ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বিগত মঙ্গলবার ৩০শে অক্টোবর ২০১২, মোঃ আনোয়ারুল আজীম এই ব্লগে ‘মোবাইলের পালস কার স্বার্থে?‘ শীর্ষক একটি ব্লগ লিখেছিলেন। সেই ব্লগে আমি মন্তব্যও দিয়েছিলাম। আজ সেই মন্তব্যটিই ব্লগ আকারে লিখলাম।

মোবইল অপারেটরদের নানা আপত্তি সত্ত্বেও সরকার সম্প্রতি কলড্রপ-এর কারণে গ্রাহকদের অর্থ অপচয় রোধের জন্য ১০ সেকেন্ড পালস্ চালু করতে বাধ্য করেছে। কিন্তু সরকার পালস্ চালু করতে বাধ্য করলেও মোবাইল কোম্পানীগুলো এ সুযোগে কলরেট ৫০% বাড়িয়ে দিয়েছে। যেমন আমার সংযোগ থেকে আমি ল্যান্ডফোনসহ যে কোন মোবাইলে ভ্যাটসহ ৭৮ পয়সা প্রতি মিনিটে কথা বলতে পারতাম যা বর্তমান বেড়ে দাড়িয়েছে ১ টাকা ১৭ পয়সা অর্থাৎ প্রতি মিনিটে ৩৯ পয়সা (৫০%) বেশী দিতে হচ্ছে। ফলে কলড্রপ রোধের মাধ্যমে অর্থ অপচয় রোধের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য হিত বিপরীত হয়েছে। তাছাড়া প্রথম দিকে প্রায়ই কলড্রপ হলেও বর্তমানে কলড্রপ প্রায় হয়না বললেই চলে। তাই গ্রাহক স্বার্থ রার নামে বিটিআরটি কার স্বার্থ রা করতে চাচ্ছে তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

প্রতি নিয়ত যে হারে এই মোবাইল অপারেটররা আমাদের ধোঁকা দিয়ে কৌশলে লুটপাট করছে তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু আমরা এই সাধারন জনগনের তো আর কোন উপায় নাই কার কাছেই বা আমরা জানাবো আমাদের কথা, কেই বা শুনবে আমাদের কথা, চেপে ধরবে এই সমস্থ মুনাফা লোভীদের টুঁটি।

জনাব নাসিমরা, এদের লাইসেন্স দেবার বিনিময়ে কোটি কোটি টাকা আয় করে ঘাড়ে গর্দানে এক হয়ে গেল। কি করে তাঁরা এদের আপনার আমার সমস্যার জন্যে প্রশ্ন করবেন?
বিটিআরসি’তে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর সময়ে গ্রামীন ফোন ৬০০ কোটি টাকা জরিমানা দিয়েছে অবৈধ ভয়েস ব্যবসার দায়ে। অন্য অপারেটররাও দিয়েছে। বিটিআরসি, একি জনবল ও প্রযুক্তি দিয়ে যদি বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর সময়ে এই পরিমান রাজস্ব আয় করতে পারে তবে সেই একি বিটিআরসি বিগত রাজনৈতিক সরকার গুলোর সময়ে কেন তা করতে পারল না? কার স্বার্থে পারল না?

এবার বিটিআরসি প্রসঙ্গে আসি। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর সময়কার বিটিআরসি-র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঞ্জুরুল আলম বি টি আর সি-র এই সমস্ত আয় থেকে প্রতি জন কর্মচারীকে বিশেষ প্রণোদনা দেন। যেকোনো কারনে সরকারও তা মেনে নেয়। এখন প্রশ্ন হোল সরকারের অন্যান্য বিভাগও কি তবে এই কাজ করতে পারে? ধরুন শুল্ক বিভাগ তার আয়কৃত শুল্ক জাতীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে তা প্রণোদনা ঘোষণা করতে পারবে কি? তাহলে আপনি আমিও শুল্ক না দিয়ে শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রণোদনা দেয়না কেন? তাহলে জাতীয় রাজস্ব আয় কি করে হবে??

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর সময়কার বি টি আর সি যে হারে ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তির লাইসেন্স (২১৫ কোটি টাকা হারে) দিয়েছে তা কি আদৌ যুক্তি যুক্ত?? এই লাইসেন্সের টাকার উৎস কি আপনার আমার মত জনগণই হবে না? ওয়াইম্যাক্স সেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলো এই টাকা সেই তো আপনার আমার কাছ থেকেই উপার্জন করে নেবে। লাইসেন্সের কোথাও কি সর্বোচ্চ সেবা হারের কথা উল্ল্যেখ করে জনগনের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে? সেই কিন্তু সাধারন জনগনই ধর্ষিত হচ্ছে।

আইসিটি ক্ষেত্র থেকে প্রতিনিয়ত ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ এর দাম কমিয়ে তা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগালে নেয়ার জন্যে সরকারকে চাপ দেয়া হচ্ছে। ধীরে হলেও সরকার এই পথে এগিয়ে চলেছে কিন্তু প্রশ্ন হোল, সাবমেরিন ক্যাবল এ যুক্ত হবার পর থেকে এই পর্যন্ত সরকার যত বার এবং যত হারে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ এর দাম কমিয়েছে তার ন্যূনতম সুবিধাও কি মোবাইল ব্যান্ডউইথ ব্যবহারকারীরা পেয়েছে? এছাড়া আইজিএক্স, আই সি এক্স বা আইজিডাবলু’র লাইসেন্স কারসাজি না হয় আর উল্লেখ্য করলামই না। কিছুটা এই কারনেই ভয়েস লাইসেন্স উন্মুক্ত হয় হয় করেও সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। সে বিষয়ে পরে বিশদ আলোচনা করবো। কি করে আশা করেন এহেন বিটিআরসি আপনার আমার স্বার্থ রক্ষা করবে?

আর মিডিয়া? আপনার আমার বিষয়ে তাঁরা মোটেও চিন্তিত নয় কারন বিজ্ঞাপনের নামে তারাও কিন্তু মোবাইল অপারেটরদের হাতে জিম্মি। তবুও স্বপ্ন দেখি তাই আশা করছি বিটিআরসি তথা টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে এবং অবিলম্বে কলরেট কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। স্বপ্ন দেখি এই দেশটা একদিন সত্যিই সোনার দেশ হবে।