ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

১।

টিভি স্ক্রলিং সংবাদ শিরোনাম পড়েও ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করতে পারিনি। কিন্তু ল্যাপটপ খুলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর সংবাদ প্রতিবেদন পড়তে গিয়ে ছবি আর ভিডিও দেখে গা ‍গুলিয়ে উঠেছিল। আমি হতবাক! আমি আতঙ্কিত! স্তম্ভিত! এত রক্ত! এত রক্তাক্ত! কী কারণ? কার এত ধৃষ্টতা? এতটাই উচ্ছন্নে চলে গেছে দেশ! প্রশাসন এতটাই দায়সারা হয়ে গেছে যে দেশে হাটে-মাঠে-ঘাটে-অফিসে-বাড়িতে জীবনের নিরাপত্তা একটি দুর্লভ বস্তু হয়ে উঠছে?

ফোনে দ্রুত যোগাযোগ করে নিলাম বিডিনিউজের কয়েকজনের সাথে। তারা নিরাপদে আছে জেনে মানসিকভাবে সুস্থ-স্বস্তি বোধ হল কিছুটা। ধাতস্থ হলাম। এর মাঝে ফোনে খোঁজ নিলেন কেউ। কেউ প্রবাস থেকে ফেসবুকে বার্তা দিলেন। মনোমালিন্যের কারণে দীর্ঘ সময় কথাবার্তা বন্ধ এমন এক বন্ধুও ফেসবুকে বার্তা দিয়ে আমার খোঁজ করে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন।

এমন নারকীয় রক্তাক্ত তাণ্ডবের প্রতিবাদে ফেসবুকে-ব্লগে প্রচুর লেখা-অভিমত প্রকাশিত হচ্ছে একের পর এক। যদিও আক্রমণের হেতু বোঝা যাচ্ছে না এখনও। আপডেট সংবাদে বিডিনিউজ কার্যালয়ে র‌্যাব বাহিনী দেখা গেছে। এখানে দুশ্চিতার বিষয় হল অপরাধিদের ধৃষ্টতা দিনকে দিন বাড়ছে। কারণ তারা জানে, এ দেশে তারাই স্বাধীন, এ দেশে তাদেরই রাজত্ব। খুন-আক্রমণ মূলক কোন ঘটনারই সুরাহা হয় না এ দেশে। তদন্তের নামে যা হয় তা হচ্ছে প্রহসন! এখানে খুন-জখম নিত্য নিত্য ঘটনা। নাগরিকেরা নিরাপত্তার দাবিদের চাতকের মত মুখিয়ে থাকে প্রশাসনের দিকে, বদলে প্রশাসনের কাছ থেকে ”আশ্বাস বাণী” ছাড়া আর কিছুই মেলে না!

দায়িত্বশীলদের এই নির্লজ্জতায় নাগরিক হিসেবে মাথা হেঁট হয়ে আসে। ছুঁড়ে ফেলে দিতে ইচ্ছে করে নাগরিক পরিচয়পত্র। ভোটার আইডি কার্ড। এসবের কদর কেবল নির্বাচনের সময়েই।

এমন নগ্ন সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ জানানোর আহবান করি সকলকে। নাগরিকদের নিরাপত্তা না নিশ্চিত করে যারা নিজেরা নিরাপদ বেষ্টনীতে আবদ্ধ থাকে তাদের বুঝিয়ে দেয়া দরকার আমরা সাধারণেরা জীবন হাতে নিয়ে প্রতিদিন ঘর-বাহির-ঘর হই। চলুন, পায়ে পায়ে একযোগে হেঁটে যাই প্রশাসনের দরজার দিকে। সজোড়ে কড়া নাড়ব ওদের দোরগোড়ায়। নিরাপত্তার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি নাগরিক ঢুকে যাব প্রশাসনের নিচ্ছিদ্র বলয়ে, যেখানে তারা আরামে-আয়েশে বসে বসে দিবাস্বপ্ন দেখেন আর ভাবেন, দেশের মানুষ সুখে আছে, নিরাপদে আছে!!!

২।

হাসান বিপুল এর ফেসবুক স্ট্যাটাস শেয়ার করছি –

বিডিনিউজ-এর অফিসে সাংবাদিকদের ওপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় যে যেখান থেকে পারুন প্রতিবাদ করুন। যদি এই মুহূর্তে ঢাকায় থেকে থাকেন তবে আপনার অবস্থান থেকে এই প্রতিবাদের অন্যতম উপায় হতে পারে আহত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানো। আহত সাংবাদিকদের জরুরী চিকিৎসায় রক্তের প্রয়োজন, এই মুহূর্তে জরুরী ভিত্তিতে দরকার এ পজিটিভ (A+) এবং ও পজিটিভ (O+) গ্রুপের রক্ত। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন এই নাম্বারে- তপু: 01713389912 অথবা সরাসরি চলে যান ইউনাইটেড হাসপাতালে।

এই মুহূর্তে রক্ত দান করার মতো অবস্থায় না থাকলে অন্তত এই স্ট্যাটাসটি শেয়ার করুন আপনার ফেইসবুক-এ।

***আপডেট ১***
২৯ মে ২০১২, রাত ১:১২


‘সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশের কয়েকটি টিম নেমেছে’, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

প্রতিবেদন থেকে ঘটনা সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে পাওয়া বক্তব্য হল –

ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নতুন কার্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে অফিস সহকারী রুহুল আমিন নিচে অবস্থানকালে রাত ৯টা থেকে সোয়া ৯টার মধ্যে এক সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায়।

রুহুল আমিনের ছুরিকাঘাতের কথা শুনে কার্যালয়ে দায়িত্বরত সাংবাদিকরা নিচে গিয়ে ওই সন্ত্রাসীকে আটকে পুলিশে খবর দিলে তার সঙ্গীরা জড়ো হয়ে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।

আহতদের অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় –

ইউনাইটেড হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বায়েজিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রিফাত ও প্রীতমের দুই উরুতে দুটি করে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

“এতে বড় ধরনের ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যেক ক্ষততেই চার পাঁচটি করে সেলাই লেগেছে। তবে তারা আশঙ্কামুক্ত”, বলেন তিনি।

এছাড়া রুহুল আমীনের মাথায় আঘাত লেগেছে এবং চোয়াল ফুলে ও রক্তাক্ত হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

রুহুল আমীনের গায়েও ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে এই চিকিৎসক জানান।

***আপডেট ২***
২৯ মে ২০১২, বিকাল ৩:৫৮

সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়,

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া ও কমিউনিটি সার্ভিস) মাসুদুর রহমান জানান, হামলায় জড়িত সন্দেহে মঙ্গলবার সকালে মহাখালী এলাকা থেকে জাহিদুল ইসলাম সৌরভ (২০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


সূত্র: বিডিনিউজকর্মীদের ওপর হামলা: একজন গ্রেপ্তার