ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

আইফোনের ব্যাটারি সংরক্ষণ করুন 1) ওয়াইফাই বন্ধ করুন 2) জিপিএস বন্ধ করুন 3) পুশ মেইল বন্ধ করুন। 4) ব্লু টুথ বন্ধ করুন 5) ঔজ্জ্বল্যতা কমান। 6) অন্যন্য অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস বন্ধ করুন।

@kuilne (কুইলনে) তার টুইটার বার্তার এভাবে পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করছেন ভূমিকম্প পরবর্তী ও সুনামিকালীন সময়ে জাপানে অবস্থানরতদের। (সূত্রঃ গ্লোবাল ভয়েসেস)

গত শুক্রবার, ১১ই মার্চ ২০১১ তারিখে জাপানে স্বরণকালের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরপর প্রায় ১০ মিটার উঁচু সুনামি উপকূল ছাড়িয়ে আবাদি জমি, ঘরবাড়ি, যানবাহন ভাসিয়ে শহরের দিকে প্রবেশ করতে থাকে।

ভূমিকম্পের কারণে টোকিও’র নর্থ-ইস্ট কোস্ট এরিয়ার ইচিহারাতে একটি তেল পরিশোধনাগারে আগুনের সূত্রপাত হয়।

ভূমিকম্পের পরবর্তী সময়ের মিনিটে মিনিটে প্রতিবেদনের জন্যে এন এইচ কের সরকারী স্ট্রীম দেখুন। (তথ্য সূত্র: গ্লোবাল ভয়েসেস)

সুনামি নিয়ে প্রকাশিত কিছু টুইটার বার্তার নমুনা দেখা যাক (সূত্র: গ্লোবাল ভয়েসেস)। টাইনিস্টার৩২৩ লিখছে:

সুনামিকে খালি ঢেউ ভাবলে ভুল করবে, এটি আসলে কংক্রিটের দেয়ালের মত যা দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসে। মানুষ তার কাছে খর কুটোর মত। দয়া করে আগ্রহী হয়ে দেখতে কাছে যাবেন না।

সুনামির শিকার @এডামামকি বলছে:

আমরা সুনামির শিকার। আমরা দ্বিতীয় তলায় আছি – আমার আম্মা, ভাই এবং একজন প্রতিবেশিসহ। আমরা সুস্থ আছে, উদ্ধারের অপেক্ষায়। প্রথম তলা পানির নিচে তাই বেরোতে পারছি না। ফোনও নষ্ট।

গ্লোবাল ভয়েসেস এর ১১ তারিখের খবর থেকে জানা যায়,

বিশ্বের অন্যান্য স্থানে লোকজন আরও ক্ষতির জন্যে প্রস্তুত হচ্ছে, যেমন হাওয়াইতে উপকূল এলাকা থেকে লোক সরিয়ে নেয়া হচ্ছে এবং আরও বিশটি দেশে সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। দ্যা গার্জিয়ান এই দুর্যোগ সম্পর্কে তাজা খবর প্রকাশ করছে।

সামহোয়্যার ইন ব্লগে জাপান অবস্থানরত বাংলাদেশি ব্লগারদের বর্তমান অবস্থা জানতে ব্লগ কর্তৃপক্ষ একটি স্টিকি পোস্ট প্রদান করেছে। পোস্টে ব্লগার অনিগিরি বলেছেন,

এখন জাপানে ভোর চারটা!! এখন আবার ভুমিকম্প হলো!! আমার বাসা বইসা আমি খালি দুলছি!!! আসলেই ভয়াভহ সুন্দর অভিজ্ঞতা!!

ব্লগার তোমোদাচি বলেছেন,

এখন জাপানে ৮ টা ৩০ মিনিট। শংকার মধ্য দিয়ে রাত কাটলেও তেমন কোন সমস্যা হয়নি। অবশ্য ওসাকাতে ভুমিকম্পের প্রভাব কিছুটা কম, সুনামী ও তেমন একটা হয়নি। তারপরও গতকালের ভুমিকম্পের অনুভুতি ছিল অন্যরকম। ইউনিভার্সিটির বিশাল বিল্ডিং টা দোলনার মত দুলছিল, এবং অনেক সময় ধরে। কিছুক্ষন পর পর।…

এই পোস্ট লেখা ১২ ঘন্টার আগের একটি ফেসবুক ওয়াল পোস্টে ব্লগার মুকুট বলেছেন,

আমরা ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ। এখন সবাই after shock এর ভয়ে আছি। মূল ভূমিকম্পের পর ৮৩বার ছোট ছোট কম্পন হয়েছে।

