ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

আমরা দেশের সাধারন মানুষ , অনেক কিছু চাইলেও তা করতে পারি না। সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় ঘটানো আমাদের জন্য কষ্টকর। মনে হয় দেশের জন্য কিছু করতে, মানুষের জন্য কিছু করতে। অসহায় মানুষ দেখলে বুকের ভেতরটা কেমন হু হু করে উঠে । হাত বাড়াতে ইচ্ছে করে । হয়ত কখনও পাশে দাঁড়াতে পারি, কখনও পারিনা। পত্র পত্রিকা, টেলিভিশন অথবা অন্য কোন গণমাধ্যমে যখন অসহায় মানুষদের জন্য সাহায্যের আবেদন শুনি , দেখি তখন আমি কিংবা আমার মত অনেকেই সাড়া দিতে চান । কিন্তু ঠিকানা হিসেবে ব্যাংক হিসাব নম্বর দেয়া থাকে,ফলে আমাদের মত স্বল্প সামর্থ্যবান মানুষগণ ব্যাংকে গিয়ে টাকা পাঠানোর ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হন।

অনেক সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা ব্যাঙ্কে গিয়ে টাকা পাঠানো ঝামেলা মনে করেন। অনেক ক্ষেত্রে টাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেও কাজের ব্যস্ততায় তা ভুলে যান। এই টাকাটা যদি mobile এ sms এর মাধ্যমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতো তবে আমাদের সকলের পক্ষে টাকা প্রদান করা সহজ হত । sms এর মাধ্যমে আমরা টাকার পরিমান লিখে যদি phone oparetorer দেয়া নং এ পাঠিয়ে দেই, যা আমাদের mobile balance থেকে কেটে নেয়া হবে ,তাহলে আমাদের জন্য সুবিধা হবে। ব্যক্তি বিশেষের জন্য হলে প্রয়োজনে তার নাম উল্লেখ করে পাশে টাকার পরিমান লিখে sms পাঠাতে পারি । হোক না সেটা দশ টাকা থেকে শুরু। আমার মত সল্প সামর্থ্য বান লোকের সংখ্যা কেবলও কম নয় । বিন্দু বিন্দুতেই তো সিন্ধু হয়।

আমার মনে হয় সকলেই আমার সাথে একমত হবেন। আমরা ইতিপূর্বে লটারিসহ অন্য কিছু কিনতে দেখেছি । সাহায্য পাঠানোর এ রকম ব্যবস্থা থাকলে আমরা মোবাইলে ব্যলান্সের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারি । আমি মনে করি এতে টাকা সংগ্রহের পরিমান অনেক বেড়ে যাবে । যা আমাদের চ্যলেঞ্জ মোকাবিলায় কাজে লাগাতে পারব। আমরা প্রতিদিন মোবাইল ফোনে অনেক কথা বলি। মোবাইল কোম্পানির বিভিন্ন অফার দিলে তো কথাই নেই । কিন্তু যখন আমাদেরকে এই সুযোগ করে দেয়া হবে ,তখন আমরা ব্যলান্সের কিছুটা অংশ পাঠাতে পারি । আমার মনে হয় এই কাজটা আমরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে করব এবং উদ্যোগী হব । এতে ভাল কাজের অভ্যাসটা রপ্ত হবে । মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না এমন মানুষের সংখ্যা কম। আজকাল মানুষ একাধিক নম্বর ও ব্যবহার করে। নিম্নবিত্তদের কিছু অংশ মোবাইল ব্যবহার করে। আমি রিকশাওয়ালা, ভ্যানওয়ালাকে মোবাইল ব্যবহার করতে দেখেছি। আমি এমনও রিকশাওয়ালাকে জানি, যারা তাদের রোজগারের ছোট একটা অংশ ভাল কাজের জন্য দান করে। এসএমএস পদ্ধতি চালু হলে এইসব স্বল্প সামর্থ্যবান লোকের জন্য দেশের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ উন্মুক্ত হবে । আমাদের অনেক ছোট ভাই বোন আছে যারা পড়াশুনা করে, আয় রোজগার করে না । তাই তারা ইচ্ছে করলেও এরকম মহৎ কাজের সাথে টাকা আদান প্রদানের মাধ্যমে জড়িত হতে পারে না। কারন কোন হিসাব নম্বরে টাকা পাঠানোর মত অঙ্ক তারা একসাথে করতে পারে না । কিন্তু তারা তাদের পকেট খরচ বাঁচিয়ে সামান্য টাকা দিয়ে ভাল কাজে অংশ গ্রহন করতে চায় । এসএমএস পদ্ধতি চালু হলে আমরা তাদের পাশে পাব। এতে করে অল্প বয়স থেকে তারা ভাল কাজের চর্চা করতে পারবে, এবং সামাজিক দায়িত্ব বোধ সৃষ্টি হবে । একটি ভাল কাজ আরেকটি ভাল কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে । সময়ের অভাবে অনেক সময় ব্যঙ্কে যাওয়া হয় না, কিংবা ব্যাঙ্কে লাইনে দাড়িয়ে থাকাটা অনেক সময় ঝামেলা হয়ে যায়। সে জন্য অনেকে আগ্রহ দেখান না। এসএমএস পদ্ধতি এ ক্ষেত্রে ভুমিকা রাখতে পারে। আসলে এসএমএস পদ্ধতি দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে এর আওতাভুক্ত করতে পারে। এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা বিশাল রূপ নিতে পারে । সুতরাং টাকা সংগ্রহের জন্য এসএমএস পদ্ধতির বিকল্প নেই । তাই এর বাস্তবায়ন জরুরি । আমার মনে হয় আপনারা সবাই এর সাথে একমত পোষণ করবেন ।

মাননীয় মডারেটর মহোদয়ের কাছে আমার আকুল আবেদন , আপনি মোবাইল কোম্পানির সাথে আলোচনা করে এর সুযোগ করে দিন। তাহলে আমরা দেশবাসী সহজেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারব । এ উদ্যোগ নিয়ে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোঁটানোর সুযোগ করে দিন । মানুষ ই তো মানুষের জন্য ।

লিয়া সরকার ।