ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

অনেক ছোটবেলা থেকেই খুব প্রিয় ছিল ” আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি” এই জাতীয় সংগীতটি । স্কুলে যখন এ গান গাওয়া হতো তখন মনপ্রাণ ভরে গাইতাম আর মনে মনে ভাবতাম আমিও বড় হয়ে একজন দেশপ্রেমিক হবো আমার এ সোনার বাংলাকে এ আকাশ বাতাসকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার কাজে শ্রেষ্ঠ ব্রত নিবো । তার মানে আমি জানতাম আমাকে রাজনীতিবিদ হতে হবে তা না হলে আমি দেশপ্রেমিক কোনভাবেই হতে পারবো না ।

জেনেছি, যারা রাজনীতিবিদ তারাই দেশপ্রেমিক । দেশপ্রেমিক হতে হলে স্বার্থপরতাকে অতল সাগরে জলাঞ্জলি দিয়ে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ভালবাসতে হবে, দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য জীবন দান করে মহৎ লোক হতে হবে । নিজের যা আছে তা দিয়ে দেশের গরীব দুঃখী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে । নিজেকে নিয়ে ভাবার সময় পায়না তারা অন্যের সেবা করতে করতে জীবন পাড় হয় কত মহৎ তারা! দেশের জন্য যারা জীবন দান করে নিজেকে নিঃস্ব করে মানব সেবার তরে নিজেকে উৎসর্গ করে তাদের জন্ম স্বার্থক ।

ছোট বেলা থেকেই রাজনীতি মানেই নৌকা, রাজনীতি মানেই ধানের শীষ আর রাজনীতি মানেই লাঙ্গল তাই জানি এ ছাড়া অন্য কোন মানে আছে কিনা আমার মনে নেই । রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত কে নেতা বা তার মহানুভবতা কেমন তা বিচার বিবেচনায় ছিলনা তখন, আমার স্পষ্ট মনে আছে । আমার নিজের মা-বাবাকে বরতে শুনতাম এই মার্কায় ভোট দিতে হবে । কে এ মার্কার নেতা, তার ব্যক্তিত্ব কেমন, তার মন মানসিকতা কেমন তা জানার কোন প্রয়োজন নেই । অন্ধভাবে মার্কা দেখেই তার বেলট বাক্সে ভোট প্রদান এটাই মুখ্য বিষয়, এখনো খুব পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয়না । কে কোন দল করে বা কোন মার্কার রাজনীতি করে সেটা মুখ্য বিষয় ।

সে যেই দলের নেতা হোক না কেন রাজনীতিবিদ মানেই দেশপ্রেমিক, তার মধ্যে স্বার্থপরতা নেই, দুর্নীতি নেই, মিথ্যা কথা বলেনা, দয়ালু মানে সর্বগুণে গুনান্বিত তাই জানতাম কিন্তু যতই বুঝতে চেষ্টা করলাম ততই সব কিছুই যেন বিপরীত মনে হতে থাকে । একটু বুঝার চেষ্টা করার সাথে সাথে কেমন যেন ভুল বুঝার প্রবণতা বেশী করে গাঢ় হতে থাকে । আলাপে আড্ডায়, মিডিয়ার বদৌলতে, খবরে, বিভিন্ন লেখায় জানতে পারলাম আমি যেভাবে জানি আসলে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তার কোন মিল নেই ।

রাজনীতি করতে হলে নাকি নিজের স্বার্থকেই বড় করে দেখতে হয় প্রথমে তানা হলে রাজনীতিতে টিকে তাকা যায়না । খুন খারাবী, গুন্ডামি, দুঃসাহস আর মামলা মোকদ্দমার জন্য ভয় থাকলে তার নাকি রাজনীতি করা হয়না । অন্যায় অত্যাচারে নিজের নাম লেখাতে পারলে তবেই রাজনীতিবিদ হতে পারবে এর আগে নয় । মানুয়ের কথা এবং নিজের জানার মধ্যে বিশ্লেষণ করে তার র্পাথক্য খুঁজলে বুঝা যায় আসলে অনকে বড় ফাক রয়েছে বুঝা এবং জানার মধ্যে ।

বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার বা নেতার বর্ননা করা যায় এভাবেঃ
১) বাংলাদেশের জনসাধারন রাজনীতি মানেই মনে করে, নৌকা, ধানের শীষ বা লাঙ্গল এর বাইরে কোন রাজনৈতিক দল আছে কি নাই তা চিন্তা করে দেখেনা ।
২) রাজনীতিতে নাম না লেখালে তাকে দেশপ্রেমিক বলা যায় কিনা সন্দেহ আছে ।
৩) রাজনীতিতে থাকতে হলে তাকে মানবিক মূল্যবোধে গুনান্বিত হলে চলবে না কারণ তা হলে রাজনীতিতে স্থান পাবেনা ।
৪) রাজনীতিবিদরা যা বলবে তাই সাধারন জনগনের মানতে হবে তারা শুধু নির্দেশ দিবে কারো কোন পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন তাদের নেই ।
৫) সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী রাজনীতিবিদরা জনসাধারনের কোন ক্ষমতা নেই ।
৬) ঘুষ না নিলে, টাকার পাহাড় বানাতে না পারলে, মিথ্যা কথা বলতে না পারলে, মামলার সংখ্যা বাড়াতে না পারলে এবং জেলে না থাকলে সেই রাজনীতিবিদদের কোন মূল্য নেই ।
৭) কথার সাথে কাজের কোন মিল থাকবেনা যদি থাকে তাহলে রাজনীতি করার যোগ্যতা তার নেই ।

সুতরাং আমার মত সাধারন নাগরিকগন যতদূর সম্ভব রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে । সচেতন নাগরিক সমাজ সবাই জানে এমন রাজনীতিবিদদের থেকে দেশকে মুক্ত করতে পারলে এ দেশ উন্নয়নের দ্বার প্রান্তে সহজেই পৌঁছতে পারবে । অনুভব করছে সবাই কিন্তু কৌশল বের করতে পারছেনা কিভাবে মুক্ত করা যায় ।

স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও সোনার বাংলাদেশ কোন্ অবস্থানে আছে তা সবাই অনুভব করতে পারছে কিন্তু নিরূপায় হয়ে আছে । ধনী দরিদ্রের ব্যবধান দিন দিন বেড়েই চলেছে । দিন দিন অরাজকতা, জীবনের অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে । অথচ এমন অবস্থায় যাদের মাথা ব্যাথা হওয়ার কথা তাদের কোন ব্যথা নেই । মিথ্যাচার করাই যেন একমাত্র কাজ ।

রাজনীতিবিদদের দেখে মনে হয় দেশ ও দেশের জনগন রসাতলে যাক তাতে তার কি? তার জন্য বড় কথা হলো নিজে কত ব্যংক ব্যালেন্স বাড়াতে পেরেছে কত বাড়ী গাড়ী করতে পেরেছে কত প্রতিষ্ঠান রাস্তাঘাটে নিজের নামে করতে পেরেছে এটাই বড় বিষয় ।

বিবেক বিবর্জিত রাজনীতিকে মনে প্রাণে ঘৃনা করি । ভাঙা নৌকা নিয়ে মানুষ যেন আর পাড় না হোক দেশের জীবন নদী, ম্রাা পোকায় বিষাক্ত ধানের শীষ ধবংস হোক নতুন চারা রোপিত হোক, মরিচা ধরা লাঙ্গল ফেলে পাওয়ার টিলার এর উদয় হোক । সকল রাজনীতিবিদদের বিবেককে জাগ্রত করুক স্বয়ং ঈশ্বর তার যাদুকরী হাত দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি আর তরুন সমাজ, প্রকৃত দেশপ্রেমিকদের নতুন পথের ঠিকানার সন্ধান দিক এ কামনা করি ।

———————————————————————————-