এখন থেকে তিন ঘন্টা আগে ফেসবুক ওয়াল বার্তাতে ব্লগার মুকুট বলেছেন,

বেঁচে আছি, এখন নতুন সমস্যা, পাওয়ার প্লান্টে বিস্ফোরন হয়েছে।

২ ঘণ্টা আগের ফেসবুক ওয়াল বার্তায় তিনি সামান্য বিস্তারিত জানিয়েছেন,

আমরা ঐ পাওয়ার প্লান্ট থেকে ২৫০কিমি দূরে আছি। আমাদের এখানে পানি-গ্যাস-বিদ্যুত সবই স্বাভাবিক। এখন কর্তৃপক্ষ ঐ প্লান্টের ৩০কিমি পরিধির মানুষ সরিয়ে নিচ্ছে। একজন মানুষের এক বছরের সহনীয় মাত্রার রেডিয়েশন এখন প্রতি ঘন্টায় ঐ পরিমান রেডিয়েশন ছড়িয়ে পড়েছে প্লান্টের কাছে। জানি না, আমাদের এদিকে কি হবে। আল্লাহ ভরসা। এখন পর্যন্ত কোন বাংলাদেশীর হতাহতের খবর পাই নাই, দোয়া করবেন আমাদের জন্য।

১২ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ১১:৪৬ টার সময় ব্লগার নতুন রাজা সামহোয়্যার ইন ব্লগে মন্তব্যের ঘরে জানিয়েছেন,

ওসাকা থেকে আপডেট:
ওসাকাতে গত দুপুরে শুধু ভূমিকম্প অনূভব করেছিলাম আমরা। তবে টোকিও রিজিওনে এখনো ভূমিকম্পের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সুনামির ভয় কিছূটা কমে গিয়েছে। সুনামির সর্তকতা রিলাক্স করা হয়েছে।

তবে ভয়ের বিষয় হলো, একটা পারমানবিক বিদ্যূত কেন্দ্রে লিকেজ হয়েছে বলে রয়টার-এর ওয়েবসাইট বলছে। সেই কেন্দ্রের চারপাশের ৩ কিমি এলাকা থেকে সবাইকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আর আশেপাশের ১০ কিমি এলাকার সবাইকে ঘরের ভেতরে থাকতে বলা হয়েছে।

জাপানের ফুকুশিমা পরমাণু কেন্দ্রে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ নিয়ে বিস্তারিত জানা যাবে ডয়চে ভেলে পরিবেশিত সংবাদে।

অন্য দিকে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত স্বজন ও বন্ধুরা জাপানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিয়ে চিন্তিত। সামহোয়্যার ইন ব্লগে মাহিরাহি বলেছেন,

আমার ভাই ভাবী আর তিন ভাতিজা ভাতিজিসহ জাপানের টোকিওতে আছেন।

তারা সবাই ভাল আছেন।

দোয়া করবেন।

ফুকুশীমার নিউক্লিয়ার রিএকটরে দুর্ঘটনা খুবই চিন্তার বিষয়

উৎকণ্ঠা প্রকাশ পেয়েছে ব্লগার বহুব্রীহি ‘র মন্তব্যে ,

আমার মামা থাকেন টোকিওতে। কি অবস্থা ঐদিকে?

ব্লগার মদন বলেছেন,

মামাতো ভাই জাপানে থাকে, দুর্ঘটনার পরপরই আমাকে ফোন দিয়ে জানিয়েছিলো আল্লাহর রহমতে ভালো আছে সবাই। কর্মক্ষেত্র থেকে রওনা দিয়ে ১০ ঘন্টা সময়
ব্যায় করে ২০ কিমি. পায়ে হেটে রাত ৩ টার সময় বাসাতে যেতে পেরেছিলো।
ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।

ব্লগার অযাচিত-একজন বলেছেন,

আমার এক বন্ধু (আনোয়ার কবির) টোকিও থাকে। কোন র্খোজ পাচ্ছিনা, চিন্তিত। বাংলাদেশী ভাইদের জন্য দোয়া রইল।

ব্লগার নির্ঝরিনী বলেছেন,

জাপানবাসী এক বাংলাদেশী বন্ধুর সাথে কিছু সময় আগে কথা হলো,
গতকাল থেকে সেল্টারে ছিলো…তারা সুস্থ্য আছে তবে ছোট বাচ্চাটা খুব ভয় পেয়েছে…

টুইটারের #prayforjapan লিংকে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানা যাবে।

গ্লোবাল ভয়েসেস জাপানের ভূমিকম্প ও সুনামি নিয়ে বিশেষ আপডেট প্রকাশ করছে।

————————————-
ফিচার ছবিঃ গ্লোবাল ভয়েসেস