পুরো ঘটনাটির প্রেক্ষাপট, প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন এভাবে,

… আসিফ মহিউদ্দিন জামায়াত-বিএনপি পন্থি কোন ব্লগার নন। তিনি সরাসরি সরকারের মতাদর্শ লালন করেন ভেতরে। তিনি লালন করেন ধর্ম নিরপেক্ষতার মুখোশহীন চেতনাটি। তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অন্তরের চেতনা লালন করেন এবং কোন রাখ ঢাক ছাড়াই নবী মুহাম্মদ কে নিয়ে কটাক্ষ করেন। যেটা করার দুঃসাহস ইচ্ছা থাকা সত্বেও ক্ষমাতিসনরা পারেনা ভোটের রাজনীতির জন্য। আওয়ামী বাকশালী চেতনা লালন করার পরও আসিফদের জেলে যেতে হয়, নির্যাতন করা হয়। কারন বাকশালীরা বাপকেও ছাড়েনা।

আসিফ মহিউ্দ্দিন বিবেকের তাড়নায় জড়ো হয়েছিলেন জবি’র ন্যায্য আন্দোলনকারীদের সাথে। শিক্ষার বানিজ্যিকীকরন রুখে দাঁড়াতে একত্রিত হয়েছিলেন। তিনি নিজ আদর্শের গোপন আঁতাতকারীদের বিরোদ্ধে দেশের যুব সমাজকে সহযোগীতা করতে দাঁড়িয়েছিলেন। …

এমনকি যারা আসিফ মহিউদ্দিনের মত ও মতপ্রকাশ ভঙ্গি নিয়ে বিরক্ত তারাও এসে উৎকণ্ঠা দেখিয়েছেন।

লুতফুল বারি পান্না বলেছেন,

আসিফ মহিউদ্দিনের সাথে আমার ব্যাপক ক্যাচাল হইছে। তার সব ধারণার সাথে আমি একমত না। বিশেষত ধর্মীয় প্রশ্নে তার সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে আমার অবস্থান। যেখানে তার বিরোধিতা করা প্রয়োজন করেছি।

কিন্তু যে ইস্যুতে তিনি গ্রেফতার হয়েছেন- সেখানে সবার সাথে গলা মিলিয়ে আসিফ মহিউদ্দিনের নিঃশর্ত মুক্তি চাচ্ছি।

এবং আব্দুল্লাহ বলেছেন,

আদর্শের জায়গায় আমি ইসলামপন্থী। আসিফ মহিউদ্দীন কে আমার কাছে অসহ্য লাগে তার অর্বাচীন মেকি নাস্তিকতা যা আবার ইসলাম বিরোধিতার বাইরে কিছু না তার জন্য। কিন্তু তার অ্যাক্টিভিজম এর কারনে গ্রেফতার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিনা। অবিলম্বে মুক্তি দাবী করছি।

তায়েফ আহমাদ বলেছেন,

সহ-ব্লগার আসিফ মহীউদ্দিন অ্যারেস্টের খবর শুনলাম
জীবন বিশ্বাসের ব্যাপারে তিনি সম্পূর্ণভাবে আমার বিপরীত মেরুর মানুষ।
তাঁর সেই বিশ্বাস প্রকাশের ভঙ্গিও আমি পছন্দ করি না।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইস্যু নিয়ে আন্দোলনের পদ্ধতি নিয়েও আমার যথেষ্ট দ্বিমত আছে।
কিন্তু, এ সবের কোন কিছুই আমাকে আসিফের অবিলম্বে মুক্তি দাবী করতে বাধা দেয় না।
মেনন আহমেদ বলেছেন: আসিফ মহিউদ্দীন কে আমার কাছে অসহ্য লাগে তার অর্বাচীন মেকি নাস্তিকতা যা আবার ইসলাম বিরোধিতার বাইরে কিছু না তার জন্য। কিন্তু তার অ্যাক্টিভিজম এর কারনে গ্রেফতার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিনা। অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি চাই।

ব্লগে অনেক জামায়াত সমর্থক ব্লগারদেরও আসিফ মহিউদ্দিনের মুক্তি চাই দাবিতে সামিল হতে দেখে কেউ কেউ বিস্মিতও হয়েছেন। আর কেউ সতর্ক করেছেন। আশংকা, জামায়াত সমর্থকরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। ব্লগাররা এখানেও অবশ্য সতর্ক থেকেছে। তারা রাজনীতির মত যে কোন সময়ে এই-সেই দলের সাথে হাত মিলিয়ে নিজেদের আন্দোলন ভারি করার পথ বেছে নেয়নি। আর তাই ব্লগাররা নিজের উপর আস্থা রেখেই ব্লগ থেকে রাজপথে এসে দাঁড়িয়েছিল। ব্লগার রণদীপম বসু যেমন বলেছিলেন [সূত্র],

