ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

আমেরিকা থেকে ফিরে জেনেভা ক্যাম্পের ভেতর গলির মুখে একটি বন্ধ দোকানের সামনে আমি

আমি ঢাকার বিহারী ক্যাম্পের মেয়ে। এই ক্যাম্পেই জন্মেছি। বড় হয়েছি। আল্লাহর অসীম রহমতে লেখাপড়া শিখেছি। কয়েকলাখে একটা বিরল ঘটনার মত উচ্চ শিক্ষা পেয়েছি। আমেরিকা, কানাডা যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। আমি ঢাকার ট্রাজেডি বিহারীদের দুঃকের কথা আপনাদের শোনাবো। আপনারা চোখের পানি ধরে রাখতে পারবেন না। আমি মনে প্রানে বাংলাদেশী। পাকিস্তান কি জিনিষ জানি না। চিনি না। কখনও যাইনি সেখানে। যেতে চাই না। আমি মনেপ্রানে বাংলাদেশের সম্মানিত নাগরিক। ভোটার। সরকারকে ধন্যবাদ তারা আমাদের নাগরিক করে অসম্মান ও পরিচয়হীনতা থেকে বাচিয়েছেন।

ভারতের উত্তর প্রদেশে আমার চাচার বাড়িঘর

আমরা এসেছিলাম ভারত থেকে। এখনও আমাদের পূর্ব পুরুষ চাচা ফুফু মামা খালা ভারতে আছেন। তাদের সাথে যোগাযোগও হয়। যাদের সঙ্গতি আছে-আমরা ভারতে গিয়ে তাদের সাথে দেখা বেড়ানো করেছি। অনেকের বিয়ে শাদী হচ্ছে ভারতে। উত্তর প্রদেশে। লখনৌতে। বিহারে । তারা খুব ভাল আছে। যারা ভারতে থেকে গছেন পার্টিশনের সময়_তারা সুখেই আছেন। ঘর বাড়ি আছে। তারা ভারতের সম্মানিত নাগরিক।

আমার আরেক ফুপুর সুরম্য প্রাসাদ


তবে আদর ক্ষেত্রে কেন এমন হল। কেন আমরা গরু ছাগলের চেয়ে খারাপ অবস্থায় ৪০/৪৫ বছর ধরে বেচে আছি। আমাদের দোষ কি! আমরা তো পাকিস্তানের দালালি করি নাই। রাজাকারি করি নাই। আমাদের বাপদাদার ভুলের মাশুল আমরা শতাব্দী ধরে কেন দেব। কেন ৭ ফুট বাই ৮ ফুট রুমে ৮-১২ জন পশুর মত থাকবো।

মাঝে মাঝে ইচ্ছা হয় আমি যদি জেনেভা ক্যাম্পের মালালা হতে পারতাম। তার মত লড়াই চালিয়ে অন্ধকার দুর করতে পারতাম। আমেরিকা গেছি। কানাডা গেছি। অতি সৌভাগ্যবতী হিসেবে বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ হয়েছে। বিদেশে বসে উন্নত জীবন উপভোগ কালে কেবলি চোখের পানি ফেলেছি।

বিদেশেও জীবন। জেনেভা ক্যাম্পেও জীবন। নাকি পৃথিবী নামক গ্রহের নরক!! মালালা আমার চোখ খুলে দিয়েছে। তাই ঢাকায় থাকি বা আমেরিকায় থাকি ঠিক করেছি আমি আপনাদের আমাদের জীবনের কথা শোনাবো। আপনাদের সাথে শেয়ার করলে আপনারাও বুঝতে পারবেন। আমরাও মানুষ।
জেনেভা ক্যাম্প মানেই নরক। জাহান্নুম। কিছু ইবলিসের প্ররোচনঅয় এই জীবন্ত জাহান্নুম ঢাকার বুকে টিকে আছে। ওরা জাহান্নুমকে বেচে আমাদের দোজখী দুঃখ কষ্টকে বেচে নিজেরা পাকিস্তানে বাড়ি করেছে। সংসার করেছে। মোজাহের হয়েছে। আর আমরা নরকেই রয়ে গেছি।
আর এই নরকে এখন মদ গাজা চরস মেয়ে মানুষের ব্যাবসা চলছে। এখানে নারীর কোন সম্মান নেই। ইজ্জত নেই। নারী এখানে গাভীর মত প্রনী। তার কাজ শুধু সন্তান জন্ম দেয়া। এখানে কি কি অসম্মানজনক অবস্থায় নারী পুরুষ মিলিত হয়_ তা কেবল এই নরকের বাসিন্দা আমিই জানি। ভাষায় বলতে পারবো না। আপনারা কল্পনা করে নিতে পারেন।