ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আজ বিকেলে রেস্টুরেন্টে বসে কফি খাচ্ছিলাম । বিকেল বেলা , তাই মানুষজনের কমতি নেই । কফির গরম পোড়া স্বাদ নিতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম আমার সামনের টেবিলে বসা এক যুগলকে । ছেলে মেয়ে দুটোকেই টিনেজ দেখাচ্ছে । ছেলেটা মেয়েটার মুখে তুলে খাইয়ে দিচ্ছে আর অন্য হাতে মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তুলছে । মেয়েটি দারুন সব পোজ দিচ্ছে । বসার ভঙ্গিটা একটু আপত্তিজনক । আমার কাছে এ ব্যপারটা দৃষ্টিকটু লাগছিল । কিন্তু কিছুই করার নাই, তাদের ইচ্ছা তারা ছবি তুলবে, ভিডিও করবে, কিংবা মোবাইল ভাঙ্গবে, আমি অধমের বলার কোন হক নেই । শুধু ঠোঁট বাকিয়ে হাসলাম মনে মনে বললাম , খুব তো ভালবাসা দেখাচ্ছিস , দুদিন পর এই ছবিগুলোই যে তোর কাল হবে না এর কি ভরসা আছে? যে ছেলে আজ মজা করে খাওয়াচ্ছে, সেই ছেলের জন্যই যে কাল বিষ খেতে চাইবে না, কি গ্যারান্টি আছে ?

প্রেম হয়ত শাশ্বত। প্রেমে পড়া দোষের কিছু না। যদিও অধিকাংশ প্রেমের নাম মোহ দিলেই ভাল হবে । প্রেমের বন্যা মনকে ছাড়িয়ে শরীরের দিকে ধাবিত হলেই যত বিপত্তি । এইসব মোহ কত যে ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, ষড়ভুজের জন্ম দেয় তার ইয়ত্তা নেই। তাদের জন্য গল্প উপন্যাসে , গানে, ছবিতে আশকারার তো অভাব নেই –

সংকীর্ণ মনের যারা, তারাই তো ভালবাসে একবার

যার মন যত বড়, দেখে ভাল অবিরত, তারাইতো ভালবাসে বার বার ।

ছেলেটি প্রেমে ব্যর্থতার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসিড নিক্ষেপ, খুন, ছবি ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া, ব্ল্যাকমেইল ইত্যাদি অপরাধে জড়িয়ে পড়ে । আর মেয়ের এবং তার পরিবারে নেমে আসে দুর্ভোগ । আজকালকার ছেলে মেয়েরা অনেক সাহসী হয়ে গেছে । অনেকে প্রেমের কিংবা বন্ধুত্তের নামে অনেক কিছুই হালাল করে নেয় । যার জের তাকে টানতেই হয় । অনেক সময় বিয়ে পরবর্তী জীবনেও পূর্ব প্রেমের এইসব ছবি ,ফুটেজ কিংবা অন্য কোন কথার আঁচে সংসার ভেঙ্গে যায় । এ রকম নজীরের অভাব নেই ।

প্রেম হলো আমাদের মনের একধরনের রাসায়নিক অবস্থা, যা সময়ের সাথে সাথে প্রগাঢ় হয়ে উঠে। তাই নিজেকে সংযত রাখলে অনেক অনাকাঙ্খিত বিপদ এড়ানো সম্ভব। আমি মনে করি এ ব্যাপারে পরিবারের একটা বড় ভূমিকা আছে। ভাল ও মন্দ কাজের পার্থক্য সুফল, কুফল ,সুন্দর জীবন ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা নিয়ে যদি একটি সন্তান বড় হয় তবে এই সন্তান কালের গড্ডালিকা প্রবাহে এতটা ভেসে যায় না ।

যে প্রসঙ্গে মূলত লিখা –

প্রেমে ব্যর্থতার কারণে, কিংবা ব্ল্যাক মেলের উদ্দেশ্যে প্রেমের কারনে এসিড নিক্ষেপ, ধর্ষণ, আপত্তিকর ছবি, ভিডিও ইন্টারনেটে প্রচার, খুনসহ নানাবিধ ঘটনার সাথে আমরা ভালই পরিচিত হয়ে গেছি। এসব অপরাধীর কৌশলও আমরা কম বেশি জেনে গেছি, তারপরও কেন আমরা জেনে শুনে এই পথে পা বাড়াচ্ছি ।

কেন আমরা মেয়েরা একটি ছেলের সাথে এত অন্তরঙ্গ সময় কাটাচ্ছি ? কেন আপত্তিকর কথা আলোচনা করছি ? যুগল ছবিতে কেন সময়ের ফ্রেমকে কুলসিত করছি? কেন আঁতকে উঠছিনা এই ভেবে, একটু ভুল এসব নোংরা ভিডিওর জন্ম দিতে পারে ? আর এসব ঘটনা আমার জীবনকে অসহনীয় করে তুলতে পারে ।

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ শ্রেয়। তাই আমাদের সবটুকু সচেতন হতে হবে । ভুল করেও ভুল করা যাবে না। প্রত্যেকের নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে মা, বাবা, ভাই, বোন, আত্মীয়, সমাজের এমনকি দেশের সম্পর্ক। মানুষ কখনো নিজের ভুলের দায়ভার একা বহন করে না। তাই জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে কিছুটা ভাবা প্রয়োজন । আমাদের একটু সচেতনতা আমাদের জীবনকে ধ্বংসের গ্রাস থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে । আসুন নিজেকে ভালোবাসি । আমি যদি ভাল থাকি তবেই আমি অন্যকে ভাল রাখার চেষ্টা করতে পারব ।

* লিয়া সরকার