…একজন ব্লগারকে তার ব্লগ লেখার জন্য গ্রেপ্তারকে কখনোই একজন ব্লগার হিসেবে মেনে নেয়া যায় না বা এতে খুশি হওয়ারও কিছু নেই। আমার মতের বিরূদ্ধে গেলো বলে তার শাস্তি দাবী করাও বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না। এটা নিশ্চিতভাবেই মুক্তচিন্তা প্রকাশের জন্য মারাত্মক হুমকীর কারণ। পাশের বাড়িতে আগুন লাগলে যে আমরা কেউ নিরাপদ নই এটা হয়তো অনেকেই বুঝতে পারি না সময় মতো। …

ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনের মুক্তি পেতে দেরি হয়নি। তবে জানা গেল মুচলেকা দিয়ে আসতে হয়েছে তাকে, বেশ কিছু do’s and don’t’s এর। সাথে মুফতে নিয়ে আসতে হয়েছে কিছু জীবনযাপন উপদেশ। আগেকার যুগে (এমনকি এখনো) উড়নচণ্ডি ছেলের ক্ষেত্রে বলা হতো, বিয়ে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে। আসিফের বেলাতেও বুঝি পুলিশ কর্মকর্তা আগবাড়িয়ে তেমনটাই ভেবেছিলেন। আসিফ মহিউদ্দিনের সাক্ষাৎকার থেকে জানা গেল উর্ধ্বতন কর্মকর্তা রফিকুল তাকে উপদেশ দিয়েছিলেন বিয়ে-থা করে থিতু হতে। তারমানে, একজন সাংসারিক আসিফ মহিউদ্দিনের মাঝে আন্দোলন-দাবিদাওয়া নিয়ে ছুটোছুটির সম্ভাবনা দেখেন না তিনি। আসিফ মহিউদ্দীন যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন প্রেক্ষাপটে পুলিশের নজরদারিতে পড়েছেন, সেই ইস্যুতে অবশ্য ভিন্ন-অভিন্ন নানা মত আছে। যেমন,

– কেউ মানেন সরকারের নির্দেশ সঠিক।
– কেউ মানেন এতোদিন পর এসে এমন নির্দেশ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলার পথকে অবরুদ্ধ করবে
– কেউ মানেন ছাত্রদের দাবি যৌ্ক্তিক
– কেউ মানেন আন্দোলনের পদ্ধতি হিসেবে ছাত্রদের ভাঙচুরমুখী হওয়াটা সমর্থনযোগ্য নয়।
– কেউ বলছেন জামায়াত-শিবিরের উস্কানি আছে আন্দোলনে।
– কেউ বলছেন, বাম পন্থীরা লাইম লাইটে আসার জন্য এমন আন্দোলনে ভূমিকা রাখছে। সমর্থন দিচ্ছে।

যা হোক, আসিফ মহিউদ্দিনের আটক বেশ আলোড়নই তুলেছে বাংলা ব্লগোস্ফিয়ারে ও অনলাইন জগতে। আটক পরপর পত্রিকার খবরও এসেছিল। এসব খবর গুরুত্বের সাথেই প্রকাশিত হয়েছে। বার্তা২৪ ডটনেটের শিরোনাম ছিল – সামাজিক নেটওয়ার্কে বাধাদান মানবাধিকার পরিপন্থি। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর শিরোনাম ছিল – ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীন আটক!

আসিফ মহিউদ্দীনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক এখনো আছে-চলছে। যেমন,

– কেউ মানেন তিনি অতি উৎসাহি হয়ে আন্দোলনে জড়িয়েছিলেন
– কেউ মানেন তার আটক কোন ধরণের চক্রান্ত অর্থ্যাৎ কেউ তার নাম বলে দিয়ে তাকে ফাঁসিয়েছে
– কেউ মানেন পুরো বিষয়টা তেমন কিছু না হলেও বাড়িয়েচড়িয়ে ফায়দা নিচ্ছেন আসিফ মহিউদ্দিন- নিজের হিরোইজম তৈরী করতে। আর এ কাজে ব্লগ-অনলাইন কমিউনিটি ও অনেক সহব্লগাররা সমর্থন দিচ্ছে।
– কেউ মানেন মুক্তি পরবর্তীতে আসিফের নিজ বয়ানে তার আটক-অভিজ্ঞতা বর্ণনায় কিছু গড়মিল আছে।
– কেউ মানেন ঘটনা যেমনই হোক, এভাবে দাবিদাওয়ার আন্দোলন করলেই, আন্দোলন সমর্থন করে ব্লগ লিখলেই কাউকে আটক করা কোন ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়, বরং এটি অরাজকতার নিদর্শন।

