ক্যাটেগরিঃ জানা-অজানা

 

অফিসে দুপুরে খাবার এর সময়। দুই সহকর্মীনি নিজেদের ভেতর গল্প করছিলেন। যথারীতি গল্পের বিষয় ‘গহনা’। কেও যেন কাওকে হীরার আংটি দিয়েছে এন্‌গেজমেন্টে…… ইত্যাদি ইত্যাদি। এরই মাঝে আরেক সহকর্মী এসে ফোড়ন কাটলো এই বলে যে, সে তাঁর এন্‌গেজমেন্টে সবচাইতে দামী, প্লাটিনাম ধাতু তে তৈরি আংটি দিয়েছিলো তাঁর হবু বউ কে! ব্যস্‌ আর যাই কোথায়। শুরু হয়ে গেলো বাক্‌ বিতন্ডা। এরি মাঝে উভয়পক্ষের মধ্যে ‘বেট’ হোল যে পক্ষ হারবে পরদিন সবাইকে সেইই দুপুরে খাওয়াবে। দুর্ভাগ্যবশতঃ উভয় পক্ষ আমাকে সাক্ষী মানা শুরু করে দিলো। আমিতো ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থায়। কিছুই জানি না মাঝখান থেকে কি সাক্ষী দেই? তাই উভয় পক্ষেই সায় দেয়া শুরু করলাম। সুন্দরী সহকর্মীনি তাঁর ততোধিক সুন্দর চোখ জোড়া মেলে একটু আবেগী ঢঙ্গেই কিছুটা ‘তোলা’ গলায় কথাবলে আমাকে মানসিক চাপ দিচ্ছিলো যেন আমার রায় তাঁর দিকেই যায়। হাজার হোক পুরুষ মানুষ, সুন্দরীদের ‘না’ বলতে পারি না। তাই বলে সত্যকে তো মিথ্যা বলতে পারি না। কি করি? তাঁদের বাক্‌ বিতন্ডার পুরো রিপ্লে আবার শুনতে শুরু করলাম। শুনানোর ফাঁকে সেই সুন্দরী সহকর্মীনি আমার পাতে তাঁর রান্না করা (??) কলার মোচার তরকারি আর পোস্ত বড়া দিয়ে শাক দু চামচ উঠিয়ে দিলো (একে তো সুন্দরী তাঁর উপর এত ভালবাসা, আপনারাই বলুন ‘না’ কি করে করি!!)। পুরুষ সহকর্মী ও পেছনে থাকে কেন, তাঁর মুরগির ঝালের বাটিটা এগিয়ে দিলো, সেই সাথে মনে করিয়ে দিলো, এটা তাঁর স্ত্রীর হাতের রান্না। যা বাবা, আমারতো পোয়া বাড়ো। সে যাই হোক, বাক্‌ বিতন্ডার সারমর্ম যা শুনলাম তা হোল, প্লাটিনাম দামী তা আমার সহকর্মীনি রা মানতে রাজী কিন্তু সবচাইতে দামী এটাতেই তাঁদের আপত্তি।

সেদিন তাঁদের যে তথ্য দিয়েছিলাম, আজ এখানে তা তুলে ধরলাম। আসলেই কিন্তু বিশ্বের মুল্যবান বস্তুর তালিকা ভীষণ রকম হাস্যকর। মজার বিষয় হোল, সোনার স্থান কিন্তু প্রথম ১০টি মহামুল্যবান বস্তুর তালিকাতেই নেই।

বিশ্বের প্রথম ১০টি মহামুল্যবান বস্তুর নামের তালিকা দিলাম, সাথে করে তাদের ছবি ও গ্রাম প্রতি মূল্য ও দিয়ে দিলাম। মিলিয়ে নিন

১) সবচাইতে দামী বস্তুর নাম ‘এন্টিমেটার’ যার প্রতি গ্রামের মূল্য ৬২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। টাকার হিসেবে কত, সহজেই অনুমেয়।

২) তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছে ‘ক্যেলিফরনিয়াম ২৫২’ যার প্রতি গ্রামের মূল্য ২৭ মিলিয়ন ডলার। টাকার হিসেবে কত, তাও সহজেই অনুমেয়।

৩) তালিকার তৃতীয় স্থানে আছে ‘হীরা’ যার প্রতি গ্রামের মূল্য ৫৫,০০০ ডলার। টাকার হিসেবে আনুমানিক ৪৪,০০,০০০ টাকা।

৪) এই স্থানে আছে ‘ট্রাইটিয়াম’ যার প্রতি গ্রামের মূল্য ৩০,০০০ ডলার।

৫) ৫ম স্থানে আছে ‘টাফায়েট’ যার প্রতি গ্রামের মূল্য ২০,০০০ ডলার বা ক্যরেট প্রতি ৪,০০০ ডলার।

৬) ৬ষ্ঠ অবস্থানে আছে ‘পাইনাইট’ যার প্রতি গ্রামের মূল্য ৯,০০০ ডলার বা ক্যরেট প্রতি ১৮০০ ডলার।

৭) ৭ম অবস্থানে আছে ‘প্লুটোনিয়াম’ যার প্রতি গ্রামের মূল্য ৪০০০ ডলার।

৮) ৮ম স্থানে আছে ‘এল এস ডি’ যার প্রতি গ্রামের মূল্য ৩০০০ ডলার।

৯) ৯ম তম মুল্যবান বস্তুটির নাম হোলো ‘কোকেইন’। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। এর প্রতি গ্রামের মূল্য ২১৫ ডলার।

১০) তালিকায় সর্বশেষে আছে ‘হেরোইন’। হা হা হা হা হা বিশ্বাস হচ্ছে না তো!! সত্যিই তাই। এর প্রতি গ্রামের মূল্য ১৩০ ডলার।

আরও একটি তথ্য জানিয়ে রাখি। সোনার অবস্থান কিন্তু তালিকার ১৫শ স্থানে। এবার ভেবে দেখুন প্রিয় মানুষটির কাছ থেকে উপহার হিসেবে কি পেলে সুবিধা হয়……………হা হা হা! আরো বলি গণ্ডারের শিঙের দাম কিন্তু সোনার চাইতেও বেশী। অতএব এরপর সোনার আংটির বদলে গণ্ডারের শিঙের নেকলেস হলে মন্দ কি!!