ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

প্রতিদিনের মত আজও খবরের কাগজ পড়ছিলাম। সকালে ফেসবুক মারফত জানতে পারলাম কলকাতায় প্রতিমা ভাংচুর হয়েছে। সাবাস !! বাঘের বাচ্চা!! হিন্দুর দেশে হিন্দুদের প্রতিমা ভাঙ্গলাম, একদিন না একদিন ইসলাম এই দুনিয়াই কায়েম হবেই ইনশাল্লাহ্‌ !! এসব ভেবে মনটা এমনিতেই তেঁতো ছিল। কি হচ্ছে এসব ইসলাম কে নিয়ে, ইসলামের নামে?? এই সব ইসলাম বেপারিরা তো ছেয়ে গেছে দুনিয়াতে। জানিনা এতে ইসলামের মান কতটা বাড়ছে তবে মানবতার যে অবক্ষয় হচ্ছে তা তে কোন সন্দেহ নেয়।

যে কথা বলছিলাম, সেই তেঁতো মনে সকালে খবরের কাগজ পড়তে বসলাম, অপেক্ষায় ছিলাম আবার কোন মন্দির ভাঙল তার খবর জানার জন্যে। খুব বেশী অপেক্ষা করতে হোল না। পেয়ে গেলাম সেই সংবাদ। http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-10-26/news/300958

পেয়ে গেলাম আরও একজন ধর্ম প্রান সাচ্চা মুসলমান আদম আলী কে। তথাকথিত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চিরায়ত রুপ আবার প্রকাশ করলেন তিনি একজন হিন্দুর জমি দখল করে মসজিদ নির্মাণ করতে গিয়ে। কি ন্যক্কার জনক ভাবে জমি দখলের জন্যে আবার ধর্মকে বিক্রি করলেন এই আরেকজন ধর্ম প্রান মানব। যে ভাবে রামু তে বিক্রি করেছিলেন আমার এই সব সাচ্চা মুসলমান ভাইয়েরা। যে ভাবে করেছিল চট্টগ্রামের হাট হাজারীতে। এর আগের ঘটনা গুলো উল্ল্যেখ নাই বা করলাম।

একটি ব্লগে হিন্দুদের দুর্গা পুজা উপলক্ষ্যে দুর্গা প্রতিমার ছবি দেয়া হয়েছিল। হতবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম আমার সাচ্চা মুসলমান ভাইদের সে কি যন্ত্রণা! ভদ্র ভাষায় মোডারেটর দের গুষ্টি উদ্ধার করা কিছু পোস্ট ও পড়লাম। এই যন্ত্রণা কিসের বা কেন তা আজও বুঝে উঠলাম না। যে ভাবে বুঝে উঠতে পারলাম কেন, কিভাবে ধর্মকে বিকৃত করার অধিকার এই সহি মুসলমানরা পেল?

হাট হাজারীতে ৫০ টাকার বিনিময়ে মসজিদ এর দেয়াল ভাঙ্গা হয়েছিল দাঙ্গা শুরুর জন্যে। আল্লাহ্‌র ঘর ভাঙ্গার মত নাজায়েজ কাজ কে করলো?? আমার সাচ্চা মুসলমান ভাইয়েরা। মসজিদ ভাঙ্গা সুন্নত, ইসলামে বলা আছে কিনা জানি না অথচ এই আদম আলীরা ইসলামের জন্যে, সাচ্চা মুসলমান ভাইদের অধিকারের জন্যে সবই করতে পারে ইসলামের নামে।

রামুর ঘটনার সুত্রপাত করলো একটি ছবির মাধ্যমে। কোরান কে অবমাননাকর এই ছবি তৈরি করলো কে?? আমাদেরই এক সাচ্চা মুসলমান ভাই। একজন মুসলমান হয়ে কোরান কে অপমান করার কল্পনাও কি করে এদের মাথায় আসে ভেবে পাইনা। অথচ এরাই ধর্মের, ইসলামের ধ্বজা উড়িয়ে বেড়ায়। আর ‘সব শিয়ালের এক রা’ এর মত কিছু বক ধর্মী হাক্কা হুয়া করতে করতে এদের পেছন পেছন ছুটে ইসলাম কে বিক্রি করে, ইসলামের নামে লুটপাট করতে, অন্য নারীদের ধর্ষণ করতে। সবই ইসলামের নামে।

ভিকারুন্নেসা নুন এ যখন ছাত্রী ধর্ষিত হোল তখন ও এই আদম আলী রা ধর্মকে নিয়ে বেসাতি শুরু করে দিলো। সেই কুলাঙ্গার শিক্ষক হিন্দু বলেই নয় সমস্থ শিক্ষক কুলের মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে তার কৃত কর্মের জন্যে। কিন্তু এই আদম আলীরা একবার ও ভাবল না সেই কোমল মতি মেয়েটির কথা যে কিনা আমাদেরই কারো ছোট বোন অথবা মেয়ে। অথচ অদ্ভুত ভাবে এই আদম আলীরা নিশ্চুপ থাকে যখন পূর্ণিমারা ধর্ষিত হয়। নিশ্চুপ থাকে যখন মাদ্রাসাতে আমাদেরই ৭ বছরের শিশু কন্যা ধর্ষিত হয় কারন সেই শিক্ষক তো আরও ‘সহি’ আরও ‘সাচ্চা’ !! আবার সেই ইসলামের নামে।
এই পবিত্র ধর্মকে আরও কতবার অপবিত্র হতে হবে বিশ্বজোড়া এই আদম আলীদের হাতে??

সবাইকে পবিত্র ঈদ-ঊল-আযহার শুভেচ্ছা।