ফিরে আসি মূল কথায় -মুচলেকায়। লেখা যাবে না আর! সাথে আবারো মুফতে জীবন দর্শন গছিয়ে দেবার চেষ্টা পুলিশের [খবর সূত্র]–

বাকস্বাধীনতা-নীতিনৈতিকতা দিয়ে জীবন চলে না

তাহলে দাবিগুলো আসলেই নৈতিক ছিল? অথবা তাহলে প্রশাসনই চায় আমরা অনৈতিক হয়ে যাই! প্রশাসন বোঝেনি, আমরা অনৈতিক হলে, আজ ভ্রষ্ট রাজনীতিবিদের মত হাত মেলাতে পারতাম সরকার বিরোধী দলগুলোর সাথে। প্রশাসন যদি সমালোচনা নিতে না পারে,তবে তো দুষ্টক্ষত সারানো যাবে না।

একটা সচেতন প্রজন্মকে দাবিয়ে রাখা যায় না আদতে। কারণ, আমরা প্রধানমন্ত্রীর শান্তি-বাণীই মানি – জনগণ সকল ক্ষমতার কেন্দ্র। আমরা এও ভেবেছি, জনগণকে রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার সাথে শক্ত করে জুড়তেই ডিজিটাল দেশ গড়ার অঙ্গিকার। কিন্তু তাহলে ডিজিটাল দেশে প্রযুক্তি ব্যবহার অপরাধ বলে গণ্য হবে কেন? কেন মুচলেকা দিতে হবে ফেসবুকে লিখব না! ব্লগে লিখব না! ডিজিটাল দেশ গড়ার অঙ্গিকারকে সমর্থন করেই তো এসব নাগরিক মত প্রকাশের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমরা শব্দের শক্তিমত্তা জানি। আজকের সরকার কি ভুলে গেছে, এই বাংলা ব্লগগুলো সশব্দে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে পুরো অনলাইন কমিউনিটিকে কিভাবে একত্রিত করেছিল? সেই ব্লগ-প্রজন্ম এখন চক্ষুশূল হয়ে গেল প্রশাসনের কাছে! তাহলে কি পুরোটাই শুভংকরের ফাঁকি! অথবা সরকারের হাতে এখনো সময় আছে, ভেবে দেখার, দেশ কি আদতেই ডিজিটাল করা উচিৎ? ব্যান্ডউইথের দাম কমিয়ে, থ্রিজি প্রযুক্তির সুযোগ করে দিয়ে, মাত্র দশ-বারো হাজার টাকায় ল্যাপটপ বিতরণ করে সরকার যে সাধুবাদ পাচ্ছে, এর পরিণতি হলো প্রযুক্তি নির্ভরতা। এর ফলাফল হলো ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধি। তাতে ব্লগ-ফেসবুক-টুইটারের মত বিকল্প গণমাধ্যমে নাগরিক চলাচল বাড়বে। দেখা গেল পাড়াগাঁয়ের মফিজও একদিন ব্লগে লিখে দিল –’সরকারের এমন সিদ্ধান্ত আত্মঘাতি’! তখন প্রশাসন যদি একে সৎপরামর্শ না ভেবে রাষ্ট্রবিরোধী মানে তবে এখনই সময় ’রোলব্যাক‘ করে ফিরে যাবার এনালগ দেশে। নাহলে আমরা কিন্তু হৃদস্পন্দনের প্রতি বিটের সাথে ডিজিটাল বিটেও লিখতে থাকবো আমাদের অধিকারের কথা। ইউনিকোডে টাইপ করা প্রতিটা অক্ষর আমার ডিজিটাল অধিকার। আমি নির্ভয়ে লগ-ইন করতে চাই ফেসবুকে। নি:সংকোচে লিখতে চাই ব্লগে। কারণ, অনলাইনের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং দুনিয়ায় বিচরণ আমার ডিজিটাল স্বাধীনতা।