ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

আজ প্রথম আলোতে ভারত থেকে গড়িয়ে পড়ছে গরু ! শিরোনামে লিখাটা পড়ে ভীষণ কষ্ট লাগছে । খুব মায়া লাগছে অবলা গরুর জন্য । কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে টাকা এবং সময় বাঁচাতে গিয়ে সিলেটের পাদুয়া সীমান্তে কুলুমছড়া , সোনার হাট , মনাইকান্দি ও বিছন কান্দিতে প্রায় ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় চূড়া থেকে ঢালু পথে গরু ছেড়ে দেওয়া হয় । নামতে গিয়ে এগুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ে , এতে কিছু গরু জখম হয় , কিছু গরু আর দাঁড়াতে পর্যন্ত পারে না । মারাত্মক জখম হলে সেগুলো জবাই করা হয় । এভাবে গরু নামানোটা কতটা মানবিক ,অমানবিক সে প্রশ্নে সিলেট ৫ বিজিবির অধিনায়ক লে কর্নেল শফিউল আজম বলেন – এটা আসলে গরু কারবারিদের একান্ত নিজস্ব বিষয় । তাদের গরু তারা অক্ষত অবস্থায় আনলেন নাকি আনলেন না , তা আমাদের দেখার নয় । আমরা শুধু গরু বৈধ ভাবে আসছে কিনা , তা নজরদারি করি । হায়রে মানুষ , মানবতা এখানে গুমরে কাঁদে । জীবে প্রেম করে যে জন , সে জন সেবিছে ঈশ্বর এই প্রবাদটা মনে হয় ভুলে গেছে । আজব বুদ্ধি মানুষ গুলোর । কালে কালে কত কি যে দেখব । গড়িয়ে আনা গরুর তদারকি করেন বিজিবির সদস্য । এ ব্যপারে প্রশাসনের কোন মা্থা ব্যথা নেই । অবশ্য তাদের এখন টাকা গুনতে গুনতে হাত ব্যথা করছে ।

ইসলাম সহ সব ধর্মেই জীবের প্রতি সদয় হওয়ার কথা বলা হয়েছে । হিন্দু ধর্মে তো গরুকে দেবতা বলে পূজা করে , তাহলে এই দুদেশের বানিজ্যে গরুর প্রতি এত নির্মম আচরণ কেন ? যে গরুকে আল্লাহর ওয়াস্তে কোরবানি দেব তার প্রতি এতটা নির্দয় হওয়া কি ঠিক হচ্ছে ? ভারতের মধ্যপ্রদেশে গরু জবাই করার শাস্তি কঠোর করা হয়েছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যটিতে গরু জবাই করলে এখন থেকে সাত বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মধ্যপ্রদেশ সরকারের একজন মুখপাত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, গরু জবাইয়ের পাশাপাশি গরুর গোশত সংরক্ষণ ও বিক্রি করলেও একই শাস্তি পেতে হবে। তাহলে এসব কি এবং কেন হচ্ছে ? এটা কি কোন অপরাধ নয় ? আশা করি ভারত এ ব্যাপারটা দেখবে । আশ্চর্য হলেও সত্য মাত্র ৫০০ টাকা ও সময় বাচাতে গিয়ে এই ভয়ানক ব্যপারটি ঘটছে । পশু জবাই দেয়ার নির্মমতার কথা ইতিপূর্বেই আমরা জেনে গেছি ।

Western world এ পশু জবাইএ Captive bolt pistol(CPB ) নামের এক ধরনের যন্ত্র দ্বারা পশুর কপালে প্রচন্ড আঘাত করা হয়। ধারনা করা হয় এতে পশু unconscious হয়ে পড়ে এবং জবাইয়ের পর ব্যথা অনুভব করে না। Brain এর surface কে touch করে পশুর মাথার খুলির বিভিন্ন জায়গায় surgically কিছু electrode ঢুকিয়ে দেয়া হয়। পশুকে এরপর সুস্থ হওয়ার জন্য কিছু সময় দেয়া হয়। তারপর পশুগুলোকে জবাই করা হয়। হাদিসে আছে “আল্লাহ সবাইকে দয়া করার হুকুম দেন । তাই যখন জবাই কর তখন দয়া কর । জবাই করার পূর্বে ছুরিতে ধার দিয়ে নাও যাতে পশুর কষ্ট কম হয়” । এতদ সত্ত্বেও আমরা কেন যে দিনে দিনে এত পৈচাশিক আচরণ করছি । আমরা গরু পুষি আর প্রতিদানে গরু আমাদের দুধ , মাংস , চামড়া আরও কত কি দেয় । গোবরটা পর্যন্ত আমাদের নানাবিধ কাজে লাগে । আর এই দুধ , মাংস খেয়ে খেয়ে সেই গরুর প্রতি এত বড় বেঈমানি ! প্রতিদান ভালই দিচ্ছি ।

আমার মনে হয় গরু আমাদের অভিশাপ দিচ্ছে । যারা এই কাজ করছেন তাদের বলতে চাই, গরু শুধু আমাদের দুধ দেয় না গুঁতোও দিতেও জানে । এদিকে গরুর হাট ভারতীয় গরুতে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে । কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বৈধ ও অবৈধ পথে প্রচুর পরিমানে ভারতীয় গরু আসার কারনে দেশী গরুর দাম কম। অথচ বছরের এই সময়টির জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে খামারে দেশী গরু তুলে লালন পালন করেন আমাদের খামারিরা । ভারতীয় গরুর বেশী আমদানিতে দেশী গরুর দাম কম হওয়ায় স্থানীয় খামারিরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে গরুর হাটে জাল নোটের ছড়াছড়ি ।যদি কোন গরু বিক্রেতা বাড়ি গিয়ে দেখেন গরু বিক্রয়ের অধিকাংশ নোট জাল। তাহলে তার অবস্থাটা কেমন হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না । গরুর হাটে জাল টাকা সনাক্ত করতে মেশিন সরবরাহ কতটা পর্যাপ্ত আমার জানা নেই । একই সাথে চলছে চাঁদাবাজি । অন্তত কোরবানির পবিত্রতার তাগিদে এই সব আচরণ বন্ধ করা উচিত । কোরবানিকে ঘিরে এসব নির্মমতা বন্ধের জন্য সরকারের আশু সুদৃষ্টি কামনা করছি । অবশ্য সীমান্তে অসংখ্য ফেলানির মৃত্যুতে সরকারের কিছু যায় আসে নি , এটা তো গরু প্রসঙ্গ , জন্তু জানোয়ার ।
গরু যদি কথা বলতে পারত , তাহলে এই মুহূর্তে বলত –
তুই জানোয়ার , তোরা জানোয়ার । লিয়া সরকার ।