ক্যাটেগরিঃ সামহোয়ারইন ব্লগ

 

প্রকাশক আর লেখকের মধ্যকার হ্যাপাটা বোধহয় আর গেল না। আমি বলছি না যে প্রকাশক আর লেখকের মধ্যে দা-কুমড়ো সম্পর্ক বিরাজমান, তবে কোথাও একটা ‘লিটারেচার গ্যাপ’ তো রয়েছেই। এটা হতেই পারে। একজন তার সৃজনশীলতার প্রকাশ নিয়ে ভাববেন, অন্যজন ভাববেন বাণিজ্যিক বিকাশ নিয়ে। সাধারণত গুরুত্বর না হলে এই বৈরী সম্পর্ক চেপেই রাখেন যে যার মত। আবার যারা প্রকাশ করেন, তারা কেবল ক্ষুব্ধ বলেই ক্ষোভের উদগিরন করেন তা নয়। বিশেষত উদীয়মান লেখক-কবিদের জন্য প্রকাশকের সাথে মনোমালিন্যতা তাদের চিন্তাধারাকে নাড়া দেয় আক্ষেপের সাথে। সামহোয়্যার ইন ব্লগে ব্লগার রোদেলার “তর্ক করতে আসিনি ,প্রিয় প্রকাশক ; জানতে এসেছি ..” শিরোনামের পোস্টটি পড়তে পড়তে তেমনটাই মনে হচ্ছিল আমার । রোদেলার পোস্টে শব্দের পরতে পরতে অগ্নিঝরা ক্ষোভ ছিল না। ছিল কিছুটা প্রত্যাশা এবং প্রত্যাশার বিপরীতে প্রাপ্ত হতাশা।

গত বছরের বই মেলায় রোদেলার একটি কাব্যগ্রন্থ বেরিয়েছিল ফাগুন ঝরা রোদ্দুর, ভাষাচিত্র প্রকাশনী থেকে। এবারের একুশের বইমেলাতেও বই প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়ে রোদেলা লিখেছেন,

এক বছর পেরিয়ে গেছে ,কবিতার পাশাপাশি গল্প ও গান লিখেছি । আর পুনরায় স্বপ্ন দেখেছি -গল্পের বই বের করার।এবার অভয় দিলেন খন্দকার সোহেল -“আপনি একটা উপন্যাস লিখেন ,টাকা লাগবে না ;ছাপিয়ে দেব।” আমারতো আনন্দ আর ধরে না -“যে কোন ধরনের লেখা হলেই চলবে ?”প্রকাশকের গর্বিত হাসি -“আমি নতুনদের এভাবেই উৎসাহ দিয়ে থাকি।

এরপরের অংশে রোদেলা লিখেছন,

নভেম্বরের মাঝামঝি কম্পোজ করতে পাঠালাম ভাষাচিত্রে। এরমধ্যে প্রকাশকের সাথে নিয়মিত কথা হচ্ছে ,বাকী অংশ পাঠালাম ডিসেম্বরের মাঝামাঝি। প্রকাশক নিশ্চিত করলেন কম্পোজ হচ্ছে,দোকানে লোক কম তাই সময় লাগছে।

প্রকাশকের সাথে লিটারেচার গ্যাপটা বোধহয় এখান থেকেই শুরু। রোদেলার পোস্ট থেকে জানা যায়,

ওদিকে বইমেলা আরম্ভ হয়ে গেল ,একটা সময় ঠিক করে চলে গেলাম আজিজ সুপার মার্কেটে।প্রকাশকের চেহারা কি এতো সহজেই দেখা যায় ! দুই ঘন্টা অপেক্ষায় থাকার পর তার সাথে একটা ছোট্ট দোকানে ঢুকলাম ; দেখলাম একটা ২১/২২ বছরের ছেলে আমার লেখার দ্বিতীয় অংশ কম্পোজ করছে । এবার প্রুফ দেখা শুরু করলাম ,সোহেল ভাই বললেন -“এটা কি লিখছেন আপু ,এতো ছোট উপন্যাসতো হয় না।” আমিতো অবাক -“ওটাতো দুমাস আগেই পাঠিয়ে জিঞ্জেস করেছিলাম কয় ফর্মা হয় দেখতে। শেষ করা লেখা আবার শুরু করি কেমনে !!”উনি বললেন-” আচ্ছা দেখি কি করা যায়।” দুই দিনের মধ্যে প্রুফ দেখে দিলাম ,কথা হলো লেখাটা যেহেতু ছোট সেহেতু পাতার উপরের অংশ ও নিচের অংশ বাদ দিয়ে চার ফর্মায় এনে ১৫ তারিখেই প্রকাশ করা সম্ভব। আমাকে কেবল ইমেইলে প্রচ্ছদ দেখে নিতে বললেন।

পোস্টের বাকীটুকুতে দেখা যায় প্রকাশকের কাছে প্রত্যাশিত ইমেইলটি তিনি শেষ পর্যন্ত পাননি। যদি সময়মত প্রকাশক এমনকি নেতিবাচক অভিমতও জানিয়ে দিতেন, তবে ব্লগার রোদেলার পক্ষে অন্য কোন প্রকাশকের সাথে কথা বলা সম্ভব হতো।

ব্লগার রোদেলার আক্ষেপ প্রকাশিত হয়েছে পোস্টের শেষ পর্যায়ে,

মনে প্রশ্ন জাগে ঠিক কি কারনে বইটা প্রকাশ সম্ভব হয়নি লেখিকা হিসেবে এটুকু জানবার অধিকার নিশ্চই আমার আছে।এওতো হতে পারে লেখাটা একেবারেই মান সম্মত ছিল না ,পরবর্তী লেখার জন্যে ওটা জানার প্রয়োজনতো আমার আছে !

——————————————————————————————————
বিস্তারিত পোস্টঃ তর্ক করতে আসিনি ,প্রিয় প্রকাশক ; জানতে এসেছি ..