ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

ব্লগার রাজিব হায়দারকে নির্মম ভাবে খুন করে জামায়াত-শিবির কি বোঝাতে চাচ্ছে ? কোন পথে হাঁটছে জামায়াত-শিবির? কি অপরাধ রাজিবের, আমাদের মত অসংখ্য রাজিবের ? সরকার কি এসব আন্দোলনের মজা নিচ্ছে? আমি জানি না এ বিচার নমুনার সাথে সরকারের কোন ইন্ধন আছে কিনা? যেখানে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশ হয়েছে, সেখানে কাদের মোল্লার মত বর্বর শকুন হায়েনার যাবতজীবন কারাদণ্ড হয় কিভাবে! এটা আসলে আমাদেরকে নির্মম পরিহাস করা ছাড়া আর কিছু নয়। রাজিবকে হত্যা করা অন্যান্য ব্লগারদের ফোনে হুমকি প্রদান , এগুলো কিসের আলামত? এসব নমুনা দেখিয়ে জামায়াত শিবির নিজের কবরটা সযত্নে খুড়ছে । আর সেটা তারা ভাল করে বুঝতে পারছে। সেজন্যই তাদের এত মরণ কামড় ।

সারা দেশ থেকে যখন সব বয়সের মানুষ যখন দলে দলে গণজাগরণ মঞ্চে যোগ দিচ্ছে তখন ক্যামব্রিয়ান স্কুলের ছাত্ররা সমাবেশে যোগ দিতে চাইলে কেন তাদের বেদম মারদর করা হয়? কেন তাদের বলা হয় শাহাবাগ যাওয়ার খায়েশ মিটিয়ে দেয়া হবে? একজনকে ইতি্মধেই টিসি দেওয়া হয়ে গেছে। অন্যদের ও টিসি দিয়ে বহিষ্কারের হুমকি দেয়া হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের অস্বাভাবিক আচরন নিশ্চয় সকলের কাছে স্পষ্ট ।

জামাত শিবিরের এসব হিংস্র আচরনের মহড়া এখনই স্তব্ধ না করা হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে। সরকারের উচিত এ ব্যাপারে এখনই পদক্ষেপ নেয়া। সর্বশেষ বুধবার ঢাকা –চট্টগ্রামে তাণ্ডব চালিয়েছিল জামাত শিবিরের নেতাকর্মীরা । এতে দেখা যাচ্ছে , প্রতি মুহূর্তে তারা তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মহড়া দিচ্ছে । সরকারের উচিত এখনই তার সমুচিত জবাব দেয়া এবং আমরা ওদের গুটি কয়েকের হাতে নিজেদের জিম্মি না করে ওদের ডাকা হরতালের দিনেও নিজেদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া ।

ব্লগার রাজিবের মৃত্যুতে মুক্তিযোদ্ধা বাবার কাছে জাতি লজ্জিত। যে বাবা জীবন বাজি রেখে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে, সে বাবার সন্তানকে রাজাকারের শাস্তির দাবির আন্দোলনে রাজাকারের হাতেই মরতে হল। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজীব হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছেন। পূর্বেও আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বেলায় এরকম আশ্বাস পেয়ে আমরা অভ্যস্ত। তাই আমরা জানতে চাচ্ছি, আসলে এই দ্রুত কত দ্রুত?

মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি, তিনি যেন রাজীবের পরিবারের দায়িত্ব নেন। ব্লগার রাজীবের এই করুন মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি । আর কোন রাজীবকে হারানোর ব্যাথায় যেন আমাদের কাঁদতে না হয়, সেজন্য প্রত্যেকে নিজেদের অবস্থান থেকে সোচ্চার হতে হবে , এবং আমাদের জামায়াত শিবিরের সন্ত্রাসী রাজনীতি নির্মূলের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে । এখনই সময় রুখে দাঁড়াবার ।

লিয়া সরকার

১৬-০২-২০১৩