ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

ভারতের সুতারকান্দি ল্যান্ডপোর্ট দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশে ২৫০ থেকে ৩০০ ভারতীয় ট্রাক কয়লা নামক বিষ আসছে যা পরিবেশের জন্য  মারাত্মক ক্ষতিকর। কয়লা দেখতে কালো হলেও সব কয়লা এক না। কয়লার গুনাগুণের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে প্রমাণিত হয়েছে যে বাংলাদেশেই রয়েছে সবচাইতে ভালো মানের কয়লা। কয়লার গুনগত মান প্রধানত নির্ভর করে কয়লার তাপ উৎপাদন ক্ষমতা ও কয়লাতে কি পরিমাণ ক্ষতিকর গ্যাস সালফার বিদ্যমান তার উপর । বাংলাদেশে প্রাপ্ত বিটুমিনাস কয়লা তাপ উৎপাদন ক্ষমতা যেখানে ১২০০২ বিটিইউ সেখানে ভারতীয় কয়লার তাপ উৎপাদন ক্ষমতা মাত্র ৭৩১২ বিটিইউ, ভারতীয় কয়লা আমাদের পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, কারণ এর সালফারের পরিমাণ। আমাদের দেশীয় কয়লাতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সালফারের পরিমাণ যেখানে মাত্র ০.৬৭±০.০৪ সেখানে ভারতীয় কয়লাতে সালফারের পরিমাণ ৪.৩৪±১.৩০।আমাদের দেশীয় কয়লা যেখানে ভারত, অস্ত্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে উৎকৃষ্ট মানের তবে কেন বিদেশী কয়লা?

নিচে ছকে আমাদের দেশীয় কয়লার সাথে অন্যান্য দেশের কয়লার গুনগত পার্থক্য তুলে ধরা হলঃ

CP

CV – তাপ উৎপাদন ক্ষমতা

S – সালফারের পরিমাণ

M – আদ্রতা

FC – কার্বনের পরিমান

কয়লা জ্বালানোর সময় অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে সালফাইড অক্সাইড এ পরিণত হয় যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং এসিড বৃষ্টির কারণ! এমনিতেই ভারত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এই নিম্ন মানের কয়লার ব্যবহার করে, ফলে আকাশে জমে থাকা সালফাইড অক্সাইড বাষ্পের সাথে মিশে তৈরি করে সালফিউরিক এসিড। এই এসিড আকাশে মেঘের সাথে ভেসে বৃষ্টি হয়ে বাংলাদেশে পতিত হয় । তারুপর আবার ভারতীয় এই বিষ কয়লা আমাদের ইট ভাটা গুলিতে পোড়ানো শুরু হলে মাটির উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস, নদী ও জলাশয়ের জীব বিচিত্র নষ্ট হবে। বাতাসে মিশ্রিত সালফাইড অক্সাইড নিঃশ্বাসে সাথে গ্রহণে মারাত্মক শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করবে।

বাংলাদেশেই আছে উৎকৃষ্ট মানের কয়লা যা পরিবেশের খতি কমিয়ে দিতে পারে জ্বালানী নিরাপত্তা। আমাদের নিম্ন মানের কয়লা বা গাছ পোড়ানোর চেয়ে ভালো অপশান আছে যা বাস্তবায়ন করতে আমাদেরকেই তাগিদ দিতে হবে।সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের উচিত বেশী দামে উচ্চমাত্রায় সালফারযুক্ত ভারতীয় নিম্ন মানের কয়লা আমদানি বন্ধ করা। আমাদের যে উৎকৃষ্ট মানের কয়লা রয়েছে তা ফেলে না রেখে উৎপাদন ও ব্যবহার পরিবেশ বান্ধব উপায়ে নিশ্চিত কারা যাতে করে নিশ্চিত হবে জ্বালানী নিরাপত্তা।

 

শাকিল মাহতাব

চায়না ইউনিভার্সিটি অব মাইনিং এন্ড টেকনোলজি, শুজু, চায়না