ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

আমরা অনেকেই পেট্রোল বোমায় দগ্ধদের এবং মৃতদের নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে বুক ফাটা কান্নায় ভেঙে পড়তেছি।আবার অনেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে বিশেষ করে ফেসবুক, টুইটারে কান্নার স্ট্যাটাস দিচ্ছি। নিঃসন্দেহে এটি অতি কষ্টের ও বেদনাদায়ক ব্যাপার তাই আমরা যেখানে সেখানে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছি। এটা অসাভাবিক নয়। কেউ পেট্রোল বোমায় আহত বা নিহত হোক আমরা তা কেউ চাই না।

অনেকেই দু’ ফোটা কান্নার বিনিময়য়ে নিজেকে দায়মুক্ত করতে চাচ্ছি। কেউ কেউ এই সুযোগে নিজের পাবলিসিটি করতেছি। আবার অনেকে ক্ষতিগ্রস্তদের কষ্ট দেখে কাদছি। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আজ শুধু তারাই বুঝতেছে তাদের কত কষ্ট হচ্ছে। বাকিরা বুঝতেছি ঠিক তবে এ বুঝ কতটা ফলদায়ক ভুমিকা রাখছে তা প্রশ্নবিদ্ধ। সুধু কান্না দিয়েই কি পেট্রোল বোমায় দগ্ধদের এবং মৃতদের ঋণ শোধ করা যাবে। কান্না দিয়ে হয়ত সমবেদনা জানান যেতে পারে তবে সমাধানে আসা যাবে কি না তার সংশয় থেকে যায়।

হা আমরা অনেকেই ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছি । সাহায়ের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি। এটি অনেক ফলদায়ক ও প্রশংসনীয় ভুমিকা রাখছে। তেবে পেট্রোল বোমায় দগ্ধদের এবং মৃতদের জন্য আমরা কেন শুধু কান্নার মধ্যে সীমাবদ্ধ ? আমরা কেন সাহায্য আর সহানুভূতির মধ্যে সীমাবদ্ধ? তা সাধারণ মানুষ জানতে চায়।
আর যেন একজনও দগ্ধ না হয় একজনও মারা না যায় তার কতখানি পদক্ষেপ আমরা নিতে পেরেছি? সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ না নিয়ে শুধু কেঁদে গেলে মানুষ পোড়ান বন্ধ হবে কি না তার সংশয় আছে।

আমাদের সকলের অজানা নয় কেন মানুষ পুড়ছে বা মরতেছে। শুধু এটাই অজানা যে সাধারণ জনতার কথা সত্যি সত্যি কে ভাবছে।
মানুষ পড়ানোর দায় কেউ নিচ্ছে না। এক দল আর এক দলকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দিচ্ছে। পালটাপালটি বক্তৃতার তীর সাধারণ জনতার উপরে গিয়ে পড়তেছে। সবগুলো দলেই বলছে আমরা দেশ ও মানুষকে ভালোবাসি । তাহলে এ কেমন ভালোবাসা র উপহার পেট্রোল বোমায় দগ্ধদের সজনের চোখ বেয়ে পড়ছে। সত্যিকারের দেশপ্রেম থাকলে এমনটি হবার কথা নয়।

আমরা যে কাঁদছি বা সমবেদনা জানাচ্ছি সব ঠিক আছে। তবে এখন প্রশ্ন হল আমরা সমস্যা সমাধানের সর্বচ্চ পদক্ষেপ নিচ্ছি না কেন? সর্বচ্চ পদক্ষেপ যদি সংলাপেই হয় ।তবে সংলাপ নয় কেন? সংলাপ তো জনতার জন্য। সংলাপ কারো ক্ষমতায় থাকা বা যাবার জন্য নয়।

জনতার কথা ভেবে হলেও সংলাপে বসুন। সংকট নিরসন করুন। তবে সংলাপে বসলেই যে কারো অন্যায় আবদার মেনে নিতে হবে তা নয়। সব দল মত সংলাপে বসুন। কে কি বলে সবাই শুনুন তারপর যেটা জনতার জন্য কল্যাণকর হয় তাই করুন। তবু কেউ যেন সংলাপের অজুহাতে মানুষ পোড়াতে না পারে সেটা নিশ্চিত করুন। শুধু কান্না নয় সমস্যা সমাধান করুন।